খুঁজুন
                               
, ,
           

ইমরান খানকে হাসপাতালে না নেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে পিটিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ইমরান খানকে হাসপাতালে না নেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে পিটিশন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে পিটিশন করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

শনিবার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ইমরান খানের বোন উজমা খান ও আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে পিটিশনটি দাখিল করেন।

গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, হাসপাতালের সামনে এবং সেখানে যাওয়ার পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর দাবি, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিলেন।

পিটিআইয়ের পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। তাঁদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে আইন অনুযায়ী শাস্তির আবেদনও করেছে দলটি।

এ ছাড়া ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আগের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগের আবেদনও করেছে পিটিআই।

এখন পিটিআইয়ের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো /এসএ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ৪১ সহকারী প্রসিকিউটর নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ৪১ সহকারী প্রসিকিউটর নিয়োগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (ডিএনসি) জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী প্রসিকিউটর পদে ৪১ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

পদের বিবরণ

পদের নাম: সহকারী প্রসিকিউটর
পদসংখ্যা: ৪১
বেতন গ্রেড: ১১
বেতন স্কেল: ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা

স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের ডিএনসির টেলিটক ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণের পর নির্ধারিত ফি পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে ২০ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আবেদন ফি

টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে সাধারণ প্রার্থীদের মোট ১৬৮ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে।

তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিয়োগপ্রক্রিয়ার মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের সব সনদের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে সত্যায়িত ফটোকপিও জমা দিতে হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত পরবর্তী তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও প্রার্থীদের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।

বিস্তারিত তথ্য ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নোটিশ

আবেদনের শেষ সময়: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশে ৫জি কতদূর, সাধারণ মানুষ কবে পাবেন পুরো সুবিধা?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ৫জি কতদূর, সাধারণ মানুষ কবে পাবেন পুরো সুবিধা?

দেশে ৫জি যুগ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনো সবার হাতে পৌঁছেনি এই প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা। সীমিত পরিসরে ৫জি চালু হলেও দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ পেতে আরও সময় লাগবে। অবকাঠামো, স্পেকট্রাম, ৫জি-সমর্থিত ডিভাইস এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে এর বিস্তার।

বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু হয়। প্রথম দিকে সীমিত কিছু এলাকায় সেবা দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের জুন নাগাদ দেশের ৪৪০টির বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)। তবে দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ৫জি চালুর জন্য এখনো বেশ কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন।

৫জি চালুর অন্যতম বড় বিষয় হলো পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। বিশেষ করে কম-ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিস্তৃত এলাকায় ৫জি কভারেজ দিতে গুরুত্বপূর্ণ। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে; এটি পাওয়া গেলে গ্রামাঞ্চলসহ বড় এলাকায় তুলনামূলক কার্যকরভাবে ৫জি বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে অপারেটরদের জন্য ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দেশে ৫জি-সমর্থিত স্মার্টফোনের ব্যবহারও এখনো সীমিত। ফলে শুধু নেটওয়ার্ক তৈরি করলেই হবে না, ব্যবহারকারীদের হাতেও থাকতে হবে ৫জি ডিভাইস।

এখন পর্যন্ত ৫জি সেবা মূলত নির্দিষ্ট এলাকা ও সীমিত পরিসরে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাজধানী বা বড় শহরের কিছু এলাকায় ৫জি ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য ৪জি এখনো প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক।

এ কারণে ৫জি চালু হয়েছে মানেই দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারী এখনই ৫জি গতির ইন্টারনেট পাবেন—এমনটি নয়।

৫জির সবচেয়ে আলোচিত সুবিধা হলো দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং কম লেটেন্সি। ফলে বড় ফাইল দ্রুত ডাউনলোড, উন্নত মানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং ভিডিও কনফারেন্সে আরও ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।

তবে এর বড় প্রভাব শুধু মোবাইল ইন্টারনেটেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্পকারখানা ও স্মার্ট সিটির মতো ক্ষেত্রেও ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। পূর্ণাঙ্গ ৫জি বিস্তারের জন্য এসব খাতের প্রস্তুতিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী ৫জি কভারেজ নির্ভর করছে স্পেকট্রাম বরাদ্দ, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, অপারেটরদের বিনিয়োগ এবং ৫জি ডিভাইসের সহজলভ্যতার ওপর।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে ৫জি শুরু হয়ে গেলেও ‘সবার হাতে ৫জি’ পৌঁছাতে আরও কয়েক ধাপ পার হতে হবে। আপাতত সীমিত এলাকায় সেবা সম্প্রসারণ চলছে; পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো ও স্পেকট্রাম সুবিধা বাড়লে ৫জি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন শুধু বড় শহর নয়—দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ৫জি নেটওয়ার্ক সহজলভ্য হবে এবং সাধারণ মানুষের হাতে সাশ্রয়ী ৫জি ফোন থাকবে।

কালের আলো/এসএ

ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

ব্যাংকিং খাতে এখন এক অদ্ভুত বিপরীত চিত্র। ব্যাংকগুলোর হাতে টাকার ঘাটতি নেই; বরং বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। অথচ সেই অর্থ নেওয়ার মতো ঋণের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্য ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার প্রয়োজনও কমছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের একটি বড় সংকেত—বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো—এই তিন উৎস থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। জুনে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে এসব উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর ধার কমেছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।

শুধু সাম্প্রতিক এক মাসের চিত্র নয়, সময়ের ব্যবধানেও এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই তিন উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর ওই বছরের জুনে ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকের তারল্য চাহিদা কখনো বেড়েছে, আবার এখন তা কমে এসেছে। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া।

ঋণ কমছে, কারণ বিনিয়োগের গতি কম
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

একটি অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ সাধারণত বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ, ব্যবসা পরিচালনা, আমদানি ও নতুন কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ঋণপ্রবাহ যখন ধারাবাহিকভাবে দুর্বল থাকে, তখন শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, বাস্তব অর্থনীতির গতিও মন্থর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপন, বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারণ কিংবা বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি, জ্বালানি সংকট, ডলার ও আমদানি-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে নতুন ঋণের প্রয়োজনই অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে না।

অর্থাৎ ব্যাংক ঋণ দিতে প্রস্তুত থাকলেও উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ ঋণ নিতে চাইছেন না বা ঝুঁকি নিতে পারছেন না। ফলে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ থাকলেও তার ব্যবহার হচ্ছে না উৎপাদনশীল বিনিয়োগে।

বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য
ঋণের চাহিদা কমার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতি ব্যাংকের জন্য একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে উদ্বেগের। স্বস্তির কারণ হলো ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে এবং সাময়িক তারল্য সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ধার করার প্রয়োজন কমছে। কিন্তু উদ্বেগের জায়গা হলো, ব্যাংকের সেই অর্থ যদি ঋণ হিসেবে ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে তা অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি তৈরি করতে পারবে না।

ব্যাংকের অর্থের একটি বড় অংশ যদি অলস বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে আমানত সংগ্রহের পর সেই অর্থের উৎপাদনশীল ব্যবহার হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের আয় ও ঋণ ব্যবসার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

ধার কমার পেছনে স্বস্তি কতটা?
ব্যাংকগুলোর কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো থেকে ধার কমে যাওয়াকে শুধু তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ একটি ব্যাংক সাধারণত যখন নিজের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ পায়, তখন স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর হাতে এই অর্থ এসেছে কেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

যদি আমানত বাড়ে, কিন্তু সেই আমানতের বিপরীতে ঋণের চাহিদা না বাড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমতে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক সেটিই ঘটছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও মনে করেন, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগবিহীন তারল্যের ক্রমবর্ধমান মজুদ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের ধার কমার পেছনে শুধু ব্যাংকের শক্তিশালী তারল্য অবস্থান নয়, বরং ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আমানত বাড়ছে, কিন্তু ঋণ যাচ্ছে না
বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য হচ্ছে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির মধ্যে বড় ব্যবধান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলামের মতে, ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এখানে অর্থনীতির জন্য মূল প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি অর্থ কোথায় যাবে?

ব্যাংকে আমানত বাড়া সাধারণত ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু আমানতের অর্থ যদি ঋণ হিসেবে শিল্প, ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে এর প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি হবে না। একদিকে মানুষের সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ চাহিদা কমছে। এই ব্যবধান যত বাড়বে, ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর তত বেশি চাপ তৈরি হবে।

উচ্চ সুদ ও অনিশ্চয়তা বড় বাধা
ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে শুধু উদ্যোক্তাদের অনীহা নয়, ঋণের খরচও একটি বড় কারণ। সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফা ও ঋণের খরচের মধ্যে ব্যবধান কমে যাচ্ছে। কোনো উদ্যোক্তা যদি মনে করেন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হবে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি নতুন ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেবেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও ডলার সংকট। শিল্প উদ্যোক্তার কাছে উৎপাদন বাড়ানোর নিশ্চয়তা না থাকলে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার আমদানি করতে প্রয়োজনীয় ডলার পাওয়া যাবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত হলে নতুন ঋণের চাহিদা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। ফলে বর্তমান ঋণবাজারের দুর্বলতা আসলে শুধু ব্যাংকের সমস্যা নয়; এটি বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতারও প্রতিফলন।

কলমানির সুদেও মিলছে তারল্যের ইঙ্গিত
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে। ১৯ আগস্ট কলমানি বাজারে ভারিত গড় সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে আন্তঃব্যাংক বাজারেও অর্থ রাখতে পারে। বিপরীতে যেসব ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি রয়েছে, তারা এখনো কলমানি, আন্তঃব্যাংক ধার ও রেপোর মতো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

অর্থাৎ পুরো ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি একই রকম নয়। কিছু ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ওপর ধার করার চাপ কমেছে।

অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন বিনিয়োগ
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংকে পড়ে থাকা এই বিপুল অর্থ কীভাবে উৎপাদনশীল খাতে ফিরবে। শুধু ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়লেই অর্থনীতি গতিশীল হবে না। সেই অর্থ শিল্প, ব্যবসা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগে যেতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের চাহিদা বাড়ানোর জন্য শুধু সুদহার কমানো যথেষ্ট নাও হতে পারে। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানির জন্য ডলারপ্রাপ্তি সহজ করা, ব্যবসায়িক নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ সমস্যা মোকাবিলা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কারণ উদ্যোক্তার কাছে ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলে কম সুদের ঋণও আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। বিপরীতে ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল হলে ঋণের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে।

স্বস্তির তারল্যের আড়ালে মন্থর অর্থনীতি
ব্যাংকগুলোর ধার কমে যাওয়া এবং উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে যাওয়াকে তাই একমাত্র ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির স্বস্তি যেমন প্রকাশ করছে, তেমনি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মন্থরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একটি অর্থনীতিতে ব্যাংকের হাতে টাকা থাকবে—এটাই যথেষ্ট নয়। সেই টাকা উদ্যোক্তার হাতে গিয়ে কারখানা চালাবে, নতুন প্রকল্প তৈরি করবে, আমদানি করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উৎপাদন বাড়াবে—অর্থনীতির জন্য সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান চিত্রে সেই দ্বিতীয় ধাপটিই দুর্বল। ব্যাংকে অর্থ আছে, কিন্তু ঋণগ্রহীতা কম। ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের আগ্রহ কম। ফলে ব্যাংকের তারল্য বাড়ছে, অথচ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে তার প্রবাহ কমছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য আরও বাড়তে পারে। আর সেটি তখন শুধু ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার সমস্যা থাকবে না; বরং বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার একটি বড় সূচক হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এম/এএইচ