খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বাংলা বছরের শেষদিন

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বাংলা বছরের শেষদিন

ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।

আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।

চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।

গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।

খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।

সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।

এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে।

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ।

বাসস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে ধানমন্ডি-হাতিরঝিল লেক: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে ধানমন্ডি-হাতিরঝিল লেক: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

রাজধানীর ধানমন্ডি ও হাতিরঝিল লেককে আরও পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও জনবান্ধব করে তুলতে সরকার সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমন্ডি লেকে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে হাতিরঝিলেও চলমান সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

শনিবার (২৭ জুন) হাতিরঝিল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর লেকগুলো অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এখন সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমন্ডি লেক সুন্দর একটি লেকে পরিণত হবে। অন্যদিকে প্রায় এক মাস ধরে হাতিরঝিল লেকে উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আমরা নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করছি।

হাতিরঝিলের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লেকের দুই পাশে মাটি ফেলে সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর যাতে কোনো হকার সেখানে বসতে না পারে, সেজন্য আনসার সদস্য মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন কোয়ার্টারে ৫০ শতাংশের বেশি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রতি শনিবার উপজেলা পর্যায়ের সব স্কুল ও কলেজে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির অংশ।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার দেশের মানুষকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দিতে কাজ করছে। আমরা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না। তবে অবশ্যই একটি বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীর বিসিক লিংক রোড দখল করে চলছে কাঠের ব্যবসা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিসিক লিংক রোড দখল করে চলছে কাঠের ব্যবসা

রাজশাহী নগরীর বিসিক লিংক রোড দখল করে অবাধে চলছে কাঠের ব্যবসা। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কাঠের ব্যবসা চলতে থাকায় একদিকে যেমন পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে অন্যদিকে তেমনি নষ্ট হচ্ছে রাস্তার সৌন্দর্যও। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যথা নেই।

নগরীর বিজিবি সেক্টর হেড কোয়ার্টার গেট থেকে বিসিক ভবন পর্যন্ত বিসিক লিংক রোডের অবস্থান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই রোডের অনেকটা অংশ জুড়েই ফেলে রাখা হয়েছে কাঠের গুড়ি। কাঠের গুড়ি যেমন ফেলে রাখা হয়েছে ফুটপাত জুড়ে তেমনি রাখা হয়েছে রাস্তার উপরেও।

বিসিক লিংক রোডটি একসময় এক লেনের অত্যন্ত সরু একটি রাস্তা ছিল। রাস্তাটি সেই সময় ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গিয়েছিল। যানবাহন চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হতো। বর্তমানে রাস্তাটি তিন লেনের করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি লেন দিয়ে ভারি যানবাহনসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে।

অন্য লেনটি করা হয়েছে হালকা যানবাহনসহ পথচারী চলাচলের জন্য। আর এই লেনের একটা বড় অংশ জুড়ে কাঠের গুড়ি ফেলে রেখে করা হচ্ছে কাঠের ব্যবসা। জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক নামের ওই কাঠ ব্যবসায়ীর সেখানে একটি স’মিল আছে।

আর এই স’মিলের ব্যবসা চালানোর জন্যই মূলত কাঠের গুড়িগুলো আনা। অনেকে এখান থেকে কাঠ ক্রয়ও করে থাকেন। কাঠের গুড়ির আঘাতে ফুটপাতে বসানো টাইলসগুলো ভেঙে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন তিন লেনের এই রাস্তাটির দু’টি লেন মাঝে মধ্যে ঝাড়ু দেয়া হলেও তৃতীয় লেনটি কখনোই ঝাড়ু দেয়া হয় না। ফলে সেটি ময়লা আবর্জনায় একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া এখানে দু’টি মোটর গ্যারেজ থাকায় রাস্তার উপরেই যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

রাস্তা ও ফুটপাতের উপর এখন দোকানপাটও বসতে শুরু করেছে। এছাড়া লেনের পাশে যেখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে বাঁশ পুঁতে দড়ি টানিয়ে জামা কাপড় মেলার ব্যাবস্থাও করা হয়েছে যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু লাগছে। কাঠগুলো ফুটপাত ও রাস্তার উপরে এমনভাবে ফেলে রাখা হয়েছে যে জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।

কয়েকজন পথচারী জানিয়েছেন, যানবাহন ও মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য রাস্তাটি প্রশস্ত করা হলেও এসব কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত করার সুবিধা জনসাধারণ পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না। এখানে কোন উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়না বলে তাদের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে স’মিল মালিক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার মিলে কাঠ রাখার পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকায় তিনি কাঠগুলো ফুটপাত ও রাস্তার উপরে রেখেছেন’।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি

 

ইতালিতে এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন, গুরুতর আহত বড় ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইতালিতে এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন, গুরুতর আহত বড় ছেলে

ইতালির রাজধানী রোমে দুষ্কৃতিকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯ টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটেছে এ ভয়াবহ ঘটনা।

নিহতদের মধ্যে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বসুরহাটে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন।

নিহত বাকি ২ জন হলেন কামাল হোসেনের স্ত্রী এবং ৫ বছর বয়সী মেয়ে। দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন কামাল হোসেনের বড় ছেলে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অস্ত্র হাতে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীর অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সি কন্যাসন্তান।

এসময় কামালের বড় ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে হামলাকারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় সে সাহায্যের জন্য ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বড় ছেলেকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।

ইতালীয় পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার জেরে ঘটেছে- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাংলাদেশিরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘাতককে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি মর্মান্তিক, লোমহর্ষক অপরাধ। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।”

ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে নিহতদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে অগ্রগতির বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি