খুঁজুন
                               
, ,
           

জনবান্ধব সরকার-দেশ গড়া শেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
জনবান্ধব সরকার-দেশ গড়া শেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, আমাদের সামাজিক, মানবিক, জনবান্ধব সরকার ও দেশ গড়ার জন্য কাজের শিক্ষা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​বিমানমন্ত্রী বলেন, একজন দেশপ্রেমিক মানুষ কখনও দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশপ্রেম।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের দেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পথ চলতে শিখিয়েছেন।

এই তিনটি শিক্ষা আমাদের আগামীর পথচলা ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, নিজেকে সুন্দর রাখতে হলে দেশকেও সুন্দর রাখতে হবে।

দেশ ভালো না থাকলে আমরা ভালো থাকতে পারব না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

​শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, যে অনুপ্রেরণা ও আন্তরিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি কখনোই তা ভুলব না। আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনাদের প্রতিটি দাবি পূরণের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানা, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. মুহম্মদ মাহফিল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে উপস্থাপিকা,নিচ্ছেন কেমোথেরাপি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে উপস্থাপিকা,নিচ্ছেন কেমোথেরাপি

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। প্রথম দফার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বস্তির সময় পেরিয়ে আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন সামিয়া। তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়েছে। এবার ধরা পড়েছে ওভারিয়ান ক্যানসার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সামিয়া জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় তাঁর। পরীক্ষায় টিউমারটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন তিনি।

সামিয়া লিখেছেন, ‘মাত্র তিন মাস আগে আমার শরীরে দ্বিতীয় ম্যালিগন্যান্ট ধরা পড়ে—ওভারিয়ান ক্যানসার। ইমিডিয়েটলি অপারেশন করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এটি ছিল হাই-গ্রেড কার্সিনোমা, তাই এখন আমাকে কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

এবারই প্রথম কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই উপস্থাপক। ২০২২ সালে প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সামিয়া বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। প্রথমবার কেমোথেরাপি নিতে হয়নি, তাই এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে—চিকিৎসকদের কাছ থেকে আগেই জেনেছিলেন সামিয়া। তবে বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে বরং নিজের মতো করে পরিস্থিতিকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

চুল পড়ে যাওয়ার আগেই ছোট করে নতুন হেয়ারকাট নিয়েছেন সামিয়া। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘জানি, হয়তো কিছুদিন পর চুল পড়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই নিজের এই নতুন লুকটাকে সেলিব্রেট করে, নিজেকেই একটু মোটিভেট করতে চাইলাম।’

তিনি আরও লিখেছেন, সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে লাভ নেই। সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সামিয়া আফরিনের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় ২০২২ সালে। ওই বছরের এপ্রিলে শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করান তিনি। পরে সিঙ্গাপুরে গিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, তিনি চতুর্থ ধাপের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল ফুসফুস ও লিম্ফ নোডেও।

প্রথম দিকে খবরটি মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল তাঁর। এমনকি একপর্যায়ে চিকিৎসা না নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। পরে সিঙ্গাপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে ইমিউনোথেরাপি শুরু করেন। ২১ দিন পরপর নিতে হতো সেই চিকিৎসার ডোজ।

চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাস শারীরিকভাবে বেশ কঠিন সময় পার করেন সামিয়া। দুর্বলতা, শরীর কাঁপা ও ত্বকের নানা সমস্যার মধ্যেও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। অফিস করেছেন, কাজ করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।

দুই বছরের চিকিৎসা কোর্স শেষ হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়ে আসে। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসা নিতে হয়নি। চিকিৎসকেরাও আশাবাদী ছিলেন, ক্যানসার আর ছড়াচ্ছে না।

এবার নতুন করে ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু হলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে চান না সামিয়া। কঠিন এই সময়কে নিজের মতো করে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

যাঁরা ক্যানসারের এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরাই এর কষ্ট সবচেয়ে ভালো বোঝেন বলে মনে করেন সামিয়া। কাছের কোনো মানুষকে যেন এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টের শেষে সবার কাছে দোয়া চেয়ে সামিয়া লিখেছেন, আল্লাহ যেন সবকিছু সহজ করে দেন এবং আগেরবারের মতো এবারও তাঁর শক্তি ধরে রাখেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে চান তিনি।

কালের আলো/এসএ

আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ নিয়ে কি বলছেন শিল্পীরা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ নিয়ে কি বলছেন  শিল্পীরা?

দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোনো পক্ষের আপত্তি বা হুমকির মুখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াকে শিল্পীরা দেখছেন সংস্কৃতিচর্চার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে।

শিল্পীদের মতে, কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি থাকলে আলোচনা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর তা বাতিল করা হলে শিল্পী, আয়োজক, যন্ত্রশিল্পী ও সংশ্লিষ্ট সবার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতসমৃদ্ধ এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, শব্দ নিয়ে আপত্তি থাকলে শব্দ কমিয়ে অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা করা উচিত, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া নয়।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো গোষ্ঠী বা মহলের উগ্র আচরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারের প্রতি তাঁর আহ্বান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া হোক।

কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনও ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, একটি অনুষ্ঠান কারও পছন্দ না হলে সেটি না দেখার অধিকার তাঁর রয়েছে; কিন্তু পছন্দ না হওয়ার কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

সাবিনা বলেন, কোনো সরকারি সংস্থার আপত্তি থাকলে অনুষ্ঠান আয়োজনের আগেই তা জানানো উচিত। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর হঠাৎ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শুধু শিল্পী নয়, আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে শিল্পীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ব্যান্ড তারকা হামিন আহমেদ মনে করেন, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; গত কয়েক বছরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে বেড়েছে। তাঁর মতে, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই একটি গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হয়েছে।

হামিনের দাবি, দুই জেলার সাম্প্রতিক ঘটনা দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী আপত্তি বা হুমকি দিলেই প্রশাসনের দায়িত্ব অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া নয়; বরং শিল্পী, আয়োজক ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ও সংগীতপ্রেমী। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতের ঐতিহ্যবাহী এলাকায় কনসার্টকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনও মনে করেন, কনসার্ট বন্ধের ঘটনা শিল্পীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাঁর মতে, একজন শিল্পী, খেলোয়াড়, কবি বা অন্য যেকোনো পেশার মানুষ যেন নিরাপদে নিজের কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বেবী নাজনীন বলেন, শিল্পীদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হলো কনসার্ট। তাই বারবার অনুষ্ঠান বাতিল হলে তাঁদের পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতি হবে। তিনি প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সির মতে, কোনো একটি পক্ষ আপত্তি করলেই প্রশাসনের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। কোনো আপত্তি যৌক্তিক কি না, তা যাচাই করে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, একজনের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে অন্যদের সাংস্কৃতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় ও যাত্রাপালার মতো শিল্পমাধ্যম দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাই এগুলোকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

ন্যান্‌সির মতে, কোনো অনুষ্ঠানে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা হুমকি তৈরি হলে তা মোকাবিলা করে শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। নিরাপত্তার অজুহাতে বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।

পাঁচ শিল্পীই মূলত একটি বিষয়ে একমত—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকা উচিত নয়। বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আপত্তি বা হুমকির মুখে কনসার্ট বন্ধ করার প্রবণতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসএ

ইরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান,আলোচনায় যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ইরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান,আলোচনায় যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আসিম মুনিরের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্রও রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ সফর হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত শুরু হয়।

পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসিম মুনিরের বৈঠকে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের নেওয়া উদ্যোগ, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষাচুক্তি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার মধ্যেই আসিম মুনিরের তেহরান সফর হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এটি হতে পারে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।

ইরান অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটির ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই আসিম মুনিরের ইরান সফরকে সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ