খুঁজুন
                               
, ,
           

‘বিদেশে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া উচিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া উচিত’

যেসব দূতাবাস বিদেশে শ্রমিক ভাইদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না, সেসব দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া উচিত-এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক নিশ্চিত হবে এবং মালিক-শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখবে।’

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ দূতাবাসগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেসব দূতাবাস বিদেশে আমাদের শ্রমিক ভাইদের নূন্যতম স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে না, সেসব দূতাবাস চালু রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে সেসব দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

সংসদে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে গিয়ে ইতিহাসের শিক্ষক বা শিক্ষার্থী হতে চাই না। জামায়াত জনগণের অধিকারের কথা বলতে চায় এবং শোষিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। যুক্তরাজ্যের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য এই সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নয়; ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পেতে পারে। বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে, তবে নতুন এই অংশীদারত্ব সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে সেই প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় জনবল সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময় এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করে পরে ব্যবস্থা নিলে চলবে না। আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কারণেই দুর্যোগ প্রস্তুতি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, সঠিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।

হুমায়ুন কবির জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো নির্দিষ্ট দুর্যোগে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজন দেখা দিলে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান স্থানান্তর, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১০ সাল থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। নতুন এই সমঝোতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মানবিক সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি করবে।

সারাহ কুক বলেন, এই অংশীদারত্ব অতীতের সফল সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হুমকি বা চাপের পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা কোনোভাবেই শুরু করবে না তেহরান।

তিনি লিখেছেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে না। আপনার স্বাক্ষরের প্রতি অটল থাকুন।’

মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ বক্তব্যে আবারও ইরানকে হুমকি দেন, যার জবাবে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘কাজ শেষ’ (আবারো হামলা) করে দেবে’।

মার্কিন বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজটা শেষ করা কঠিন হবে না। তবে আমি একটা সমঝোতায় আসতে চাই, কারণ আমি ৯১ মিলিয়ন মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না… কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মধ্যেই আমরা তাদের বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অচল করে দিতে পারি। প্রতিটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা তা জানে।’

ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি এবং আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বানের দ্বিমুখী নীতিকে তীব্র নিন্দা জানান আরাঘচি।

নিজের পোস্টে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে বিপুল সমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ গর্বিত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা এবং তার কীর্তিকে সম্মান জানাতে ঐক্য ও সংহতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছে। তারা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী— কেউই কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

Oplus_131072

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তারা বাংলাদেশে ফিরেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারীদের দ্বারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে