খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

ফাঁকা ঢাকায় চব্বিশ ঘণ্টা তৎপর থাকবে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ফাঁকা ঢাকায় চব্বিশ ঘণ্টা তৎপর থাকবে র‌্যাব

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে অচিরেই প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে ঢাকা। এ সময় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফলে রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে এই সময়ে র‌্যাবের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান। ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় ৩২টি টিম মোতায়েনের পাশাপাশি সিভিল টিম, টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

র‍্যাব জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সদরঘাট, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, সূত্রাপুর ও কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‍্যাবের ৩২টি টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা নজরদারির জন্য ছয়টি সিভিল টিমও কাজ করবে।

ঈদযাত্রা ঘিরে নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

র‍্যাব জানায়, অপরাধ দমনে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ‘রোবাস্ট পেট্রোলিং’ ও ‘ফুট পেট্রোলিং’ পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করা হবে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র‍্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে এসে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে র‍্যাবের আভিযানিক তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সক্রিয় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় বাহিনীটি।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনসাধারণ যাতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব সদস্যরাও ২৪ ঘণ্টা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রথম ধাপে ১ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে জুতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
প্রথম ধাপে ১ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে জুতা

Oplus_131072

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আকারের একটি সহায়তা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে উন্নত মানের জুতা দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলার দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা চাই এই উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের (প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়।

এ সময় তিনি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইন্সটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন এবং ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং, সার্টিফিকেশন সবকিছু যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ত রাখার কথাও বলেন।

কালের আলো/এসএকে

শর্তে রাজি না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে : প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
শর্তে রাজি না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে : প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তে রাজি না হলে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর।

বুধবার (৬ মে) অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা ব‌লেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার বাজার ২০০৮ সালে প্রথম বন্ধ হয়। এরপর ২০১৬ সালে চালু হয়ে ১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২২-এ চালু হলে ২৪-এ বন্ধ হয়, যা এখনো বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিকবার বৈঠক ও সফর হয়েছিল, তবুও এই বাজার চালু হয়নি। কারণ মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল; যে শর্ত মানলে বাংলাদেশে ৫টি থেকে ৭টি এজেন্সির বেশি কেউ কর্মী পাঠাতে পারবে না।

নূরুল হক বলেন, পরবর্তীতে ৩টি শর্ত মওকুফ করে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবুও বাস্তবতা হচ্ছে মার্কেট বন্ধই আছে। আমরা যদি সিন্ডিকেট কিংবা ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম, যাই বলেন, তাদের এই ধরনের শর্তে রাজি না হই, তবে মার্কেট যেভাবে বন্ধ আছে সেভাবেই থাকবে।

তিনি ব‌লেন, আমাদের মন্ত্রী কিছুদিন আগে সেখানে সফর করে বলে এসেছেন যে, তাদের শর্তে যে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেই এজেন্সিগুলোকে যেন কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়।

কালের আলো/এসএকে

এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে ঢাকায় ট্রাফিকের অটো মামলা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে ঢাকায় ট্রাফিকের অটো মামলা শুরু

Oplus_131072

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে ডিএমপির আওতাধীন এলাকায় এই ডিজিটাল প্রসিকিউশন ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এতে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ও স্থিরচিত্রের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি হবে এবং সংশ্লিষ্ট মালিক ও চালকের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, সড়কে আইন অমান্য করলেই এখন থেকে অটো মামলা রেকর্ড হবে। নোটিশ ডাকযোগে পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া নেওয়া হতে পারে।

এর আগে ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার স্বাক্ষরিত গণ-বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, লাল সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন অপরাধে ভিডিও ও ছবি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

গণ-বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিসি ক্যামেরার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে না। কোনো প্রতারণামূলক বার্তা পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে এআই-সমর্থিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করে ডিজিটাল প্রসিকিউশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

কালের আলো/এসএকে