খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সদরের এমপি ওয়াহাব আকন্দের জবানীতে রাজনৈতিক প্রেস নোটের সেকাল-একাল!

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সদরের এমপি ওয়াহাব আকন্দের জবানীতে রাজনৈতিক প্রেস নোটের সেকাল-একাল!

৪৪ বছর আগের বলপেনে ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রেস নোট লিখতেন আবু ওয়াহাব আকন্দ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক। নিজের ছাত্র রাজনীতির উষালগ্নে ওই সময় কম দামি প্যাডে প্রেস নোট লিখে নিজে বাইসাইকেল চালিয়ে গণমাধ্যমের অফিসে ছুটে যেতেন তিনি। সেই সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের কর্মী। এরপর ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে আসেন। আধুনিক সাংবাদিকতার সময়ে এখন কম্পিউটারে মেইলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই পৌঁছে যায় প্রেস নোট। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না কত পরিশ্রম-সংগ্রামের পর আশির দশকে ময়মনসিংহের স্থানীয় দৈনিকসমূহে ছাপা হতো রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেস নোট।

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর গোহাইলকান্দি খানবাড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সন্ধানী বার্তা, কালের আলো.কম ও ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ময়মনসিংহের এক সময়ের দাপুটে সংবাদপত্র দৈনিক জাহানের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হাসিমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ৪৪ বছর আগের স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর স্মৃতির মানসপটে তাজা আজও সেই উজ্জ্বল স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়ে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘তখনকার সময়ে কম দামি কাগজের প্যাড করতাম আমরা। সেখান বলপেন দিয়ে লিখতে হতো।

নয়তো কাগজ ছিঁড়ে যেতে। হাতে লিখে সাইন করে বাইসাইকেলে দৈনিক জাহান পত্রিকা অফিসে নিয়ে যেতাম। হাসিম ভাই সত্য কথা বলতেন। ফাস্ট পেইজে না হলেও লাস্ট পেইজে নিউজটি অবশ্যই যাবে। আজ হাসিম ভাই আমার সেই কথা স্মরণ করলেন।’ ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের সভাপতি মো.শামসুল আলম খানের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের যিনি সভাপতি তিনি তখন ময়মনসিংহের হট সাংবাদিক শামসুল আলম খান। তাঁর খুঁচা দিয়ে লেখনী, সত্য বের করে আনার লেখনীর মাধ্যমে ইনকিলাবে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা তাঁর কাজ ছিল। ওই সময় নিউজে কোন ফাঁকে আমাদের নাম বাদ গেলে শামসু ভাইকে বলতাম প্রোগ্রামে ছিলাম নাম নেই কেন? জিলা স্কুল মোড়ে আমাদের আড্ডা ছিল। ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। আজকের মতো সাংবাদিকতা এতো সহজ ছিল না। তখনকার সময়ে যখন একটি সংবাদ ছাপা হতো সত্য-মিথ্যা যাই হোক আমরা প্রতিবাদ করতাম। সাংবাদিক ও সম্পাদক ভাইরা আমাদের বলতেন আপনারা লিখিত প্রতিবাদ দেন, সেটি ছাপা হবে। ওই সময় সাংবাদিকতা ছিল সুষ্ঠু, সুন্দর ও নীতিগতভাব কঠোর। তখনকার সময়ে যারা এখনও সাংবাদিকতা করেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আর নবীন সাংবাদিক ভাইদের অভিনন্দন জানাই।’

দৈনিক সন্ধানী বার্তার প্রধান সম্পাদক এবং দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের সম্পাদক ও প্রকাশক মো.শামসুল আলম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম চন্দন, ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল হাসিম, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, মতিউল আলম, আবু সালেহ মো.মূসা, আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক সন্ধানী বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান।

প্রধানমন্ত্রী দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এর চেয়ে বড় সাহসিকতার উচ্চারণ শুনিনি। আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে সহযোগিতা করা। এই দেশ আমার আপনার। এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই এলাকার উন্নয়নে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি এখন তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাদের কল্যাণে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। এক্ষেত্রে আমার পথচলা সহজ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’ তিনি ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের তৃণমূলের উন্নয়নে সংসদে কথা বলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না
ঈদকে ঘিরে ময়মনসিংহের যানজট নিরসনে নিজেই রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক সেই উদাহরণ টেনে বক্তব্যে বলেন, ‘গতকাল (১৭ মার্চ) আমি রাস্তায় গিয়েছিলাম। আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের সুস্পষ্টভাবে বলেছি-চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আমি বিএনপিকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই। যারা এই নীতিতে অটল থাকবে তাঁরা আমার সঙ্গে থাকতে পারবে।’

আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম?
২০১৮ সালের নির্বাচনে শত বাধা বিপত্তির পরেও মাত্র তিন ঘণ্টার ভোটে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে সারা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড গড়েছিলাম উল্লেখ করে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য এবারের নির্বাচনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট সেইভাবে না থাকার বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এবার ৮ ঘণ্টার ভোটে আমি ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোট পেয়েছি। এতো বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম? আমার মনে হয়েছে আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মীদের) এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না
আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না মন্তব্য করে ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘এই ৬৪ বছর বয়সে আর কী চাওয়ার আছে আমার? একটি বাইসাইকেল দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলাম। এরপর একটি মোটর সাইকেল ছিল আমার। আর নির্বাচনের আগে যখন চলতে পারি না আমি মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি পুরাতন গাড়ি কিনেছি। আমার গাড়ি কেনার সক্ষমতা ৮০ সালেই ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। নব্বইয়ের পরে ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও ভালো করেছিলাম। বিলাসিতা আমার কাছে পছন্দ নয়। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এখনও এই অবস্থায় আছি। তবে বাহ্যিকভাবে আমাকে দেখলে মনে হয় আমার চেয়ে বোধকরি আর রিচম্যান হয় না। আমি বলবো, আমি খুবই সস্তায় চয়েজেবল কাপড় পড়ি। আমার কোন শখ নাই। আমার আরেকটি শখ আপনাদের (গণমাধ্যম) সঙ্গে চলতে চাই।’

কালের আলো/এমএসআইপি/এমএইচ

র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‍্যাবের ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার আন্দোলন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার মান, বরাদ্দ, ব্যয়ের কাঠামো, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাত নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা বয়ান চালু রয়েছে। কেউ বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে সেই অগ্রাধিকার বাস্তব নয়। আবার শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই বরাদ্দ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা— কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যয় অবকাঠামো নির্মাণে যাচ্ছে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। কেবল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না।

সরকারের উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার ব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবারের আরো নানা ধরনের খরচ রয়েছে, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবাই শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। মানুষ মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভেতরে ধরে রাখা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার অগ্রগতি হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের শ্রমবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে প্রায় ৫০ লাখ কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই নতুন ধরনের কাজের জন্য দেশের তরুণ সমাজ প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার। ইংরেজিতে যেটা বলা হয়, আগে ছিল ‘ফাইট ফর এডুকেশন’, এখন সময় এসেছে ‘ফাইট ফর আউটকাম অব এডুকেশন’ এর। শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু কারিগরি মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি জোট গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা সংস্কার ও মানোন্নয়নের দাবিকে আরো জোরালোভাবে সামনে আনা যায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়। পরে তাদের ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ওই ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আপাতত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৫৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন