খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রত্যাবাসনেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান দেখছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
প্রত্যাবাসনেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান দেখছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকটকে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সময়ের সঙ্গে এর চরিত্র বদলে এখন তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সংকট মোকাবিলায় মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিরাপত্তা, কূটনীতি ও সীমান্ত প্রতিরোধ সক্ষমতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের সামনে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক ঝুঁকির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।

মানবিক সংকট থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রোহিঙ্গা সংকটকে আর বিচ্ছিন্ন মানবিক ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী পরিস্থিতি, ক্যাম্পে অপরাধ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, মাদক পাচার এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতা মিলিয়ে সংকটটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান এবং ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের ঘিরে দুই হাজারের বেশি মামলা হওয়ার তথ্যও সংকটের সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাগত মাত্রাকে সামনে নিয়ে আসে। অর্থাৎ, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা শুধু রোহিঙ্গাদের জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

রাখাইনে নতুন বাস্তবতা, বাড়ছে সীমান্তঝুঁকি
সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, রাখাইনের বড় অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে বাংলাদেশকে শুধু মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের হিসাব করলেই হবে না; সীমান্তের ওপারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরাকান আর্মির অবস্থান নিয়ে তাঁর উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর অর্থ হলো, প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হলেও নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং প্রত্যাবর্তন-পরবর্তী পরিস্থিতির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৯৭৮ এবং নব্বইয়ের দশকের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—ধৈর্য, ধারাবাহিকতা ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদি ফল দিতে পারে। এখানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানবিক আবেদনকে কার্যকর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করা। জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনকে সম্পৃক্ত রাখার কৌশল সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু ঢাকা ও নেপিডোর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং বড় শক্তিগুলোর স্বার্থও জড়িয়ে আছে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ছয় কৌশল
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ছয়টি কৌশলগত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করা, চীন-ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে পৃথক যোগাযোগ, ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি এবং আসিয়ান ও ওআইসিকে সম্পৃক্ত করে আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলা। এই ছয়টি পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এখন কেবল প্রত্যাবাসনকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যাবাসনযোগ্য ৩ লাখ ৮ হাজার রোহিঙ্গা—কতটা বাস্তব অগ্রগতি?
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ আগস্টের ঘোষণায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার মূল্যায়ন, এই উদ্যোগ প্রকৃত প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির চেয়ে আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের অবস্থান শক্ত করার কৌশলও হতে পারে। এই সন্দেহের কারণও রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রত্যাবাসন নিয়ে ঘোষণা ও বাস্তব প্রত্যাবাসনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে এবার শুধু তালিকা যাচাই বা কূটনৈতিক ঘোষণা নয়, বাস্তবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিই হবে মূল পরীক্ষা।

সামনে বাংলাদেশের জন্য কঠিন সমীকরণ
রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এর সমাধান বাংলাদেশের একক সক্ষমতার মধ্যে নেই। বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে, মানবিক সহায়তা দিচ্ছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে; কিন্তু সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। তাই একদিকে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের দরজা খোলা রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক পদক্ষেপ যেন মানবিক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল না করে এবং মানবিক কার্যক্রম যেন জাতীয় নিরাপত্তার বাস্তবতাকে উপেক্ষা না করে—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

টেকসই সমাধানের কেন্দ্রে প্রত্যাবাসন
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের সারকথা হলো, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকাল শরণার্থী অবস্থান নয়; বরং নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। তবে সেই প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারেন।

এখন বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বিমুখী দায়িত্ব—একদিকে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে এই দুই দায়িত্বকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা যায় তার ওপর।

রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘ হবে, এর নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক মাত্রাও তত গভীর হবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কার্যকর কূটনৈতিক চাপে রূপ দেওয়া, সীমান্ত ও ক্যাম্প নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করা। এ পথ দীর্ঘ ও কঠিন হলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে এর কোনো বিকল্প নেই।

কালের আলো/এমএএএমকে

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ সুযোগ তৈরিসহ আন্তঃদেশীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’ প্রণয়ন করছে সংস্থাটি। একই নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যেই ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা করা হচ্ছে। এর আওতায় বাংলাদেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম দেশের বাইরে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সহযোগিতাও চান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।’

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখাকে মূল ক্যাম্পাসের মতোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

দেশের উচ্চশিক্ষায় ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিগগির পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

সাক্ষাতে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি চান তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ জানান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ ও টিউশন ফি ওয়েভারের প্রস্তাবও দেয় ইউসিএসআই। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও ইউজিসির সহযোগিতা চায় প্রতিনিধিদলটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির বিদেশি স্কলারশিপ কার্যক্রমের সঙ্গে ইউসিএসআইকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের টিউশন ফি ওয়েভারের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেয়। এ সময় ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিসি বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল বারী মজুমদার এবং শাখা ক্যাম্পাসটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুশাইরি বিন মোহাম্মদ রাজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ