খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

নতুন মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত করতে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন অমিত শাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
নতুন মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত করতে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে? তা চূড়ান্ত করতে রাজ্যের নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে করতে যাচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে তাকে। এই কাজের জন্য সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে প্রতাশিত এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এবারে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা- ২০৭ আসনে জিতে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর ফলে ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান হচ্ছে।

যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বাছার সময় সেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাঠায় বিজেপি কেন্দ্রেীয় নেতৃত্ব। তারা দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পরিষদীয় দলনেতার নাম ঘোষণা করা হয়।

এবার বিধানসভার অন্দরে বিজেপির ভূমিকা বদলাতে চলেছে। বিরোধী ভূমিকার বদলে বিজেপি এখন বিধানসভায় সরকারপক্ষের ভূমিকায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে নতুন মুখ্যমন্ত্রীই হবেন বিধানসভায় শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা। অর্থাৎ, এবারের বৈঠকে শুধু পরিষদীয় দলনেতা নন, একই সঙ্গে স্থির হয়ে যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামও।

বিভিন্ন রাজ্যে পরিষদীয় দলনেতা বাছাই প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বভারতীয় স্তরে দলের প্রথম সারির মুখদেরই বাছা হয়। কিন্তু অমিত শাহকে এই কাজের জন্য বেছে নেওয়ার ঘটনা খুবই কম।

নরেন্দ্র মোদির সরকারে যিনি কার্যত ‘সেকেন্ড ইন-কমান্ড’-এর ভূমিকায় থাকেন, তাকে পর্যবেক্ষক করা হল পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের জন্য। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং এই জয়কে যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা এই সিদ্ধান্ত থেকে আরও এক বার স্পষ্ট হল।

এদিকে পশ্চিবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

অমিত শাহের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তবে দলের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, গত পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে সবচেয়ে বড় দাবিদার প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী এই নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানিপুরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী তিনি ভবানিপুরে লিড নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তবে সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘না, আমি এই স্পর্শকাতর প্রশ্নের কোনও মন্তব্য করব না।বিজেপি হলো সম্মিলিত নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদির মহান নেতৃত্বে আমরা এই নির্বাচনে লড়েছি এবং ফলাফল আসছে’।

এদিকে শুভেন্দু পরই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি এবং দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ এবং দলের প্রসারে তার ভূমিকার কারণে তাকেও মুখ্যমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ শমীক ভট্টাচার্যের নামও আলোচনায় আছে। রাজনৈতিক মহলে তাকে একজন দক্ষ বক্তা এবং তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও আছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং ওয়ার রুমে থেকে ভোট প্রক্রিয়া তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাকে এই পদের দৌড়ে সামিল করেছে।

সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী নেতা নিশীথ প্রামাণিকও রযেছেন এই তালিকায়। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উত্তরবঙ্গে দলের শক্ত ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় তার নামটিও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়াও সাবেক সাংবাদিক এবং পদ্মভূষণ জয়ী স্বপন দাশগুপ্তও এই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। তাকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী মহলের একজন প্রতিনিধি এবং ‘ভদ্রলোক’ রাজনীতির মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: আনন্দবাজার

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম : তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম : তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।’

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘চীন মৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা.জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। সরকারপ্রধান আরও বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ। যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়। #

কালের আলো/আরআই/এমকে

চারদিনের ডিসি সম্মেলনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।

আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা
  • উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জোর
  • মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে
  • জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা
  • ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ

জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নানা বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে শেষ হওয়া এই সম্মেলনে দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন ডিসিরা। শেষ দিন সন্ধ্যায় মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় বিশেষ শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ছন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে কমব্যাট (মোকাবিলা) করা, ফেস করা যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে এটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।’

সম্মেলন সম্পর্কে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিলাসী প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিসিদের সামনে ৪৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়েও নির্দেশনা আসে। সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সম্মেলন শেষে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলায় ফিরছি। এগুলো জনগণের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ হবে বলে আশা করি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাহিনীটির প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বুধবার (৬ মে) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বিমানবাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবাহিনী প্রধান সম্মেলনে উপস্থিত বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামমূলক বক্তব্য দেন। দেশের আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি তিনি দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

এসময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান এবং বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করেন।

জানা গেছে, বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসার ও বিমান সদরের পরিচালক সরাসরি এবং ঢাকার বাইরে অবস্থিত বিমানবাহিনী ঘাঁটির এয়ার অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসাররা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ