সেপ্টেম্বরের ৮ দিনেই রেমিট্যান্স ৯০ কোটি ডলার
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশে প্রবাসী আয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৭১ দিনে প্রবাসীরা দেশে ৬৭৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৭৮ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৬৭৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই এসেছে ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
শুধু প্রবাসী আয় নয়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে রফতানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। জুলাই ও আগস্ট—অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪৯০ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯৩ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, প্রথম দুই মাসে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল প্রায় ৭১১ কোটি ডলার। ফলে রফতানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী আয় ও রফতানি আয়ে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমানোর পাশাপাশি রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়ক হচ্ছে। অর্থ পাচার ঠেকাতে কড়াকড়ি এবং হুন্ডির প্রবণতা কমে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে বলেও মনে করছেন তারা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
আন্তঃব্যাংক বাজারে বর্তমানে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে। রেমিট্যান্স ও রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ায় ডলারের সরবরাহেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array