খুঁজুন
                               
, ,
           

মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি

আব্দুল হামিদ/ইব্রাহিম মিঠু, কালের আলো:

মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জরুরির সরকারের সময়ে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাজীবন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান। কারাগারেও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়াণ সম্পাদক। নিজের জেল জীবনের স্মৃতি, খালেদা জিয়ার কষ্ট, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে অজানা একটি তথ্য। তারেক রহমান যে ওয়ার্ডে ও বিছানায় ছিলেন একই ওয়ার্ডে ও বিছানায় থাকতেন তিনিও।

জেলখানার ভেতর থাকা আরেকটি জেলখানার কথা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘সেটা কিন্তু সুরক্ষিত নাম ‘চম্পাকলি’। এগুলো আপনারা ভবিষ্যতে জেনে নেবেন উনার (তারেক রহমান) মুখ থেকেই। একটা কথা বলতে চাই, যখন আমাকে শেষ পর্যন্ত একটা ডিভিশন দেয়া হলো, তখন আমাকে সরিয়ে নিয়ে দেয়া হলো মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি, এটি তারেক রহমান সাহেবের হয়তো মনে আছে। ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি বেড নাম্বার থ্রি কেন ওই বেডে তিনি ছিলেন, আমাকে যখন নেয়া হলো পুলিশ বলল, তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। সরকার যাই বলে বলুক। জেলখানার মধ্যে আমরাই রাজত্ব করি। আমরাই শাসন করি। এই বেডে আমরা কাউকে শুতে দেই না। সাধারণ লোকরা এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে। এটা খুব ইম্পর্টেন্ট।’

বিএনপির নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের (কৃষক, ড্রাইভার, গৃহকর্মী) জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এরপর পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে হবে। যাতে তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে। সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।’ সম্প্রতি এক সমীক্ষার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এই আগ্রহকে ভোটে রূপান্তর করতে হবে।’

শফিক রেহমান তার বক্তব্য শুরু করেন প্রিয় গানের কলি দিয়ে, ‘যারা স্বর্গত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়েও প্রিয় জন্মভূমি…।’ তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে ছয় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন, কিন্তু আজ তার মা বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। শফিক রেহমান বলেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জোর করে তাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন যাতে তার (শফিক রেহমান) জেল জীবন সহনীয় হয়। তিনি তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন, ‘উনি নিজেই জানেন না কতটা জনপ্রিয় তিনি। আমি জেলে থাকার সময় সাধারণ বন্দি ও পুলিশ সদস্যরা তার খোঁজ নিতেন। বিশেষ করে মেডিকাল ওয়ার্ড-৩, বেড-৩ তারেকের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পুলিশরা বলেছিলেন, ‘সরকার যাই বলুক, জেলে আমরাই রাজত্ব করি, এই বেডে কাউকে শুতে দেই না।’

খালেদা জিয়ার জেল জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শফিক রেহমান। নেলসন ম্যান্ডেলার ২৭ বছর জেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেল জীবনে ম্যান্ডেলার জন্য ইট ভাঙার কষ্ট সবচেয়ে খারাপ ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য স্বজনদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা আরো কঠিন ছিল। প্রথম দুই বছর কোনো চিকিৎসা পাননি। তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো বা পরিবারের সদস্যরা জেলবন্দি হওয়ার ভয়ে খাদো জিয়াকে দেখতে আসতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘আমার বয়স কেন আমি বলি জানেন। বলতে পারেন যে হাসিনা রোগে আক্রান্ত হয়েছি আমি। এই কারণে বয়স আমোকে অনেক কিছু কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত, আমি সেটা বলবো না। এখানে অতীতের কথা কিছু টেনে আনা হয়েছে এবং সে কাজটি করেছেন আমি যার সহবন্দী হবার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেই মাহমুদুর রহমান। তিনি জেলখানায় জোর করে আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক। জেলে এবং এখন বাইরেও। তাকে ধন্যবাদ যে, তিনি আমার জেল জীবনটা অনেকটা সহনীয় করার চেষ্টা করেছিলেন। এখানে আরেকটা কথা বলতে চাই জেল জীবনটা কত খারাপ। এটা আপনারা যারা জেলে যাননি তারা বুঝবেন না। এখানে দুজন আছেন, তারা বুঝবেন। আমি ওনার (মাহমুদুর রহমান) রুমেই ছিলাম। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পর। আমি সেসব বর্ণনা দিয়ে আজকে আপনাদের এই সুন্দর পরিবেশটা বিষণ্ন করতে চাই না। আমি শুধু তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে, তিনি কী। সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন ‘নো দাই সেলফ’।

আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি বুঝতে পারি ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম ক্লাসে নো দাই সেলফ। এটা এত বড় মূল্যবান কথা যে এটা জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার। তার নামাজে জানাজাতে অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল। তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জানাজা। তিনি যখন মহাপ্রয়াণ হলেন তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা। এটা বুঝতে হবে। তারেক রহমান জানেন না, তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম, তখন জেল বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো, সবচেয়ে বড় কথা পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করত, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করত, জানেন উনি (তারেক রহমান) কেমন আছেন। উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন। আর আমি আপনাদের এখানে আছি।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নে বিদ্যমান জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে নথি সত্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ডাবল লেজিসলেশন’ বা বারবার সত্যায়নের প্রক্রিয়া কেন বেআইনি হবে না, একইসঙ্গে ‘হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’(উদ্দেশ্য নথি সত্যায়নের জটিলতা দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি) অনুযায়ী কেন একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে জন্মসনদ, বিবাহ সনদ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো নথিগুলো আইন অনুযায়ী নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পুনরায় অথেন্টিকেশন বা সত্যায়ন করতে বাধ্য করে। এর ফলে একই নথি নিয়ে মানুষকে একাধিক দফতর ও মিশনে ঘুরতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যাতায়াত, আবাসন ব্যয় এবং কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার ফলে প্রবাসীরা চরম আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পার হয়ে যায় এবং চাকরিতে যোগদান বিলম্বিত হয়।’

আদালতে জানানো হয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আগেই প্রজ্ঞাপন বা সার্কুলার জারি করা হলেও দূতাবাসগুলো তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। একেক দূতাবাসে একেক নিয়ম চালু থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অভিন্ন নির্দেশনা না দিয়ে পাবলিক ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে পুনরায় লেজিসলেশন বা সত্যায়ন করার চলমান নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী একটি অভিন্ন নীতিমালা কেন জারি করা হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন প্রতিটি মিশনকে একই নিয়মের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেবে না এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের এসআরওগুলোর ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়ন কেন নিশ্চিত করা হবে না।

একইসঙ্গে দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইট, ম্যানুয়াল এবং পাবলিক নোটিশগুলো হালনাগাদ করে সঠিক তথ্য প্রচারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো নথি একবার অ্যাপোস্টিল করা হলে তা ওই কনভেনশনভুক্ত দেশগুলোতে পুনরায় সত্যায়ন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ নিলেও মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে বিদেশের মিশনগুলোতে এর সুফল মিলছে না- এমন অভিযোগে রিটটি করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ আগস্ট সশরীরে তাদের হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ ইস্যু করেছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আরও জানান, এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থা এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজনে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আবশ্যক। এজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়েছিলাম।

শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং কারাবন্দি এই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

গত জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।

ওই সময়ে ঘটা হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় করা একাধিক মামলায় তাদের নাম আসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের ধারাবাহিকতায় এবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ