খুঁজুন
                               
, ,
           

হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

একটি রোগ ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে, অন্যটির বাহক এডিস মশা। হাম ও ডেঙ্গুর জীবাণু, সংক্রমণপথ এবং চিকিৎসা আলাদা। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দুটি রোগের পেছনে একই ধরনের দুর্বলতা সামনে এনেছে—সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, মাঠপর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। ফলে এমন দুই রোগের চাপ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে, যেগুলোর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা হাজারের ঘরে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন এবং তা বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা এক পর্যায়ে এসে দৃশ্যমান হয়েছে।

হামের ক্ষেত্রে ফাঁকটা কোথায়?
হাম ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র টিকা। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার ভালো দেখালেই ঝুঁকি শেষ হয় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়া হাসানের মতে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তি, দুর্গম জনপদ, ভাসমান জনগোষ্ঠী কিংবা দরিদ্র সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকলে সেই এলাকাই ভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। টিকাদানের এই অসম্পূর্ণতাই তৈরি করে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. জাকিয়া ফেরদৌসী খানের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকা। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি কোথায় প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ কম হয়েছে, কোন এলাকায় শিশুরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে এবং কোথায় সংক্রমণের ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা জরুরি। অর্থাৎ হাম ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধের ফাঁক কোথায় তৈরি হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করাই এখন বড় কাজ।

ডেঙ্গুতে ধোঁয়া আছে, নিয়ন্ত্রণ কতটা?
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন হলেও দুর্বলতার জায়গা প্রায় একই। প্রতি বছর মশক নিধনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ২০৮ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ফগিং স্থায়ী সমাধান নয়। এতে উড়ন্ত পূর্ণবয়স্ক মশার একটি অংশ কমতে পারে; কিন্তু ডিম ও লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে নতুন মশা জন্ম নিতেই থাকবে। ছাদে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবনের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র—এসব প্রজননস্থল ধ্বংস না করে রাস্তায় ধোঁয়া ছড়ানো সমস্যার সাময়িক চিকিৎসা মাত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের তদারকির ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান না থাকায় মাঠপর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, নির্বাচিত হাসপাতালগুলো থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে বিশেষায়িত জনবল না থাকায় শুরুতে নজরদারিতে সমস্যা হয়েছিল। ডিএসসিসির তদারকি কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, কমিটি গঠনের পর মাঠপর্যায়ে তৎপরতা থাকলেও পরে তা কমে যায়; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দাপ্তরিক কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে চাপ
ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকার সমস্যা নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও রোগী বাড়ছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে রোগ নির্ণয়, গুরুতর রোগী ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় পরিচর্যার সক্ষমতা সব জায়গায় সমান নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন অর রশিদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জটিল রোগীকে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ রোগী যখন হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছেন, তখন সংকট অনেকটাই গভীরে চলে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, সামনে দীর্ঘ লড়াই
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমানো ও সচেতনতা বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এই উদ্যোগকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল ধরে রাখা কঠিন হবে। এডিস মশার প্রজনন বন্ধে সারা বছর নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজন। একইভাবে হাম নিয়ন্ত্রণেও এককালীন কর্মসূচির চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের প্রতিটি ফাঁক বন্ধ করা জরুরি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায় হাম বাড়ছে, কোথায় টিকার ঘাটতি, কোথায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে এবং কোন এলাকায় এডিসের ঘনত্ব বেশি—তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সবুজ-জলধারায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শালিখা ইকোপার্ক

মাগুরা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সবুজ-জলধারায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শালিখা ইকোপার্ক

ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে মাগুরার শালিখা ইকোপার্ক হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এ পার্কে সবুজ প্রকৃতি, খালের শান্ত জলধারা ও বিনোদনের নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের টানছে।

পার্কে প্রবেশ করতেই এক পাশে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত, অন্য পাশে বয়ে চলেছে কানুদার খাল। চারপাশের বৃক্ষরাজি, খোলা আকাশ ও নির্মল বাতাসের সঙ্গে খালের পানিতে চলাচল করা নৌকা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও জায়গাটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।

শুধু বিনোদন নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও পার্কটির গুরুত্ব রয়েছে। পার্কজুড়ে বিভিন্ন বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একদিকে সবুজের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ।

কানুদার খাল ও আশপাশের এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা কাছ থেকে জলজ প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য কানুদার খালে রয়েছে প্যাডেল বোট ও সাধারণ নৌকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা। শান্ত জলে নৌকায় ঘুরে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখার সুযোগ ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

পার্কের ভেতরে হাঁটার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুই কক্ষের একটি কটেজ।

শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা। দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ও রাইড থাকায় পরিবারের ছোট সদস্যরাও এখানে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পিকনিক আয়োজন—বিভিন্ন ধরনের অবসর বিনোদনের জন্য জায়গাটি উপযোগী। মাগুরা ও যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়পাড়া বাজারে এসে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা থ্রি-হুইলারে সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতি, জলধারা ও বিনোদনের সমন্বয়ে শালিখা ইকোপার্ক ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় অবকাশকেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। সবুজ ধানখেত, কানুদার খাল, বৃক্ষরাজি, নৌভ্রমণ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী পরিবেশ।

সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে শালিখা ইকোপার্ক মাগুরার একটি উল্লেখযোগ্য বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এ সবুজ প্রাঙ্গণ হতে পারে সুন্দর একটি গন্তব্য।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটার লেম্বুরবন সৈকতে সমুদ্রভাঙনের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের দূষণ নতুন সংকট তৈরি করেছে। সৈকতের পাশে থাকা গাছগুলোর শিকড় ও কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ছেঁড়া জাল ও নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের টানে লেম্বুরবন সৈকতের বালু সরে যাওয়ায় অনেক গাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিকড়ের ফাঁকে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও জালের স্তূপ এবং কাণ্ডে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি জানান, মাছ ধরার সময় জাল ছিঁড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা সমুদ্রে থেকে যায়। আবার নৌকা থেকে ফেরার পর ছেঁড়া জাল সৈকত বা আশপাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটে। নির্দিষ্ট স্থানে জাল ও জালের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সেখানে এসব বর্জ্য জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

লেম্বুরবনের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সৈকতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও জমছে। এর মধ্যে ছেঁড়া মাছ ধরার জালও দেখা যায়। এসব বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি করছে।

পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে ছড়িয়ে থাকা জালের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও প্লাস্টিক ও নাইলনের জাল সহজে নষ্ট হয় না। এসব জালে বন্যপ্রাণী আটকে যেতে পারে এবং পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর বিচ ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাব্যান্ডন্ড, লস্ট অর ডিসকার্ডেড ফিশিং গিয়ার’ বা ‘ঘোস্ট গিয়ার’ বলা হয়। এসব জালে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে।

তার ভাষ্য, সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকা জাল প্রবাল, সি-গ্রাসসহ বিভিন্ন জলজ আবাসস্থলের ক্ষতি করে। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জাল সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জাল দীর্ঘদিন পানিতে থেকে মাছ ধরতে থাকলে তাকে ‘ঘোস্ট ফিশিং’ বলা হয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে।

বখতিয়ার রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জাল কেনা, ব্যবহার, হারিয়ে গেলে রিপোর্ট, উদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। জালে মালিক বা নৌকার পরিচয় নম্বর যুক্ত করা, পুরোনো জাল ফেরত দিলে প্রণোদনা দেওয়া এবং কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে জাল সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, উপকূলীয় গাছগুলো মাটি ও বালু ধরে রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় উন্মুক্ত হওয়ায় সেগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এর সঙ্গে জাল জড়িয়ে থাকলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে জাল অপসারণ প্রয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় জাল টেনে তুলতে না পারলে অনেক জেলে তা কেটে দেন। জালে প্যাঁচ লাগলেও কখনো কখনো জাল কেটে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের সঙ্গে এসব জাল সৈকতে চলে আসে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি মহিপুর ও আলীপুর মাছবাজারের গদি মালিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পৌরসভাকে জানানো হবে। লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির চরে দায়িত্ব পালনের সময় জেলেদের পরিত্যক্ত জাল না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এরপরও কেউ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং এসব জাল অপসারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৈকতে যাতে এ ধরনের বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে।

সমুদ্রভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া শিকড় আর তাতে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল কুয়াকাটার উপকূলীয় বনাঞ্চলের নাজুক অবস্থারই জানান দিচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে এ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠ সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ এখনো অসম্পূর্ণ। প্রাচীরের পাশে বৃষ্টির পানির প্রবাহে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল সরকার বলেন, ভবনের বড় কোনো সংকট না থাকলেও বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে সীমানাপ্রাচীরের পাশে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগারটিও ভগ্নদশায় রয়েছে। এর পাশাপাশি একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইটালুকান্দা গ্রামের সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত মাঠ ভরাট এবং গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাঠের গর্ত ভরাট, সীমানাপ্রাচীরের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নষ্ট নলকূপ মেরামত এবং শৌচাগার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি