খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সরকার বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

বর্তমানে দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিরাজ করছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে রক্ষা করতে পারলে, বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।’

শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীককে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।’ এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব মিশে আছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিভূমি তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ।

এ সময় তিনি আরও বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ছিনতাই করেছিল, শেখ হাসনার শাসনামলে ভুলন্ঠিত হয়েছিল, আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন ও এক তরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছে।’

আলোচনা সভায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে ৭৫-এর পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই ভয়াল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি সায়েম সাহেব পর্যন্ত যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, সিপাহী-জনতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমেই সেই নৈরাজ্য থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছিল।’

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম নিয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।

বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে এতে বক্তব্য রাখেন— গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত ও রাজনীতিবিদ রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

কালের আলো/এম/এএইচ

চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আজকের এ বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, আমরা এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছি। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে।

তিনি আরও বলেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখানে গড়ে উঠবে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, বিভিন্ন সেবাখাত। কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

কালের আলো/এসএকে

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

রংপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর টার্মিনাল মৎস আড়ত এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। বিএনপি একবার নয়, পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সে রকমভাবে গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির সাহেব তাদের দলের গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়বেন। তাদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটি তারাই বিবেচনা করবেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে বিআরডিবির সুফলভোগীদের মধ্যে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’মুক্ত টুথপেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’মুক্ত টুথপেস্ট

Oplus_131072

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তবে পরীক্ষায় ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ইএসডিও জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানিকৃত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)-তে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি কণা পাওয়া গেছে।

এছাড়া পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি, সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এ ৮০টি এবং আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি

ইএসডিওর গবেষণা অনুযায়ী, নিচের ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি—

জেনফ্রেশ (দেশীয় ব্র্যান্ড)

প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)

ক্লোজ-আপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি

প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার (ভারত)

সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল (ভারত)

কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ (ভারত)

কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট (ভারত)

কোডোমো অরেঞ্জ (থাইল্যান্ড)।

ইএসডিও জানিয়েছে, এ গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা এবং লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির বৈজ্ঞানিক চিত্র তুলে ধরাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।

সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এসএকে