ডার্ক ম্যাটার নিয়ে বড় ইঙ্গিত, রহস্যজনক কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত বিজ্ঞানীদের
ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ এক ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ঘটনাকে এখনই ডার্ক ম্যাটারের আবিষ্কার বলা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটায় স্যানফোর্ড আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে মাটির প্রায় এক মাইল গভীরে পরিচালিত LUX-ZEPLIN (LZ) পরীক্ষায় অস্বাভাবিক এই কণার মিথস্ক্রিয়াটি শনাক্ত হয়েছে।
ডার্ক ম্যাটারের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত উইম্প (WIMP) বা দুর্বলভাবে মিথস্ক্রিয়াশীল ভারী কণার সন্ধানে LZ পরীক্ষায় প্রায় ১০ টন অতি বিশুদ্ধ তরল জেনন ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা এমন একটি কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করেছেন, যা এখন পর্যন্ত পরিচিত পটভূমিগত প্রক্রিয়া দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
তবে পরিসংখ্যানগতভাবে এই সংকেত এখনো ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী নয়। ‘লুক-এলস হোয়ার’ প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পর LZ গবেষকরা বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত গুরুত্ব ২.৬ সিগমা বলে জানিয়েছেন। কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নিশ্চিত করতে সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার প্রমাণ প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। এটি সরাসরি দেখা যায় না। তবে গ্যালাক্সি ও মহাজাগতিক বিভিন্ন কাঠামোর ওপর এর মহাকর্ষীয় প্রভাব থেকে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
নতুন এই সংকেত তাই গবেষকদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আরও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যাচাই করবেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকেত আরও পাওয়া যায় কি না। পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে সংকেতটি আরও শক্তিশালী হতে পারে, আবার এটি নিছক পরিসংখ্যানগত ঘটনা হিসেবেও মিলিয়ে যেতে পারে।
গবেষকেরা এখন আরও তথ্যের অপেক্ষায়। নতুন পর্যবেক্ষণই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, রহস্যজনক এই কণার মিথস্ক্রিয়া ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বোঝার পথে সত্যিই বড় কোনো সূত্র কি না।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array