খুঁজুন
                               
, ,
           

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি: মন্ত্রী

ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দক্ষ মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগদানকৃত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দক্ষ মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সবার জন্য উন্নত মানের যোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে হবে।’

যোগদানকৃত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দায়িত্ব শুধু চাকরি নয়, এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ’

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে নিয়মিতভাবে সমৃদ্ধ করার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও জনবান্ধব টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’

সভায় ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগদানকৃত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে তাদের প্রত্যাশা ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

পরিচিতি সভার শুরুতে মন্ত্রী টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে অবস্থিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন এন্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) সেন্টারের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং নবনিযুক্ত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীও দিলেন ডিজিটাল হাজিরা, প্রশাসনে নতুন বার্তা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীও দিলেন ডিজিটাল হাজিরা, প্রশাসনে নতুন বার্তা

সরকারপ্রধান হয়েও দাফতরিক নিয়মের বাইরে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও এখন দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে নিজের দফতরে প্রবেশের আগে নির্ধারিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থিতি নিবন্ধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অফিসে প্রবেশের পাশাপাশি কর্মদিবস শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত নিয়মে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তি নিজেই ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ায় বিষয়টিকে দাফতরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সরকারপ্রধান যখন নিজেই নির্ধারিত উপস্থিতি ব্যবস্থার আওতায় থাকেন, তখন অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশাটিও আরও স্পষ্ট হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল হাজিরা শুধু কর্মস্থলে উপস্থিতির হিসাব রাখার ব্যবস্থা নয়; এটি প্রশাসনে জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রীর নিজের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

দাফতরিক নথিতেও কমছে আনুষ্ঠানিকতা
ডিজিটাল হাজিরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সরকারি নথিপত্রের ভাষাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র পরিবর্তে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ডিজিটাল হাজিরা তার অন্যতম দৃশ্যমান উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কাজে তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের ট্রাফিক ব্যবস্থায় অযথা বাধা না দেওয়ার মতো কয়েকটি উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজের ডিজিটাল হাজিরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার নতুন বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

এআই যুগে মার্কেটিং নিয়ে বাংলাদেশি মার্কেটারদের সঙ্গে কথা বলবেন ফিলিপ কটলার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
এআই যুগে মার্কেটিং নিয়ে বাংলাদেশি মার্কেটারদের সঙ্গে কথা বলবেন ফিলিপ কটলার

বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার ও মার্কেটারদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় আসছেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের জনক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ফিলিপ কটলার। আজ ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় ফেসবুক লাইভে ‘এআই যুগে মার্কেটিং কীভাবে বদলে যাচ্ছে’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।

আইডিয়েন কনসালটিংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে ফিলিপ কটলারের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক। অনুষ্ঠানে কি-নোট বক্তা হিসেবে থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের অধ্যাপক ওয়াল্ডেমার ফোয়ের্টশ। তিনি ফিলিপ কটলারের সঙ্গে ‘বি২বি ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ বইয়ের সহলেখক।

থাকছে প্যানেল আলোচনা

ফিলিপ কটলারের আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হবে মার্কেটিংয়ে এআই: হাইপ, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা শীর্ষক প্যানেল আলোচনা।

এতে দেশের বিভিন্ন খাতের মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। প্যানেলে থাকবেন—

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক রেজওয়ানুল হক খান
  • গ্রামীণফোনের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী
  • প্রথম আলোর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব মার্কেটিং মো. আজওয়াজ খান
  • এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) বিনয় দাস
  • দ্য ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাজদিন হাসান
  • এটেক গ্লোবালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শুভাশিস ভৌমিক

প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করবেন স্বপ্নের ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড গ্রোথ) মাহাদি ফয়সাল।

নিবন্ধন বিনা মূল্যে

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটির নিবন্ধন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনা মূল্যে। এরই মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

ফিলিপ কটলারের সেশনটি সরাসরি দেখা যাবে মার্ক অনুপম মল্লিকের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। আগ্রহীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন: আইডিয়েন কনসালটিংয়ের ওয়েবসাইটে।

কালের আলো/এসএ

ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ভাড়া ভবনে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভবনে চলছে ক্লাস, মাঝামাঝি তৃতীয় ভবনে প্রশাসনিক কাজ। প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে ছোট তিনটি ভাড়া ভবনে। ইউএফটিবির এই চিত্র আসলে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি; অন্যগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই কেন একের পর এক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলো?

ক্যাম্পাসের আগে ক্লাস
এই ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে। তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশেষায়িত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকাংশের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। অর্থাৎ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকার সময় এক দশক পর্যন্ত গড়িয়েছে। কোথাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও ভাড়া বাড়ি, আবার কোথাও একাধিক স্থাপনায় ভাগ হয়ে আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ হলেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-পরিবেশ নেই
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আট হাজারের কিছু বেশি। অধিকাংশ চলছে মাত্র দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নেই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের জন্য সংকটটি স্পষ্ট। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়—গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, খেলার মাঠ, আবাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি ও এভিয়েশন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব ও ব্যবহারিক অবকাঠামো ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পাঁচটির এখনো যাত্রাই হয়নি
মেহেরপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায় এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা থেমে থাকছে না। এতে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

ভাড়ার পেছনে সরকারি অর্থ
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আর্থিক চাপও কম নয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরের পর বছর ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভবন পরিচালনা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বাড়তি ব্যয়। সাময়িক সমাধান তাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থের স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হচ্ছে।

কোথাও জমি আছে, ক্যাম্পাস নেই
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ২০২০ সালে আইন পাসের পর ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভবনে। অন্যদিকে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগোলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ইউএফটিবিতেও শিক্ষার্থী ৯২৮ জন, শিক্ষক ৪১ জন, কর্মকর্তা ৩৬ এবং কর্মচারী ৫২ জন। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

দায়ের জায়গা, সমাধানের পথ
এই বাস্তবতা কোনো এক বছরের সিদ্ধান্তের ফল নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আইন, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবই এগিয়েছে; কিন্তু ক্যাম্পাস নির্মাণ পিছিয়ে থেকেছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত এগুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জমি, অর্থায়ন, মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্যও ন্যূনতম একাডেমিক ও গবেষণা অবকাঠামোর বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি আইন পাস কিংবা উপাচার্য নিয়োগ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে নিজস্ব শিক্ষাঙ্গন, গবেষণার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কালের আলো/এম/এএইচ