খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭ বছরের জঞ্জাল বিএনপিকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের জঞ্জাল বিএনপিকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জঞ্জাল বিএনপি সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে। বর্জ্য আবর্জনা পরিষ্কার আমাদের করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারি বাজার এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ মন্তব্যে করেন।

মন্ত্রী বলেন, যেতু আমরা নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কাজ, সব ডিপার্টমেন্টে সহিদ সম্মানিত করব। পাশাপাশি দখলমুক্ত করা হবে খাল। এ খাল খনন কার্যক্রম শুরু হলে বিশেষভাবে সহযোগিতা করতে হবে সচেতন মহলকে। দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে আমরা দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।

১৬ মার্চ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার লক্ষ্মীপুরের ৩টি খাল পরিদর্শন করছি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আমরা যে খাল খনন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি, সবার আগে খালগুলোতে যে হারে বর্জ্য আবর্জনা আছে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। তাহলে জনগণের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। নয়তো জনগণ সুফল পাবে না।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘আমাগো নতুন ঘর দিছেন’—চাবি হাতে হাসল নান্দাইলের ৩৬ পরিবার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
‘আমাগো নতুন ঘর দিছেন’—চাবি হাতে হাসল নান্দাইলের ৩৬ পরিবার

জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর, ভাঙা দেয়াল আর অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে এবার নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের ৩৬টি অসহায় ও গৃহহীন পরিবার। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আধুনিক আধাপাকা ‘স্বপ্ন বাড়ি’র চাবি। একটি ঘর তাই যেন শুধু ইট, বালু আর সিমেন্টের কাঠামো নয়; বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নতুন করে বাঁচার প্রত্যয়ের প্রতীক।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইল উপজেলায় দিনব্যাপী সফরে এসে এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন। একই দিনে নান্দাইল পৌরসভায় একটি উন্নয়নকৃত সড়কেরও উদ্বোধন করা হয়।

‘ঘর’ যখন শুধু ঘর নয়
দারিদ্র্যের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতাগুলোর একটি হলো নিরাপদ বাসস্থানের অভাব। দিনের শেষে মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ জায়গা না থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—কোনোটিই টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। নান্দাইলের ৩৬ পরিবারের কাছে নতুন এই বাড়িগুলো তাই কেবল একটি সরকারি বা ব্যক্তিগত সহায়তা নয়; এগুলো তাদের জীবনের অনিশ্চয়তা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • বছরের পর বছর কুঁড়েঘরের কষ্ট শেষে নিরাপদ আশ্রয়
  • ‘স্বপ্ন বাড়ি’ ঘিরে উপকারভোগীদের চোখে স্বস্তি ও ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন

উপকারভোগী হামিদা খাতুনের কথায় সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। সন্তানদের নিয়ে ভাঙা ঘরে বসবাসের কষ্টের পর নতুন ঘর পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর মতো পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঘর মানে বর্ষায় পানি পড়ার আতঙ্ক থেকে মুক্তি, ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়ার ভয় থেকে স্বস্তি এবং সন্তানদের নিয়ে তুলনামূলক নিশ্চিন্তে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার সুযোগ।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নান্দাইলের কোনো মানুষ যেন অনাহারে কিংবা আশ্রয়হীন অবস্থায় না থাকে—এটি ছিল তার মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ৩৬টি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতির সূচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে নান্দাইলের সর্বস্তরের গৃহহীন মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এসব ঘরের নির্মাণকাজ তদারকি করেছেন বলে জানান। ‘স্বপ্ন বাড়ি’ একটি এককালীন সহায়তার বদলে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষার কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিরাপদ ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিল যে চাবি
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুর গ্রামের সবুজ মিয়ার অনুভূতিতেও উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার গল্প। নতুন পাকা ঘর তার পরিবারের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ খুলে দিয়েছে বলে জানান তিনি। এই অনুভূতি আসলে একটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একটি পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে বাসস্থানের ভূমিকা অনেক সময় আয়ের চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপদ ঘর শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করে, পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায় এবং সামাজিক মর্যাদাও বাড়ায়। অর্থাৎ, একটি ঘরের চাবি হাতে তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি স্থাপনার মালিকানা দেওয়া নয়—একটি পরিবারকে স্থিতিশীল জীবনের ভিত্তি দেওয়া।

সড়ক উন্নয়নেও জনজীবনের স্বস্তি
গৃহহীন পরিবারগুলোর হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নান্দাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভূঁইয়াপাড়া সড়ক থেকে ভূঁইয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভায়া মামুনের বাড়ি পর্যন্ত ৩২৫ মিটার সড়ক ইউনিব্লক দিয়ে উন্নয়নের কাজের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এমন অবকাঠামোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটি ভালো সড়ক শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পৌর এলাকার সংযোগ সড়ক উন্নত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও নাগরিক সেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে নিরাপদ বাসস্থান, অন্যদিকে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন—দুটি উদ্যোগই মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

অনন্য মানবিকতার বার্তা
অনুষ্ঠানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটনও ‘স্বপ্নবাড়ি’ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গৃহহীন মানুষের জন্য এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নিজ এবং সরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য যে স্বপ্নবাড়ির উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গৃহহীনদের জন্য এমন জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি।’

স্বপ্ন বাড়ি’র চাবি একটি সূচনা
নান্দাইলের ৩৬ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া ‘স্বপ্ন বাড়ি’র চাবি তাই একটি সূচনা। এই সূচনা যদি ধারাবাহিকতা পায়, আরও গৃহহীন পরিবার যদি নিরাপদ ঠিকানা পায়, তাহলে আজকের এই ৩৬টি ঘর একদিন নান্দাইলের বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের গল্পের প্রথম অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। ভাঙা ঘরের কষ্ট থেকে পাকা ঘরের নিরাপত্তা—৩৬টি পরিবারের জন্য এই পরিবর্তন অভাবনীয়। প্রতিটি পরিবারের কাছে এটি একটি নতুন জীবনের শুরু।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজনীতির ছায়া সরিয়ে সামরিক নেতৃত্বে পেশাদারিত্বের অগ্রাধিকার

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর; কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
রাজনীতির ছায়া সরিয়ে সামরিক নেতৃত্বে পেশাদারিত্বের অগ্রাধিকার

একটি দেশের সামরিক বাহিনীর পদোন্নতি কেবলই কী পদবি পরিবর্তন? স্বাভাবিকভাবে বিষয়টিকে এভাবে দেখার সুযোগ নেই মোটেও। বরং এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো, বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। আধুনিক সামরিক বাহিনীতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান যেমন অপরিহার্য তেমনি পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, অধীনস্থদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব, নৈতিক দৃঢ়তা এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গত রবিবার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক পদোন্নতির কেন্দ্রে রাজনীতি নয় বরং পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

দশ কথার এক কথায় তাঁর অন্তর্নিহিত বার্তা বেশ পরিষ্কার—যোগ্যতা যেন পরিচয়ের কাছে পরাজিত না হয়। সামরিক বাহিনীতে পদোন্নতি হবে এমন কর্মকর্তাদের, যারা দায়িত্ব পালনে দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, সৎ, বিশ্বস্ত এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব বাছাইয়ে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়েও একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যা কীনা ‘পেশাগত দক্ষতা’র সঙ্গে ‘সততা’, ‘বিশ্বস্ততা’, ‘শৃঙ্খলা’ এবং ‘নেতৃত্বের গুণাবলী’কে পাশাপাশি রাখার বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য এই নির্বাচনী পর্ষদে বিবেচনা করা হয়। যেখানে পদোন্নতি হবে মেধা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার নয়! সামরিক বাহিনীর মতো শৃঙ্খলানির্ভর প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন অভ্যন্তরীণ আস্থা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি দক্ষ কর্মকর্তার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চান। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ আস্থা ও পেশাদার সংস্কৃতির জন্য নতুন দিকনির্দেশ করবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য। এর তাৎপর্য শুধু পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যের কাছেও এটি একটি বার্তা—পেশাগত উৎকর্ষ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা অনুসরণ করেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে উঠে আসার পথ তৈরি করতে হবে। একটি পেশাদার সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তখনই, যখন সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শুধু অস্ত্র, প্রযুক্তি বা জনবল নয় সামরিক বাহিনীর মূল শক্তিই হচ্ছে আস্থা ও কমান্ড কাঠামোর প্রতি আনুগত্য। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নিজের সেনাপ্রধান বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৌলতে সেনা পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সরকারপ্রধানের চোখে জাতীয় সংকট ও দুর্যোগের সময়েও রাষ্ট্রের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ সশস্ত্র বাহিনী। কঠিন এই বাস্তবতায় বাহিনীর দক্ষতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোকে জাতীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী পর্ষদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সামরিক বাহিনীকে একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার রক্ষক এবং জাতীয় সংকটে রাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটে উঠেছে। যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি—রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই দুইয়ের সমন্বয়ই তৈরি করতে পারে কার্যকর শক্তি; বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

বিমান বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতমুখী আরও একটি বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টারের কার্যক্রম এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান শনাক্ত ও প্রতিহত করার লাইভ অপারেশনাল সক্ষমতা অবলোকনের পর তিনি পরিদর্শন করেছেন এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স।

যেখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গবেষণা কার্যক্রম দেখেছেন। এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকও স্পষ্ট হয়—শুধু বিদেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহ নয়, বরং নিজেদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রকৌশল সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা যেন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতাকেই চিত্রিত করেছে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বর্তমান বাস্তবতায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুতগতির তথ্য বিশ্লেষণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে না দেখার কোন সুযোগ নেই। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে তিনি এমন একটি কাঠামোয় দেখতে চান-যেখানে সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে মেধা, নেতৃত্বের ভিত্তি হবে সততা এবং ভবিষ্যতের শক্তির ভিত্তি হবে প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, এমনটিই মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সন্ধানী বার্তা; অ্যাকটিং এডিটর কালের আলো.কম।

মিজানুরের একমাত্র গোলে সেমিতে পুঠিয়া

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
মিজানুরের একমাত্র গোলে সেমিতে পুঠিয়া

রাজশাহীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চারঘাট উপজেলা ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে পুঠিয়া উপজেলা ফুটবল দল। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পুঠিয়া।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পুঠিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মিজানুর। ম্যাচের ১৮ মিনিটে তাঁর করা গোলে এগিয়ে যায় পুঠিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে গোল পরিশোধের জন্য চারঘাট একাধিকবার সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে পুঠিয়াও ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় পুঠিয়া।

বিরতির পর চারঘাট গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়ায়। পুঠিয়াও ব্যবধান বাড়ানোর জন্য পাল্টা আক্রমণ চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই আর গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পুঠিয়া।

দলকে শক্তিশালী করতে চারঘাট একজন নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে দলে ভেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।

এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের চার দল চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রথম সেমিফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরের মুখোমুখি হবে পবা উপজেলা ফুটবল দল। আর ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দলের প্রতিপক্ষ পুঠিয়া। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর।

ম্যাচটি পরিচালনা করেন রেফারি সোহাগ আলী। সহকারী রেফারি ছিলেন সুমন ও সোহেল এবং চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন বুলু।

আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

পুঠিয়া-চারঘাটের ম্যাচটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাঃ সবুর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান, এনডিসি মোঃ বোরহান উদ্দিন অন্তর, সহকারী কমিশনারবৃন্দ, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক, সাবেক ফুটবলার আলী আফতাব তপন, মুরাদুজ্জামান এলানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি