খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সড়কে এআই ক্যামেরা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ
সড়কে এআই ক্যামেরা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব

Oplus_131072

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের ফলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন মানার ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড় এবং ব্যস্ত সড়কগুলোতে এআই-ভিত্তিক আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ-লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন, জেব্রা ক্রসিং দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না বাঁধা এবং অননুমোদিত ভিআইপি লাইটের ব্যবহার প্রভৃতি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ১২০টি এআই-চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বর্তমানে ২০টিরও বেশি ক্যামেরা পুরোপুরি সচল রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার ২০টিরও বেশি প্রধান পয়েন্টে বর্তমানে এআই ক্যামেরা কাজ করছে, যা ট্রাফিক মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির।

মুখপাত্র আরও বলেন, গত সোমবার পর্যন্ত এআই ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে মোট ৫০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে নাসিরুদ্দিন বলেন, এ উদ্যোগে জনগণের সাড়া উৎসাহব্যঞ্জক। এটি জনমনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অনেক চালক ও যাত্রী এখন স্বপ্রণোদিত হয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন।

তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শহরের সড়কে যানজট কমাতেও সহায়তা করছে।

তবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য আরও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে: সড়ক অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, রাস্তার মাঝখানে বাসযাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং একই রুটে বাস, ট্রাক, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইকের মতো ভিন্ন গতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল কমানো।

জানা যায়, যেসব মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, সেখানে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

বিজয় সরণি মোড়ে দেখা যায়, সিগন্যাল লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি স্টপ-লাইনের পেছনে থেমে যাচ্ছে এবং কোনো গাড়ি জেব্রা ক্রসিং দখল করে রাখছে না।

কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেলের মোড়েও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, চালকরা এখন স্বয়ংক্রিয় মামলার ভয়ে কঠোরভাবে সিগন্যাল মানছেন।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যামেরার নজরদারিতে চালকরা আর সিগন্যাল অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না। কেউ লাইন পার হচ্ছে না। বেশিরভাগ চালকই সিগন্যাল মেনে চলছেন। আমরা শুধু দাঁড়িয়ে আছি এবং লাইটের সংকেত অনুযায়ী গাড়ি থামানো বা ছাড়ার ইশারা দিচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এআই-চালিত এই পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরতে পারে, দূর থেকে যানবাহনের ওপর জুম করতে পারে এবং স্পষ্টাক্ষরে গাড়ির নম্বর প্লেটও শনাক্ত করতে সক্ষম।

সিস্টেমটি এমন সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত, যা ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির মালিক শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট (টিটিইউ) জানিয়েছে, বর্তমানে ক্যামেরাগুলো ৬টি ‘লজিক’ ব্যবহার করে বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ডিএমপি সার্ভারে সংরক্ষণ হচ্ছে। পরবর্তীতে টিটিইউ কর্মকর্তারা সেই ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করেন এবং ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল মামলা দায়ের করেন।

কর্মকর্তারা জানান, এ ব্যবস্থা এখনও নতুন হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ বর্তমানে ছোটখাটো আইন লঙ্ঘনকে কিছুটা শিথিল দৃষ্টিতে দেখছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা  বলেন, আইন লঙ্ঘনের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে কি না কিংবা স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে কি না— মামলা করার ক্ষেত্রে আমরা বর্তমানে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিচ্ছি।

বর্তমানে পুলিশ ডাকযোগে মামলা নোটিশ পাঠাচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসএমএস ও অ্যাপভিত্তিক নোটিফিকেশন চালু করার পরিকল্পনা করছে। চালকরা তাদের আইন লঙ্ঘনের ভিডিও ফুটেজ সরাসরি দেখার জন্য লিঙ্কও পাবেন। পুলিশ বলছে, এ পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।

গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই-ভিত্তিক আইন প্রয়োগের উদ্যোগটি শুরু হয়। এর আগে ২৯ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির ডিএমপি সদর দপ্তরে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এআই নজরদারির এই সম্প্রসারণ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার দেশব্যাপী বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। এর লক্ষ্য হলো নগর নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এআই প্রযুক্তি এখন স্মার্ট সিসিটিভি সিস্টেমেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি, পরিত্যক্ত বস্তু, অস্ত্র, সহিংস আচরণ এবং সম্ভাব্য হুমকি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, ডিপফেক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অপপ্রচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্রমশ এআই টুলস-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করছে।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৯ জন শিশু।

বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৮৯ জন শিশু। এ সময়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আরও ২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আরও ২ জনের মৃত্যু

প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষাকাল শুরু হতেই বাড়ছে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। দেশের ৫৮টি জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। এতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৫৭ জন রোগী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দুইজনের মৃত্যু এবং ১৫৭ জনের হাসপাতালে ভর্তির খবর জানানো হয়।

গত রোববার ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু হয়। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। যে ছয়টি জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি তার মধ্যে আছে ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর; সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার এবং রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। অবশ্য এবার গতবারের তুলনায় এখনো প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন রোগী। ওই সময় ডেঙ্গুতে মারা যান ৩০ জন। চলতি বছর এই সংখ্যাটি অনেকটা কম।

তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য সরকারও আগেভাগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স করা হয়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে দুই সিটি করপোরেশনই পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া ও টিএসপি সার কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া ও টিএসপি সার কিনছে সরকার

দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইউরিয়া ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ৩০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। এই সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ৪৬৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৬২৫ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ১২৫ টাকা, যা সার বিক্রির আয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি থেকে মেটানো হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুসারে কাফকোর সঙ্গে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ১৬তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার প্রতি মেট্রিক টন ৫৪০ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে কাফকো থেকে কেনা হবে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

অন্যদিকে বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস-এর কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২১তম (ঐচ্ছিক-৬ষ্ঠ) লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে বহন করা হবে।

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় ২০২৫ সালের ২ জুলাই মরক্কোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নবায়ন করা হয়। নবায়িত চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের এফওবি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১৩ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে ২১তম লটের জন্য মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই টিএসপি সারের চালান আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে পৌঁছাবে এবং তখনই তা কৃষকদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির টিএসপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ মেট্রিক টন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ