খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি

আব্দুল হামিদ/ইব্রাহিম মিঠু, কালের আলো:

মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জরুরির সরকারের সময়ে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাজীবন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান। কারাগারেও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়াণ সম্পাদক। নিজের জেল জীবনের স্মৃতি, খালেদা জিয়ার কষ্ট, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে অজানা একটি তথ্য। তারেক রহমান যে ওয়ার্ডে ও বিছানায় ছিলেন একই ওয়ার্ডে ও বিছানায় থাকতেন তিনিও।

জেলখানার ভেতর থাকা আরেকটি জেলখানার কথা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘সেটা কিন্তু সুরক্ষিত নাম ‘চম্পাকলি’। এগুলো আপনারা ভবিষ্যতে জেনে নেবেন উনার (তারেক রহমান) মুখ থেকেই। একটা কথা বলতে চাই, যখন আমাকে শেষ পর্যন্ত একটা ডিভিশন দেয়া হলো, তখন আমাকে সরিয়ে নিয়ে দেয়া হলো মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি, এটি তারেক রহমান সাহেবের হয়তো মনে আছে। ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি বেড নাম্বার থ্রি কেন ওই বেডে তিনি ছিলেন, আমাকে যখন নেয়া হলো পুলিশ বলল, তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। সরকার যাই বলে বলুক। জেলখানার মধ্যে আমরাই রাজত্ব করি। আমরাই শাসন করি। এই বেডে আমরা কাউকে শুতে দেই না। সাধারণ লোকরা এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে। এটা খুব ইম্পর্টেন্ট।’

বিএনপির নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের (কৃষক, ড্রাইভার, গৃহকর্মী) জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এরপর পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে হবে। যাতে তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে। সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।’ সম্প্রতি এক সমীক্ষার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এই আগ্রহকে ভোটে রূপান্তর করতে হবে।’

শফিক রেহমান তার বক্তব্য শুরু করেন প্রিয় গানের কলি দিয়ে, ‘যারা স্বর্গত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়েও প্রিয় জন্মভূমি…।’ তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে ছয় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন, কিন্তু আজ তার মা বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। শফিক রেহমান বলেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জোর করে তাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন যাতে তার (শফিক রেহমান) জেল জীবন সহনীয় হয়। তিনি তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন, ‘উনি নিজেই জানেন না কতটা জনপ্রিয় তিনি। আমি জেলে থাকার সময় সাধারণ বন্দি ও পুলিশ সদস্যরা তার খোঁজ নিতেন। বিশেষ করে মেডিকাল ওয়ার্ড-৩, বেড-৩ তারেকের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পুলিশরা বলেছিলেন, ‘সরকার যাই বলুক, জেলে আমরাই রাজত্ব করি, এই বেডে কাউকে শুতে দেই না।’

খালেদা জিয়ার জেল জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শফিক রেহমান। নেলসন ম্যান্ডেলার ২৭ বছর জেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেল জীবনে ম্যান্ডেলার জন্য ইট ভাঙার কষ্ট সবচেয়ে খারাপ ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য স্বজনদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা আরো কঠিন ছিল। প্রথম দুই বছর কোনো চিকিৎসা পাননি। তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো বা পরিবারের সদস্যরা জেলবন্দি হওয়ার ভয়ে খাদো জিয়াকে দেখতে আসতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘আমার বয়স কেন আমি বলি জানেন। বলতে পারেন যে হাসিনা রোগে আক্রান্ত হয়েছি আমি। এই কারণে বয়স আমোকে অনেক কিছু কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত, আমি সেটা বলবো না। এখানে অতীতের কথা কিছু টেনে আনা হয়েছে এবং সে কাজটি করেছেন আমি যার সহবন্দী হবার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেই মাহমুদুর রহমান। তিনি জেলখানায় জোর করে আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক। জেলে এবং এখন বাইরেও। তাকে ধন্যবাদ যে, তিনি আমার জেল জীবনটা অনেকটা সহনীয় করার চেষ্টা করেছিলেন। এখানে আরেকটা কথা বলতে চাই জেল জীবনটা কত খারাপ। এটা আপনারা যারা জেলে যাননি তারা বুঝবেন না। এখানে দুজন আছেন, তারা বুঝবেন। আমি ওনার (মাহমুদুর রহমান) রুমেই ছিলাম। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পর। আমি সেসব বর্ণনা দিয়ে আজকে আপনাদের এই সুন্দর পরিবেশটা বিষণ্ন করতে চাই না। আমি শুধু তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে, তিনি কী। সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন ‘নো দাই সেলফ’।

আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি বুঝতে পারি ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম ক্লাসে নো দাই সেলফ। এটা এত বড় মূল্যবান কথা যে এটা জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার। তার নামাজে জানাজাতে অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল। তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জানাজা। তিনি যখন মহাপ্রয়াণ হলেন তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা। এটা বুঝতে হবে। তারেক রহমান জানেন না, তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম, তখন জেল বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো, সবচেয়ে বড় কথা পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করত, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করত, জানেন উনি (তারেক রহমান) কেমন আছেন। উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন। আর আমি আপনাদের এখানে আছি।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ‘ফোরশক’ বা পূর্বকম্প এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল কম্পন বা ‘মেইনশক’।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি কর্মীরা। স্বজনেরা আটকা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধার করা কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামলাম, দৃশ্যটা ছিল একটি ভৌতিক সিনেমার মতো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশুসন্তানকে নিয়ে এবং অন্য প্রতিবেশীরা নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু আমি শুধু একটি পরিবারকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছি।’

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।’

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন