খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বদলে যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতি

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলোর পদ্ধতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে সরকার। এসব পরীক্ষায় যেকোনো বিষয় পুনঃনিরীক্ষণ করার আবেদন বা অনুত্তীর্ণ হলে সর্বোচ্চ চারবার পরীক্ষা দেওয়ার যে বর্তমান নিয়ম রয়েছে, সেটি পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, পরীক্ষার হলে প্রযুক্তিগত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বর্তমান আইনেই পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন।

এরই অংশ হিসেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা এবং দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০-তে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শনিবার (১১ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রের সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যমান আইনে এমন কিছু পরিবর্তনের কথা জানান। এছাড়া সারাদেশের সব শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরিবর্তন আনার কথাও চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কে রিলেটেড, আমরা কি জানি না? তাদেরকেও আইনের আওতায় আনবো। আইন এমনভাবে স্টিপুলেট করবে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য না, আমাদের জন্য।’

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতির বদলে পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে হওয়া জালিয়াতির জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই বিদ্যমান আইনে বেশ কিছু সংস্কার, পরিবর্তন ও আইন যুগোপোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাহিম ফয়সাল বলেন, ‘এরই মধ্যে বিদ্যমান আইনটিকে কীভাবে যুগোপোযোগী করা যায়, সেটির প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ চলছে।’

এদিকে পাবলিক পরীক্ষায় পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতি বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলে সেটি ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত হবে’ উল্লেখ করে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।

অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাজহারুল হান্নান বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত হবে। পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে দুর্নীতি আরও প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে সুযোগটা সৃষ্টি হয়ে যাবে, করাপশন বা দুর্নীতি ঠেকানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’

পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের অর্থ কী?

বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানান, পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ বলতে পুনর্মূল্যায়ন বোঝায় না।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতায় বা উত্তরপত্রের ভেতরে কোনো প্রশ্নোত্তরে পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক মূল্যায়ন না করলে পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতিতে বর্তমানে নম্বর দেওয়া যায়।

উত্তরপত্রের ভেতরে কোনো নম্বর কভার বা প্রথম পাতায় ওঠাতে ভুল হলে সেটি সংশোধন করা যাবে। একইসঙ্গে কভার পৃষ্ঠায় ওঠানো নম্বরের যোগফল ভুল হলে সেটিও সংশোধন করা যাবে। কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতিতে পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর কোনো অবস্থাতেই সংশোধন করা যায় না।

শিক্ষা বোর্ডগুলো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিসহ পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করে এই পদ্ধতিতে। পরবর্তীতে যারা, যেসব বিষয়ে আবেদন করে, তাদের রোল নম্বরগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। পরে শিক্ষা বোর্ডগুলো আবেদন করা বিষয়ের উত্তরপত্র নিরীক্ষণ করে ফল প্রকাশ করে থাকে।

বিষয়টির ব্যাখ্যা করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘গণনায় ভুল, বৃত্ত ভরাটে ভুল অথবা কোনো প্রশ্ন অমূল্যায়িত থেকে গেলে সেটিতে নম্বর দেওয়ার যে সুযোগ, সেটিকেই পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতি বলে।’

পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি কী? এতে আপত্তি কেন?

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বৈঠকে পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতাকে নতুন করে মূল্যায়ন করা বোঝায়। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে নম্বর কমতে পারে, একই থাকতে পারে এবং বাড়তেও পারে। পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করলে তিনটি সুযোগই পাবেন একজন পরীক্ষার্থী।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম জানান, শিক্ষামন্ত্রী এই বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে নীতিমালা বা আইনে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতিই চালু থাকবে।

এদিকে শিক্ষকরা যখন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন, তা বেশ নিরপেক্ষভাবেই করেন বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. মাজহারুল হান্নান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যখন খাতা দেখেন তখন সেটি বোঝা যায় না যে, সেটি কার খাতা, কোথাকার খাতা, কিসের খাতা। তার পরিচয় কিন্তু খাতায় গুপ্ত থাকে, কোড নম্বর হিসেবে থাকে। সেজন্য এটা বোঝা যাবে না যে, কোন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী, মেয়ে না ছেলে কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই।

মাজহারুল হান্নানের দাবি, ‘এটা খুবই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় হবে। এই সুযোগ তৈরি হলে সমস্ত খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন হবে। সেক্ষেত্রে টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি হবে, তাই এটা হতে দেওয়া কোনোমতেই উচিত না।’

ফেইল করলে দুইবারের বেশি পরীক্ষা দেওয়া যাবে না

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ বা ফেইল করলে দুইবারের বেশি ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন না। একজন একবার ফেইল করলে, দুইবার ফেইল করলে, তিনবার ফেইল করলে, চারবার পর্যন্ত আপনারা রেজিস্ট্রেশন করে কোয়েশ্চেন করেন। আচ্ছা আপনার কি দায়িত্ব হয়ে গেছে ফেইলিওর স্টুডেন্টের লিগ্যাসি ক্যারি করা, এটা কি আমাদের দায়িত্ব? দুইটার বেশি সুযোগ পাবে না।’।

তবে শিক্ষক নেতা মো. মাজহারুল হান্নান মনে করেন, অনুত্তীর্ণ হওয়া পরীক্ষার্থীকে পড়াশোনা করেই আবার পরীক্ষায় বসতে হবে। তাই তাকে এই সুযোগ দেওয়াই যায়। এক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া উচিত। যদি কোনো ছাত্র পড়তে চায়, পরীক্ষা আবার দিতে চায় তাহলে সেখানে বাধা দেওয়ার কী আছে। সে দিতে পারে।’

ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধে আইনে সংশোধনী আনা হবে

দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা যেমন: এসএসসি, এইচএসসি, বৃত্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা ফাহিম ফয়সাল বলেন, ‘১৯৮০ সালের আইনটি দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁস বা ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ওই আইনে ছিল না। বর্তমান আইনের আওতায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতি, অসদুপায় অবলম্বন এবং অর্গানাইজড ক্রাইম বা অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘অর্গানাইজড ক্রাইম যেমন একটা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী, অনেকে মিলে অপরাধ করলে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো কোচিং সেন্টারও যদি জড়িত থাকে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্যই কাজ চলছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই আইন কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে যেসব অপরাধ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করা হয়, সেগুলোকে বিদ্যমান আইনে শাস্তির আওতায় কতটা অ্যাকোমোডেট করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে।’

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়, এখনো খসড়া পর্যায়ের কাজ চলছে বলে জানান ফাহিম ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আইন কমিশনও কাজ করছে, সুপারিশ প্রণয়ন এই আইনটাকে কীভাবে যুগোপোযোগী করা যায়। সব মিলিয়ে এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

কালের আলো/জেএন

আগামী পাঁচদিনের বৃষ্টিপাত নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
আগামী পাঁচদিনের বৃষ্টিপাত নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস

আগামী ৫ দিন কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি, কোথাও বজ্রসহ আবার ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকায় দেশের আট বিভাগেই এ সময়ে কম-বেশি ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ দিকে সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে, এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কালের আলো/এসএকে

রেকর্ড পরিমাণ তাপদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৬ শহরে রেড এলার্ট জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
রেকর্ড পরিমাণ তাপদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৬ শহরে রেড এলার্ট জারি

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপদাহে ভেঙে যাচ্ছে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড। কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। তীব্র গরমে স্কুল বন্ধ, যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

বুধবার (২৪ জুন) ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোম ও মিলানসহ ১৬টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তীব্র গরমের কারণে যুক্তরাজ্যে কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ভ্রমণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি থাকায় গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে গত কয়েক দিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসেও বুধবার থেকে অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী আমস্টারডামের কিছু উন্মুক্ত সুইমিংপুলে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচলও কমিয়ে আনা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপপ্রবাহ পূর্ব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে। পোল্যান্ডে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার আশঙ্কায় উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইভাবে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল ও হাঙ্গেরিতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে।

ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী মনিক বারবু জানিয়েছেন, দেশটিতে তাপদাহ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদিও আগামী সপ্তাহে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, এরপর আবারও চরম গরম ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডলের বিশেষ অবস্থা ও বায়ুপ্রবাহের কারণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তীব্র গরমের প্রভাবে লন্ডনে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সৈন্য ও ঘোড়ার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজধানী লন্ডন ও উইন্ডসরে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক কিছু কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন।

বুধবার (২৪ জুন) তিনি এ রিট দায়ের করেন। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে রুল জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেন প্রতিপক্ষ সরকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, যাতে তারা আইন অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন রহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেতে পারে। কারণ আইনটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধানের বিধানগুলোর পরিপন্থি হওয়ায় সেই বিষয়টিও অবৈধ ও বাতিল চাওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ