খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আপনারা সেই জায়গায় সংবিধানকে মানছেন, যেখানে সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন: হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
আপনারা সেই জায়গায় সংবিধানকে মানছেন, যেখানে সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন: হাসনাত আবদুল্লাহ

সংবিধানকে বাইবেল বা গসপেল ধরে নিলে বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের উপর জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিধি ৬২ উপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ৬ আগস্ট সর্বপ্রথম ছাত্রজনতা যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর এক মুহূর্তও বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে দেবে না। বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রপতির আদেশের মধ্য দিয়ে বের করে আনা হয়েছিল। যদি এই সংবিধানকে বাইবেল ধরে নেন, এই সংবিধানকে যদি গসপেল ধরে নেন, তাহলে সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হতে পারেন না।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমাদের সর্বশ্রদ্ধেয় সাংসদ আন্দালিক রহমান পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন উনি যখন বললেন যে, সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চায় তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধীর সাথে উনি এলাইন করলেন, টেগ করলেন। তখন ট্রেজারি বেঞ্চের মন্ত্রী যারা ছিলেন তারা সেটাকে টেবিলচাপ দিয়ে সেটাকে সমর্থন দিলেন।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপসহীন লড়াই করে গিয়েছেন বেগম জিয়া। উনি বলেছিলেন যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে যেদিন এই পার্লামেন্ট জনতার সরকারের কাছে যাবে এদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে। ব্যাঞ্চের যারা ছিলেন তারা দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সাথে রাজনীতি করেছেন। এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধ অপরাধীর এলাইন করার যেটার হাততালি তারা দিয়েছেন, সেটির মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে তারা মূলত হচ্ছে অপমান করেছেন কিনা তারা সেটা ভেবে দেখবেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দিয়েছেন। কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দেয়নি। তার মানে এই অভ্যুত্থানের পরে এই সংবিধানের কিছু অংশ উনারা মেনেছেন। কিছু অংশ উনারা মানেননি। উনারা কেবল ওই অংশটাই মেনেছেন যেই অংশটা উনাদের পক্ষে গিয়েছে। যে অংশটা উনাদের বিপক্ষে গিয়েছে এই অংশটা উনারা মানেননি।

‘এই ধরনের প্রকৃতি সম্পন্ন যারা আছেন বাংলাদেশের পার্লামেন্ট যারা দেখছেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যারা কখনো কখনো কনফার্মিস্ট, যারা কখনো কখনো রিফর্মিস্ট তারা মূলত হচ্ছে অপরচুনিস্ট। এখন আমি সংবিধানের কিছু কিছু ধারা মানবো, কিছু কিছু ধারা মানবো না, আমি কখনো কখনো সাংবিধানিক কখনো কখনো আমি অসাংবিধানিক।”

তিনি বলেন, এই সংবিধানকে আমি ধারণ করতে চাই, মেনে চলতে চাই, সেদিন ৬৪ বিধি অনুযায়ী অটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই সংসদে প্রশ্ন রাখতে চাই, তৎকালীন বর্তমান রাষ্ট্রপতি চুপ্পু তখন বলা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করতে হবে। সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করা হয়েছিল, সেটা আমাদেরকে অটর্নি জেনারেল জানাবেন। যেই হেয়ারিংটা হয়েছিল, এই হেয়ারিং-এ উনি উপস্থিত ছিলেন কি না? তখনকার সময় যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন ওবায়দুল হক, তিনি তখন কোথায় ছিলেন? সেই রায়ের কপিটা আমরা দেখতে চাই।

তিনি বলেন, সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হয়েছিল অভ্যুত্থানের জনরায়ের ভিত্তিতে।  ঠিক সেই সেই জায়গায় সংবিধানকে আপনারা মানছেন, যেই যেই জায়গায় সংবিধান থেকে আপনারা বেনিফিটেড হবেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছর ধান খেতে ঘুমাতে হয়েছে। ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।  মহাসচিব কান্না করে বলেছে। তাদের নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে রিক্সা চালায় চালিয়ে জীবন নির্বাহ কর। আজকে দেখেন আজকে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী তাদের রক্ত দিয়েছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কোন রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে আমি আলাদা করতে চাই না। ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের রক্ত শ্রম ঘামের মধ্য দিয়ে এই হাসিনার পতন হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

তিন মাসে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯৬৮৫: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
তিন মাসে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯৬৮৫: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক নির্মূলে তিন মাসে দেশব্যাপী নয় হাজার ২৫১টি মামলায় নয় হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে ৩০ হাজার ৭৪৪টি অভিযানে দতাদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস‌্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক কিশোরগঞ্জ জেলাসহ দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজে মাদকের ভয়াবহতা হ্রাসকল্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বৃহত্তর পরিসরে মাদকের সরবরাহ হ্রাস, চাহিদা হ্রাস এবং ক্ষতি হ্রাস এই তিনটি কর্মকৌশল নিয়ে সারাদেশে কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলাসহ সারাদেশে ১৮০ দিন, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর এবং আগামী ০৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলাসহ কিশোরগঞ্জ জেলায় অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী ও স্পটগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক ও সন্ত্রাস ধীরে ধীরে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয়। কেবল পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাস এর মূলোৎপাটন করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবার সম্মিলিত সহযোগিতা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

দেশে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা) তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১৭ জুন) মন্ত্রণালয়ে তথ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে, রাষ্ট্রদূতকে তিনি এ বিষয়ে জানান।

সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

বৈঠকে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারে।

রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে।

তথ্যমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম খাতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘ড্রাফট কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে এই ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: একদিনে ডিএমপির ২ হাজার ১১৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: একদিনে ডিএমপির ২ হাজার ১১৪ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এক দিনে ২ হাজার ১১৪টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (১৭ জুন) ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে।

ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৩টি বাস, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৭টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৪টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ১৯টি সিএনজি ও ৮১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৯টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২২টি বাস, ৫টি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৮৫টি সিএনজি ও ২৭৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৭৭টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২১টি বাস, ১৫টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ২৬টি সিএনজি ও ৬৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯৫টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১০টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ডভ্যান, ২২টি সিএনজি ও ৫৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৭টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৫টি বাস, ১০টি ট্রাক, ২১টি কাভার্ডভ্যান, ৫৬টি সিএনজি ও ২৫৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪০৫টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৯টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৫টি কাভার্ডভ্যান, ৯৩টি সিএনজি ও ১৮৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৫১টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২৮টি বাস, ৮টি ট্রাক, ৯টি কাভার্ডভ্যান, ২৫টি সিএনজি ও ৬৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২১৩টি মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযানের সময় ৩৯৫টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন