খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল বিতর্ক ও বিভ্রান্তি। এআই-নির্ভর ছবি ও আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ‘অপ্রকৃত কৃষক’ দাবি করা হলেও সরেজমিন তদন্ত, প্রশাসনের যাচাই-বাছাই ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি- কবির হোসেন একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক এবং নীতিমালা অনুযায়ী কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাত থেকে কার্ড নেন ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনসহ ১৫ জন কৃষক। একইসঙ্গে কৃষক হিসেবে কবির হোসেন সেখানে সাবলিলভাবে বক্তব্য রাখেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে বিত্তশালী বা ‘অপ্রকৃত কৃষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে তার পূর্বে পোস্ট করা এআই-নির্ভর কিছু ছবিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে বুধবার বিকেল ও বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ভিন্ন বাস্তবতা দেখা গেছে। কবির হোসেন আসলে ‘প্রকৃত কৃষক’। তিনি একটি সাধারণ টিনের ঘরে বসবাস করেন। বাড়ির সামনে সবজি চাষ এবং পেছনে গরু, হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ, পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত।

মো. জয়নাল, কুরবান আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, কবির নিয়মিত কৃষিকাজ করেন এবং পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন। এই দুই কার্যক্রম একসঙ্গে করায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তবে কৃষিকাজই তার মূল পেশা, এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই টাঙ্গাইলের কৃষক কার্ড কার্যক্রম নিয়েও নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, কৃষক কবির হোসেনের জীবনের পথচলাও সংগ্রামমুখর। ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে সফল না হয়ে দেশে ফিরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তার একটি সেচ মেশিন রয়েছে, যা দিয়ে তিনি নিজে এবং আশপাশের জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি ফেসবুক পেইজে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বাড়তে থাকায় কৃষি প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার (১৫ এপ্রিল) কবির হোসেনের বাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানান, কবির হোসেন প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও সরেজমিনে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে। বুধবার রাতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক হিসেবে কার্ড পাওয়ার যোগ্য। জেলা প্রশাসক শরীফা হক কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে কবির হোসেন বলেন, আমি একজন কৃষক। বাবার রেখে যাওয়া অল্প জমি আছে, পাশাপাশি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেসবুকে কনটেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। আমার কিছু এআই ছবি পোস্ট করার কারণে এখন অনেকে ভুল বুঝছে। একজন কৃষকের কি ভালো পোশাক পরা অপরাধ? সাজিয়ে-গুছিয়ে শুদ্ধভাবে কথা বলা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি সত্যিই বড় অপরাধী।

তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। আমাকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অনেকে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। এ কারণে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। আমি এর সঠিক বিচার চাই। এ সময় কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও কৃষক কবির হোসেনের পক্ষে কথা বলেছেন। ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করছেন এবং গরু পালন ও সবজি চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের জন্য আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়; তিনি প্রান্তিক পর্যায়ের একজন কৃষক।

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড গ্রহণের আগে কবির হোসেন সুসংগঠিতভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এবং তার কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশের কৃষকদের সম্মানিত করতে যে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেটিকে কেউ যাতে কালিমা লেপন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরেক বার্তায় সরকারি সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর দেশটির জনগণের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, লড়াইয়ে পিছু হটা হবে না।

জোলঘাদর বলেন, সামরিক ক্ষেত্র, কূটনৈতিক অঙ্গন এবং রাস্তায় নেমে আসা জনগণ তাদের সাহসী প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুকে নতজানু করেছে।

গত মার্চে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান জোলঘাদর। তিনি নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হন। লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

জোলঘাদর এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যুর পর তার নিয়োগ ইরানে আইআরজিসির প্রভাব আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন নিরাপত্তা প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্য ও সংহতিও এই সংগ্রামের আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র।

তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো কথা বা কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রিয় ইরানকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশ দুইটির মধ্যে এখনো শান্তি আলোচনা চলছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসআর/এএএন 

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

আজ পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়ার অপেক্ষায় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

গতকাল থেকেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী খ্যাত মিনায় অবস্থান নেন লাখ লাখ হাজি। তারা সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সারা বিশ্ব থেকে এবার ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে মক্কায় জড়ো হয়েছেন। নানা বর্ণের, নানা ভাষার মুসলিমরা মিশেছেন একই স্রোতে। আল্লাহর মেহমানরা আজ আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান করবেন। এই মরুর ময়দানে ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা দেওয়া হবে। এবার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফির খুতবা দেওয়ার কথা রয়েছে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এই বিস্তীর্ণ ময়দানে হাজিরা সারা দিন পার করবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আল্লাহর জিকির-আসগার, তিলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানের দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাজিরা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে হাজিরা অত্যন্ত কাতর ও বিনয়ী কণ্ঠে একযোগে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ হাজিদের নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। হাদিসে আছে, ‘আরাফাহর দিন আল্লাহ এত বেশি পরিমাণ জাহান্নামিকে অগ্নি থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিবসে দেন না।’ (মুসলিম শরিফ)

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিন (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।

পবিত্র কাবা তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ইত্যাদি হজের ইবাদত। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা আগামীকাল বুধবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ