খুঁজুন
                               
, ,
           

হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

একটি রোগ ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে, অন্যটির বাহক এডিস মশা। হাম ও ডেঙ্গুর জীবাণু, সংক্রমণপথ এবং চিকিৎসা আলাদা। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দুটি রোগের পেছনে একই ধরনের দুর্বলতা সামনে এনেছে—সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, মাঠপর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। ফলে এমন দুই রোগের চাপ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে, যেগুলোর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা হাজারের ঘরে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন এবং তা বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা এক পর্যায়ে এসে দৃশ্যমান হয়েছে।

হামের ক্ষেত্রে ফাঁকটা কোথায়?
হাম ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র টিকা। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার ভালো দেখালেই ঝুঁকি শেষ হয় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়া হাসানের মতে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তি, দুর্গম জনপদ, ভাসমান জনগোষ্ঠী কিংবা দরিদ্র সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকলে সেই এলাকাই ভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। টিকাদানের এই অসম্পূর্ণতাই তৈরি করে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. জাকিয়া ফেরদৌসী খানের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকা। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি কোথায় প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ কম হয়েছে, কোন এলাকায় শিশুরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে এবং কোথায় সংক্রমণের ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা জরুরি। অর্থাৎ হাম ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধের ফাঁক কোথায় তৈরি হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করাই এখন বড় কাজ।

ডেঙ্গুতে ধোঁয়া আছে, নিয়ন্ত্রণ কতটা?
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন হলেও দুর্বলতার জায়গা প্রায় একই। প্রতি বছর মশক নিধনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ২০৮ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ফগিং স্থায়ী সমাধান নয়। এতে উড়ন্ত পূর্ণবয়স্ক মশার একটি অংশ কমতে পারে; কিন্তু ডিম ও লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে নতুন মশা জন্ম নিতেই থাকবে। ছাদে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবনের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র—এসব প্রজননস্থল ধ্বংস না করে রাস্তায় ধোঁয়া ছড়ানো সমস্যার সাময়িক চিকিৎসা মাত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের তদারকির ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান না থাকায় মাঠপর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, নির্বাচিত হাসপাতালগুলো থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে বিশেষায়িত জনবল না থাকায় শুরুতে নজরদারিতে সমস্যা হয়েছিল। ডিএসসিসির তদারকি কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, কমিটি গঠনের পর মাঠপর্যায়ে তৎপরতা থাকলেও পরে তা কমে যায়; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দাপ্তরিক কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে চাপ
ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকার সমস্যা নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও রোগী বাড়ছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে রোগ নির্ণয়, গুরুতর রোগী ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় পরিচর্যার সক্ষমতা সব জায়গায় সমান নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন অর রশিদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জটিল রোগীকে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ রোগী যখন হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছেন, তখন সংকট অনেকটাই গভীরে চলে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, সামনে দীর্ঘ লড়াই
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমানো ও সচেতনতা বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এই উদ্যোগকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল ধরে রাখা কঠিন হবে। এডিস মশার প্রজনন বন্ধে সারা বছর নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজন। একইভাবে হাম নিয়ন্ত্রণেও এককালীন কর্মসূচির চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের প্রতিটি ফাঁক বন্ধ করা জরুরি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায় হাম বাড়ছে, কোথায় টিকার ঘাটতি, কোথায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে এবং কোন এলাকায় এডিসের ঘনত্ব বেশি—তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগে গতি আনতে চার সদস্যের কমিটি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগে গতি আনতে চার সদস্যের কমিটি

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগসংক্রান্ত কমিটি’ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।

কমিটিতে যারা আছেন

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন—

  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি
  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব

কমিটির কাজ কী

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে এই কমিটি।

প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শূন্য পদে নিয়োগে উদ্যোগ

কৃষি খাতে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে এ পদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

কালের আলো/এসএ

বড় দুর্নীতিতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা চান রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
বড় দুর্নীতিতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা চান রাষ্ট্রপতি

দুর্নীতিবাজ যতই প্রভাবশালী হোক, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর দেশের অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

তিনি দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধান করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুদক প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি দুদকের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের কাছে হেরে জুনিয়র বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
জাপানের কাছে হেরে জুনিয়র বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আজকের এই হারে প্রথমবারের মতো জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার বাংলাদেশের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।

আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে হলে এই ম্যাচে জিতে সেমিফাইনালে উঠতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু অভিজ্ঞতা ও শক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকা জাপানের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকতে পারেনি আরিফ আলীর দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে জাপান। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৬ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জাপানের হিরাই ইয়োশিনো। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় জাপান।

তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ দুটি ভালো আক্রমণ গড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে জাপানের রক্ষণ ভেদ করে বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।

শেষ কোয়ার্টারেও সমতা ফেরানোর বদলে উল্টো আরও একবার গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে ফিল্ড গোল করে জাপানের জয় নিশ্চিত করেন সুজুকি মোমোকা।

এর আগে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচের চারটিতেই জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আরও একটি ম্যাচ বাকি। আগামী শনিবার পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার ম্যাচে হেরে যাওয়া দল।

কালের আলো/এসএ