খুঁজুন
                               
, ,
           

সেপ্টেম্বরেই নবম পে স্কেলের গেজেট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সেপ্টেম্বরেই নবম পে স্কেলের গেজেট

নবম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে বেতন কাঠামোর সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা—এই চারটি বিষয় সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ চলছে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাব যাবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলেই গেজেট প্রকাশের পথ খুলবে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়া শুরু হতে পারে অক্টোবর থেকে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে।

আগস্টের লক্ষ্য পিছিয়ে কেন
নবম পে স্কেলের গেজেট আগস্টের মধ্যেই প্রকাশের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, কোন ভাতা কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে এবং নতুন কাঠামোর বাড়তি ব্যয় সরকার কতটা বহন করতে পারবে—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ফলে আগস্টের লক্ষ্য ধরে এগোলেও বাস্তবতা বিবেচনায় এখন সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ পে স্কেল আটকে নেই; বরং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ মেলানোর কাজ চলছে।

মন্ত্রিসভায় যাওয়ার আগে শেষ বৈঠক
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে অবশিষ্ট বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থ বিভাগ পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠাবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং এবং প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার কথাও বলেছেন তিনি।

তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য হাতে কিছুটা সময় রেখেই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যেভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনাই এখন বেশি।

জুলাই থেকে কার্যকর, টাকা মিলবে পরে
সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরোনো কাঠামোতেই বেতন পাচ্ছেন। এ অবস্থায় গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর দেখানো হলে তিন মাসের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এতে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া অর্থের একটি বড় অঙ্ক তৈরি হবে। সরকারের জন্য এখানেই বড় আর্থিক চাপ। একদিকে নতুন বেতন কাঠামোর কারণে নিয়মিত ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে একসঙ্গে কয়েক মাসের বকেয়া পরিশোধের প্রশ্ন রয়েছে। তাই গেজেটে কার্যকর তারিখ ১ জুলাই রাখলেও বকেয়া অর্থ কীভাবে ও কখন সমন্বয় করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
নতুন পে স্কেলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বেতন বাড়ানো নয়; এর সঙ্গে যুক্ত ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যয়ও। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরে দ্বিতীয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এর অর্থ হলো, গেজেট প্রকাশের পর বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও কর্মচারীদের সব আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে চালু নাও হতে পারে।

বেতন বৃদ্ধিতে কিছুটা কাটছাঁটের আভাস
পে কমিশনের সুপারিশে যে হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল, চূড়ান্ত কাঠামোয় সেই হার কিছুটা কমতে পারে। উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বেতন বৃদ্ধির হার কমানোর সুপারিশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখানেই নবম পে স্কেলের সবচেয়ে বড় সমীকরণ—চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা বনাম সরকারের সক্ষমতা। পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আবার বেতন বৃদ্ধির হার কমিয়ে দিলে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যবধান তৈরি হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা থাকবে।

কী হতে পারে চূড়ান্ত চিত্র
সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত গতিতে এগোলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেলের প্রস্তাব। এরপর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গেজেট হলে অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার পথ খুলবে। তবে হিসাব হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে তিন মাসের বকেয়া সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসবে।

তবে সরকারের আর্থিক চাপের কারণে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই এখন বেশি। একই সঙ্গে পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হওয়ার আভাসও মিলছে। সব মিলিয়ে নবম পে স্কেলের ক্ষেত্রে এখন মূল প্রশ্ন গেজেট হবে কি না, তা নয়; বরং কতটা বাড়বে, কখন পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং বাড়তি ব্যয়ের চাপ সরকার কীভাবে সামলাবে—সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের গেজেট সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেকটাই পরিষ্কার করে দিতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ সুযোগ তৈরিসহ আন্তঃদেশীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’ প্রণয়ন করছে সংস্থাটি। একই নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যেই ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা করা হচ্ছে। এর আওতায় বাংলাদেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম দেশের বাইরে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সহযোগিতাও চান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।’

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখাকে মূল ক্যাম্পাসের মতোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

দেশের উচ্চশিক্ষায় ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিগগির পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

সাক্ষাতে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি চান তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ জানান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ ও টিউশন ফি ওয়েভারের প্রস্তাবও দেয় ইউসিএসআই। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও ইউজিসির সহযোগিতা চায় প্রতিনিধিদলটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির বিদেশি স্কলারশিপ কার্যক্রমের সঙ্গে ইউসিএসআইকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের টিউশন ফি ওয়েভারের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেয়। এ সময় ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিসি বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল বারী মজুমদার এবং শাখা ক্যাম্পাসটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুশাইরি বিন মোহাম্মদ রাজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ