খুঁজুন
                               
, ,
           

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পে-স্কেলের অনিশ্চয়তায় ভাইরাল ৮০’র দশকের গান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলের অনিশ্চয়তায় ভাইরাল ৮০’র দশকের গান

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘তুমি আমার জীবন’। রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া গানটির ‘কেউ জানে না’ অংশটি বর্তমান পে-স্কেল পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে মজার ছলে শেয়ার করছেন নেটিজেনরা।

‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমায় ব্যবহৃত গানটিতে জাফর ইকবাল ও ববিতা অভিনয় করেছিলেন। পুরোনো গানটির মাত্র ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরেই নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

পে-স্কেল কবে ঘোষণা হবে, কবে বাস্তবায়ন হবে- এ নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য সময়সীমার খবর প্রকাশ হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে ‘কবে হবে, কেউ জানে না’- এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে গানের কথার মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।

এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, পে-স্কেল নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন খবর এলেও চূড়ান্ত খবর কবে আসবে, সেটিই কেউ জানে না। আরেকজনের মন্তব্য, চলমান অনিশ্চয়তার সঙ্গে গানের কথাগুলো যেন একেবারেই মিলে গেছে।

এদিকে ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা এবং মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমার এই জনপ্রিয় গানটি কয়েক দশক পর ভিন্ন এক বাস্তবতায় এসে আবারও আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

২৫ লাখ টাকার প্রোডাকশন ফান্ড, স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাতাদের জন্য দারুণ সুযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
২৫ লাখ টাকার প্রোডাকশন ফান্ড, স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাতাদের জন্য দারুণ সুযোগ

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ অ্যাডভার্টাইজিং ফিল্মমেকার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাডফা)। নতুন পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে মোট ২৫ লাখ টাকা প্রোডাকশন ফান্ড দেবে সংগঠনটি।

অ্যাসেন কমিউনিকেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অ্যাডফা শর্ট ফেস্ট-সিজন-১’ আয়োজন করছে অ্যাডফা। ‘দিস ইজ ইউর শট’ ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উদ্যোগে নির্বাচিত হবে পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য দেওয়া হবে নির্ধারিত প্রোডাকশন ফান্ড। পাশাপাশি নির্বাচিত নির্মাতারা পাবেন অ্যাডফার মেন্টরশিপ ও ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যাডফার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কমিউনিটির নির্মাতাদের মৌলিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা। তাঁর মতে, নতুন গল্প ও প্রতিভার অভাব নেই, প্রয়োজন শুধু সুযোগ ও সহযোগিতা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডফা কমিউনিটির যোগ্য নির্মাতারা এককভাবে অথবা দলগতভাবে একটি করে প্রকল্প জমা দিতে পারবেন। প্রস্তাবিত চলচ্চিত্র অবশ্যই ফিকশন হতে হবে এবং দৈর্ঘ্য হতে হবে ৫ থেকে ১৫ মিনিট।

গল্পের ভাষা নিয়ে থাকছে না কোনো বাধ্যবাধকতা। বাংলা, ইংরেজি কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো আঞ্চলিক ভাষায় প্রকল্প জমা দেওয়া যাবে। একইভাবে গল্পের ঘরানার ক্ষেত্রেও থাকছে না কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা।

আবেদনের জন্য একটি পিডিএফ ফাইলে জমা দিতে হবে- চলচ্চিত্রের শিরোনাম, সর্বোচ্চ ৫০ শব্দের লগলাইন, ১ হাজার শব্দের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গল্প বা সিনপসিস, সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের ডিরেক্টরস নোট, জনর ও সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য, আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য

এর পাশাপাশি চাইলে ভিজ্যুয়াল রেফারেন্স ও নির্মাতার আগের কাজের লিংকও যুক্ত করা যাবে।

প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে গল্পের মৌলিকতা, নির্মাতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, গল্প বলার শক্তি, সিনেমাটিক সম্ভাবনা এবং নির্ধারিত বাজেট ও সময়ের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নির্বাচিত পাঁচ নির্মাতা শুধু অর্থসহায়তাই পাবেন না, মেন্টরশিপ ও ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাবেন। ফলে নতুন নির্মাতাদের জন্য নিজেদের গল্প ও নির্মাণশৈলী তুলে ধরার এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।

আবেদনের শেষ সময়: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা, ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা, ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ যে চমক দেখিয়েছে, তার প্রভাব এবার দেখা যাচ্ছে ম্যাকাইয়েও। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপুটে জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের আগ্রহও বেড়ে গেছে।

আগামী শনিবার ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ম্যাচের প্রথম দিনের সাধারণ শ্রেণির সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার। প্রায় ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়াকে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া টেস্ট নিয়ে বাড়তে থাকা আগ্রহের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডারউনে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে ম্যাকাই টেস্টে জিততেই হবে অস্ট্রেলিয়াকে। ফলে ম্যাচটি ঘিরে স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রথম দিনের টিকিট শেষ হলেও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের টিকিট এখনো পাওয়া যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের সাময়িকী ‘দ্য ইন্ডিয়ান সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনের টিকিটও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। প্রথম দিনের সাধারণ আসনের পাশাপাশি ওই দিনের করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজও বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার পর দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে দেশটির ক্রিকেট মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ম্যাকাই টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহও বেড়েছে। ডারউইনে চার দিনজুড়ে দারুণ ক্রিকেট খেলে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন সাফল্য পেয়েছে নাজমুল হোসেনের দল। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা দাপট দেখিয়েছেন।

এখন তাই ম্যাকাই টেস্ট শুধু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ নয়, দুই দলের জন্যই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য সিরিজে সমতা ফেরানো, আর বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের।

কালের আলো/এসএ