খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

তুলে ধরা হলো সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
তুলে ধরা হলো সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি

বর্তমান বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের কাজে অগ্রগতি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারমধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সোমবার (২৫) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে মাহদী আমিন ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিচে সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিনের দেওয়া বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।

আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শুরুতেই পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জনাব সালেহ শিবলী, যিনি ব্যক্তিগত কারণে লন্ডনে গিয়েছেন বলে আমাদের মাঝে থাকতে পারেননি। ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জনাব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার জনাব এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব-১ জনাব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস টিমের সবাইকে।

আপনারা জানেন, চলতি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। তাই সরকারের ১০০ দিনের কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি। দেশের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে, জনগণের অবিস্মরণীয় ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ দুঃশাসনের পর, রক্তস্নাত জুলাই গণভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পেরিয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে, দেশ আজ গভীর সংকট কাটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে; মজবুত করে চলেছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এমন একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভুমিকা পালন করতে চাই, যে সরকার দেশের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে। আর তাই দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোট প্রদানের কালি মোচনেরও অনেক আগে, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই, প্রতিটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বিষয়ভিত্তিক ও খাতনির্ভর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন, যার ফলে পুরো রাষ্ট্রকাঠামো একযোগে লক্ষ্য স্থির করে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অনিঃশেষ কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের অভূতপূর্ব এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে যা সরকারের প্রথম কেবিনেট বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির এই পুনরুজ্জীবন শুধু প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণেই ভূমিকা রাখবে না; বরং জলাধার সৃষ্টি ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা তৈরি করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কীভাবে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল এবং গণমাধ্যমকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। এর বিপরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিটি বিএনপি সরকার দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ নিশ্চিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অশোভন আচরণ ও অশালীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যে প্রয়াস চলছে, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর। সরকার একদিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদন্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষেদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক। গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রীসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

শ্রমবান্ধব রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও দেশব্যাপী শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, কারখানার মালিক-শ্রমিক এবং মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং নগদ অর্থছাড়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ বা আন্দোলনের কারণে অতীতে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিস্থিতি তৈরি হতো, চলমান উদ্যোগের ফলে তা সফলভাবে এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ ট্রেন সার্ভিস ও বিশেষ নৌ-সার্ভিস চালু করেছে। ট্রেনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের সাত দিন আগে থেকেই বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে সার্বিক যাত্রাব্যবস্থা তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত গবাদিপশু খাতের বিকাশ ও বিক্রয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির পশুর বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবার সাধারণ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ব্যাপকভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে।

দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তরুণদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন করে স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সরকার দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আমরা দেখেছি, শিশু রামিসার সঙ্গে এক ভয়াবহ ও নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তার বাসায় গিয়ে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, ইতোমধ্যেই চার্জশিট দাখিল হয়েছে। একই সঙ্গে নিপীড়িত পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যা মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরও একটি উল্লেযোগ্য উদাহরণ হলো: মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালতের মৃত্যুদণ্ড প্রদান। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা দেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

একসময় অন্যায়ের শিকার মানুষ, নির্যাতিত পরিবার কিংবা অসহায় ভুক্তভোগীরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস গণভবনের সামনে অপেক্ষা করতেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একবার দেখা করার জন্য, নিজেদের অসহনীয় কষ্টের কথা জানাতে এবং বিচারের আশায়। ক্ষমতার দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাই ছিল তখন তাদের শেষ ভরসা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের গত ১০০ দিনে এক ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ, যা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

দেশের মানুষের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমরা দেখেছি, গত মাসেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ইতোমধ্যেই প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সেবার আওতায় আনতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মা-বোনদের রান্নার কষ্ট লাঘবে বিশেষ ভর্তুকিসহ ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনসম্পৃক্ততাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। আজ তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুইপাশে, এমনকি বাড়ির উঠানেও মানুষের ঢল নেমে আসে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে মা-বোনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আবেগ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন। এই ভালোবাসাই আজ গণআকাঙ্খার প্রতিফলনে রূপ নিয়েছে। কিছুদিন আগে আমরা আরও দেখেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় অংশ নেন। সেখানে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পান। এটি ছিল নেতৃত্ব ও তরুণ সমাজের মধ্যে একটি ইতিবাচক, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সংযোগের অনন্য উদাহরণ।

শুধু নির্দিষ্ট কোনো জেলা বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়; তিনি যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই শিশু-কিশোর, তরুণ-প্রবীণ, মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও আকুলতা দেখা গেছে। তিনি প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে পথে বাস থামিয়ে শিশুদের আবদার পূরণ করেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং স্নেহভরে তাদের কাছ থেকে ভালোবাসার উপহার গ্রহণ করেছেন। একইভাবে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের মতো মিশে গিয়েছেন। তিনি নিজেকে কোনো দূরবর্তী ক্ষমতাধর বা অতিসুরক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং গণমানুষের প্রতিনিধি ও সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই প্রমাণ করছেন। অনেক সময় সিগন্যালে অপেক্ষা, হেঁটে অফিসে যাওয়া কিংবা অফিস শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি জনমুখী, মানবিক ও অংশগ্রহণভিত্তিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সহনশীলতা, অনন্য মানসিকতা ও মানবিক রাজনীতির পরিচয় দিয়ে আসছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, নির্বাচনে যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন কিংবা যারা ভোট দেননি; তারা সবাই এই বৈষম্যহীন সরকারের সমান সহায়তা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। মহান জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশনটি ছিল দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি মাইলফলক। দীর্ঘ এক দশক পর দেশের মানুষ একটি বহুমাত্রিক, বৈচিত্র্যময় ও সত্যিকার অর্থে কার্যকর সংসদ প্রত্যক্ষ করেছে। ২৫ কার্যদিবসের প্রাণবন্ত এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল অনন্য। এই সংসদে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো দ্রুততার সঙ্গে গঠন করা হয়েছে। সময়ের বিবেচনায় এটি এক অবিস্মরণীয় অর্জন। শুধু তাই নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গ শত-শত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জবাবদিহিতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

সংসদে মাননীয় আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন ফ্লোর ক্রসিং না করে সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি যে বিরল সম্মান ও শৃঙ্খলার প্রদর্শন করেছেন, তা সরকারি ও বিরোধী দলীয় সকল সংসদ সদস্যকে গভীরভাবে বিমোহিত করেছে। এই সংসদ প্রমাণ করেছে যে, আদর্শিক ভিন্নতা ধারণ করেই পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য সরাসরি অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সংসদের দর্শনার্থী গ্যালারিগুলো এখন দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের মূল প্রবেশপথটি উৎসর্গ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। সংসদের রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সংসদের বৈদ্যুতিক চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

রাজনীতি যে কেবল ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং মানুষের সেবা; এই নীতির বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ, সংগ্রাম ও জনসেবায় নিবেদিত নারীদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে তাঁদের প্রাধান্যও নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে জনগণের সাময়িক কষ্টের কথা বিবেচনা করে স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দাঁড়িয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া কেবল একজন প্রকৃত জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতার পক্ষেই সম্ভব। তাঁর সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরল চলাফেরা, আচার-আচরণ এবং গভীর প্রজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সরকারপ্রধানের প্রতি দেশের আপামর জনসাধারণের মাঝে এক অবিচ্ছেদ্য আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই আস্থাকে পাথেয় করে, এই বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজের কাজ সম্পন্ন করবে, তিস্তা ব্যারেজের কাজেও হাত দেবে, ইনশাআল্লাহ।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপসহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে। অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারিতে রাখছে। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত ও স্বার্বভৌম অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।

ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি সংস্কারের ধারক এবং বাহক। বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো মৌলিক সংস্কার হয়েছে, সবগুলো কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় হয়েছে কিংবা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় হয়েছে। ঐতিহ্যগত সেই সংস্কারকে ধারণ করেই ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রণয়ন করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০২২ সালে ‘২৭ দফা’ প্রণয়ন করেছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। ২০২৩ সালে ‘৩১ দফা’ প্রণয়ন করা হয়েছিল চূড়ান্তভাবে এবং সেই ৩১ দফাতেই কিন্তু সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি রয়েছে। আজকের বাংলাদেশে আমরা যা কিছু নিয়ে আলোচনা করি না কেন, তার প্রায় প্রতিটিই বিএনপির সেই ৩১ দফায় রয়েছে। তারপর আমরা ‘জুলাই সনদে’ উপনীত হয়েছিলাম, যেটি গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল। যতটুকু সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সেই জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল; সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে আমরা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় রাখতে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার তিন মাসের বিশেষ আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করে তাদের সহায়তা করছে। অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থাপনাতেও সরকারের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা’ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মেট্রোরেলের নিচের অংশকে সবুজায়নের মাধ্যমে শহরকে শীতল ও বাসযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার জন্য নার্সারিতে চারা উৎপাদন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। দেশজুড়ে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন, প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা আজ থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য উৎসাহ দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্টার্ট-আপ ফান্ডের ঘোষণা দিয়েছেন যা আগামী মাস থেকে কার্যকর হবে।

ফুটপাথ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল সহজ করা এবং একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহরাঞ্চলে অব্যবহৃত প্রায় ২০০টি সরকারি ভবনকে অল্প সময়ের মধ্যেই মাতৃসদন, ক্লিনিকসহ শিশু ও নারীদের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধায় রূপান্তরের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেগা পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে কয়েক কোটি পর্যটক আকর্ষণ এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ নিম্নআয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে কয়েক হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলমান চরম জ্বালানি সংকটের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি হয়ে তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছানো এবং সামগ্রিকভাবে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের কার্যকর ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের শতাধিক আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকে ধারাবাহিক এবং পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের কার্যক্রম সফল করতে একটি নতুন মডেল তৈরি করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি) এর বিতরণ নিয়ে জুলাই মাসেই এই কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার একাধিক স্কুলে একযোগে শুরু করা হবে। একই সঙ্গে একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে, প্রদান করা হচ্ছে মেধাভিত্তিক বৃত্তি।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও স্মার্ট ক্লাসরুম সম্প্রসারণ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালু এবং ভর্তি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারিগটি শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নকে জোরদার করা হচ্ছে, শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর লিংকেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাথে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের ব্যবহারিক বিষয়ে, যার ভিত্তি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তি।

বিশেষত তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী ও বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস প্রদান, কাউন্সেলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা। প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করে আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। পাশাপাশি সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যা দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন যানবাহন নিজে ব্যবহার ও চালনার মাধ্যমে উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সরকারের উন্নয়ন দর্শন হলো প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করে টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া। গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও স্কাউট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তিনি তরুণদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সম্মান দিয়ে সরকার ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আওতায় বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদকে ইতোমধ্যেই ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়ার মাধ্যমে লক্ষাধিক খেলোয়াড় এতে নিবন্ধন করেছেন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি সেল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি জেলার প্রাথমিক নকশা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

সারাদেশে বিদ্যমান ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় নতুন করে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণের কাজ চলছে। জরুরি সেবার জন্য ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসের জনবল ৩০ হাজারের অধিক করার লক্ষ্যে অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলায়ই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন। গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।

নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র সুসংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন নীতিগত সহায়তা প্রদান করা, যেখানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক বৈষম্যহীনভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পান এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পারেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক পথচলায় শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত -এই সম্মিলিত শক্তিই দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

এই কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।’

আসুন, আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গড়ে তুলি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও স্বচ্ছল বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাই, সমস্যার সমাধান করি এবং উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেই। আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে, আমাদেরকে অবশ্যই একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, এবং জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণকে।

আজকের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি সুন্দর এই আয়োজনের জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি প্রেস টিমের সদস্যবৃন্দ জনাব আতিকুর রহমান রুমন, জনাব এস এ এম মাহফুজুর রহমান, জনাব জাহিদুল ইসলাম রনি, জনাব মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মোঃ সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), জনাব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, জনাবা আশরোফা ইমদাদ, জনাব কে এম নাজমুল হক, জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর আরও সবুজ, নির্মল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠবে।

বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি প্রচলিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি। এ লক্ষ্যে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্ট-আপ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশ-সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

জেডআরএফর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান-এর সভাপতিত্বে ও জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের পরিচালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ মো ইউসুফ হায়দার, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও জেডআরএফ‘র পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।

এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফে ছানী, জেডআরএফর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

Oplus_131072

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় উৎস থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এ ডাল সরবরাহ করবে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সারাদেশে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিসিবির মাসিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে উন্মুক্ত জাতীয় দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নাবিল নবা ফুডস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মসুর ডালের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা। সেখানে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দর প্রস্তাব করেছে, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম।

এ ছাড়া টিসিবির বাজার তথ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে স্থানীয় বাজারে সমজাতীয় মসুর ডালের গড় পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। সে হিসাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।

টিসিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল প্রতি কেজি ৮৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ১৬ এপ্রিল ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারও তুলনামূলক কম দরে ডাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণেও স্থানীয় উৎস থেকে ক্রয়কে লাভজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া উৎসের মসুর ডাল আমদানি করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা খরচ পড়বে।

অন্যদিকে ভারতীয় উৎসের মসুর ডালের ক্ষেত্রে এ ব্যয় দাঁড়াবে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে ডাল সংগ্রহকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে টিসিবির গুদামে ১৪ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন মসুর ডাল মজুত রয়েছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ও পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৩৬ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৫৫ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন মসুর ডালের প্রয়োজন হবে। এ কারণে নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এসএকে

ইসলামী ব্যাংক ইস্যু স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংক ইস্যু  স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকবৃন্দের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করবো আমাদের দাবিগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি আমাদের দাবিগুলো মানা না হয়, তাহলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরো বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া শেষে উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের দাবি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে এবং যারা ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করেছে তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা লুটপাট করেছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এই দাবিগুলো আমরা স্মারকলিপি আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। যেহেতু আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, আমরা আশা করি যে আজকের মধ্যে আমাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, আজকের মধ্যে যদি আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা না হয়, তাহলে আগামীকাল আমরা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বসে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। ৩ কোটি গ্রাহক সবাইকে নিয়ে আমরা আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাধ্য করব চেয়ারম্যানের অপসারণ নিশ্চিত করতে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অভিমুখে যাওয়ার পথে পল্টন মোড়ে মিছিলটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েন।

দুপুর ১টার দিকে স্মারকলিপি জমা দেয়ার প্রতিনিধিদল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সড়ক থেকে সবাইকে সরে যেতে বলা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী জানান, বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবেন তারা। এসময় তাদের লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থ মন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়া হবে।

গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি