খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

গরমে নাভিশ্বাস জীবন

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
গরমে নাভিশ্বাস জীবন

রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক ফাঁকা।  মানুষের চলাচল বেশ কম। যাঁরা বাধ্য হয়ে বের হয়েছেন, তাঁরা টের পেয়েছেন গরমে নাভিশ্বাস ওঠা কাকে বলে। ঘরের ভেতরও গুমোট অবস্থা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ গেলে তো কথাই নেই, একেবারে সেদ্ধ হওয়ার দশা। একই অবস্থা সারা দেশেই। বিশেষ করে সারা দেশে দিনভর বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় ত্রাহি অবস্থা জনজীবনের।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৪৫টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ বৃহস্পতিবারও (৪ জুন) অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান এমন তথ্যই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলাও তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে।

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তপ্ত রোদে দিনমজুর, রিকশাচালকরা রোজগারের তাগিদে পথে নামলেও ভয়ংকর রোদে কাহিল হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালে বেড়েছে রোগী। হাঁসফাঁস করছে অন্য প্রাণিকুলও। ঘরের মধ্যে ফ্যান চললে মনে হয় আগুনের হল্কা। আবার ঘরের বাইরে বের হলেই যেন আগুনের ঝাপটা।  বিশেষ করে অল্প সময়ের মধ্যে শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। মনে হয় কোথা থেকে যেন আগুনের হল্কা বের হচ্ছে। আবার এই ভ্যাপসা গরম থেকে কোনো এসি ঘরে প্রবেশ করলে কিংবা ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগলে বেশ কিছুটা প্রশান্তি এনে দেয়। কিন্তু এই ঠান্ডা-গরমে অনেকেই এখন কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরে ঘরে এখন সর্দি-কাশি দেখা যাচ্ছে। আবার শরীরে জ্বরও আসে।

এই ভ্যাপসা গরমে দেদার বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস। আবার আখের রস। এ ছাড়া ফুটপাতের মানহীন বরফমিশ্রিত লেবুর শরবত বিক্রি বেড়েছে। এই ভ্যাপসা গরমে জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পাতলা গেঞ্জির। যা অনায়াসে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে ফুটপাথের বিভিন্ন ভ্যানে। গরমের সুযোগে অনেক বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও দুদিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে গরম পুরোপুরি কমার সম্ভাবনা নেই। এদিকে, গত সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জুন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনা আছে। সেগুলোর মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সাধারণত দেশে জুন মাসে গড় বৃষ্টিপাত হয় ৪৫৯ মিলিমিটার। এটি বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মাস। দেশে সবচেয়ে বেশি ৫২৩ মিলিমিটার গত বৃষ্টি হয় জুলাইয়ে।

চলতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিলকে দেশের সবচেয়ে গরমের মাস ধরা হয়। মাসটিতে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা খুব অস্বাভাবিক। এপ্রিলের বৃষ্টিতে বিশেষত হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশে তীব্র গরমের কারণে প্রতি বছর বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আর্থিক দিক থেকেও এই ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তাপজনিত অসুস্থতায় শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ। টাকার অংকে এই ক্ষতির পরিমাণ ২১ হাজার কোটিরও বেশি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন কর্মীদের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গরম বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণাটিতে ১৯৭৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত দুই ধাপের একটি জরিপের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

এতে দেখা যায়, ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ (ফিলস লাইক টেম্পারেচার) ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে ডায়রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ক্লান্তির মতো স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে বিষণ্ণতার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এই ক্যাম্পেইন চলবে। তবে কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, তবে পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূরীকরণে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তুলে ধরে ড. এমএ মুহিত বলেন, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধত্বের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যেতো। তবে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ চালু হওয়ার পর এই হার অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। আজকাল ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করা শিশু খুব কমই দেখা যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ থেকে ক্যাপসুলগুলো ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল। এরই মধ্যে ক্যাপসুলগুলো সারাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ২৬ জুনের মধ্যে সব বিতরণ কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং ইতিবাচক সাড়া দেন এবং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দেশটির সরকারের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে লি গোওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে। এই খাতের দক্ষতা উন্নয়নে তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ৭০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ৭০০

দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে দিকে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস।

প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ ভবনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি তেল শোধানারগার আছে।

বুধবার ছিল দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন। স্পেনের এক সময়ের উপনিবেশ ভেনেজুয়েলায় প্রতি বছরের ২৪ জুনে সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। ছুটি থাকায় এ দিনে অধিকাংশ লোকজন নিজেদের কিংবা বন্ধু-স্বজনদের বাড়িতে সময় কাটায়।

মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) তার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্যোগ সামনে আরও ব্যাপক আকার নেবে।

ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও বাড়িঘর ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণে তৈরি করা হয়নি। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভবন-বাড়িঘর ধসে পড়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও বহুসংখ্যক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকার কারণে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানী কারাকাসের বহু এলাকা এবং ভেনেজুয়েলার অনেক গ্রাম-শহর ভূমিকম্পের পর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি