খুঁজুন
                               
, ,
           

দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদকে হেনস্তা প্রসঙ্গে যা বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদকে হেনস্তা প্রসঙ্গে যা বলল ভারত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ইমিগ্রেশনে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, জাহেদ উর রহমান তার ব্যক্তিগত বেসরকারি পাসপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন। তার সার্ক ভিসা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও তিনি বৈঠকে যোগ না দিয়ে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন’।

এরআগে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গত ১৪ জুন দিল্লিতে গেলেও ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে পড়েন জাহেদ উর রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয় উপদেষ্টা এবং তার পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রীর সমান।

অভিযোগ রয়েছে, কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দেয়। যদিও বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ নানা পক্ষের তৎপরতায় তাকে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে পর শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

পরে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে ডেকে ঢাকার প্রতিবাদপত্র তার হাতে তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব

চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। চলমান গ্যাস সংকটে উৎপাদন ধরে রাখতে অস্বাভাবিকভাবে খরচ বাড়ছে। বাড়তি ওভারটাইম দেওয়া ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে টেক্সটাইল-পোশাক খাত মিলিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার উৎপাদন ব্যাহত ও ক্ষতি হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

একইরকমভাবে ধুঁকছে সিরামিক এবং স্টিল শিল্পখাত। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুৎ ও ডিজেল দিয়ে রোলিং মিল অপারেশনে রাখতে প্রতি টন স্টিল উৎপাদনে বাড়তি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মইনুল ইসলাম সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভাটিতে হঠাৎ করে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নামলে প্রতিদিন পঁচে নষ্ট হওয়া কাঁচামাল ও উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকার ওপর। এই ক্ষতির মুখোমুখি এখন সিরামিক শিল্প।

গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুত উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরিবহন খাতেও প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা। বাড়ছে বেকারত্ব। বাড়ছে অথনৈতিক ঝুঁকি।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর জুন থেকে ২০২৬-এর জুন—এই দুই বছরে মোট ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি বস্ত্র/পোশাক শিল্প, বাকি ২৮৭টি পোশাকখাত বহির্ভূত। এতে কমবেশি ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জুলাই ২০২৬-এর ভয়াবহ গ্যাস সংকটের প্রভাব। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো বলছে, বর্তমান সংকটে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০০ শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, সময়মতো শিপমেন্ট না হলে ক্রয়াদেশ বাতিল, জরিমানা, বাজার হারানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক পরিবারকে গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ এলপিজির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ গ্যাস না পেলেও আবাসিক গ্রাহকদের বিল দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়তে পারে। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন ঋণ বিতরণও বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু শিল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে আর্থিক খাতেও ছড়িয়ে পড়বে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও দুর্বল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার হিসাব বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। অথচ স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায় গড়ে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে।

তবে গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। ফলে, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজিসহ সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গ্যাসের স্বল্পচাপের সংকটটা তীব্র হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমবে, এটি বহু বছর ধরেই জানা ছিল। কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন করা হয়নি। এখন আমরা সেই সিদ্ধান্তহীনতার মূল্য দিচ্ছি।’

কালের আলো/এম/এএইচ

ঢাকায় হালকা বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় হালকা বৃষ্টির আভাস

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কবার্তা বা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়নি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং হালকা বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কোনো নদীবন্দরের জন্য সতর্কবার্তা নেই এবং কোনো ধরনের সতর্ক সংকেতও প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাকিস্তানে কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটার কাছের দুর্গম সোরাঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি খনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সূত্র: আল জাজিরা।

মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা প্রায় শেষ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) এক কর্মকর্তা শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে জানান, ‘এ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও কর্তৃপক্ষ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

এর আগে প্রদেশের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

অঞ্চলটির আরেক জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লা খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের কয়লা খনি শিল্পে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মৌলিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি ও স্বল্প মজুরি সত্ত্বেও, বেলুচিস্তানের হাজারো মানুষ জীবিকার জন্য কয়লা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তানের বৃহত্তম হলেও সবচেয়ে অনুন্নত এই প্রদেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।

খনি শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, খনির মালিকরা নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেন না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামও সরবরাহ করেন না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ