খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিলো এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিলো এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছে। দলটির দাবি, জনকল্যাণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই ছায়া বাজেট ঘোষণা করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এসময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা জানান, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। তবে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছায়া বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রথম বছরেই ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন-এনআইডি-ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংযুক্তিকরণ, সম্পদ কর চালু, বন্দর ডিজিটালাইজেশন এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী এসব উদ্যোগ থেকে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

কর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছে এনসিপি। সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি, উত্তরাধিকার কর চালু এবং করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, ৫ হাজার কোটি টাকার শিক্ষক মানোন্নয়ন তহবিল এবং ৫ হাজার স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করে এসএমই ঋণ, যুব উদ্যোক্তা তহবিল এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ২৫ শতাংশ বাজেট বৃদ্ধি করে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ৫০০ নতুন জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র, সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি প্রদান এবং ফসল সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এনসিপি ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এ আইনের আওতায় সৌর পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির মাধ্যমে এক বছরে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ৩ হাজার অফ-গ্রিড গ্রামে সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন এবং ৫০ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

নারী ও যুব উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনে শূন্য ভ্যাট, ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন, রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাড ব্যাংক’ গঠন, সব তফসিলি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরকারি ব্যয়ের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পোর্টাল চালু, গোপন সম্পদের ওপর বিশেষ কর এবং একটি স্বাধীন বাজেট অফিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও ছায়া বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, তাদের ৭১ দফা সংস্কার প্রস্তাব কেবল একটি বিকল্প বাজেট নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে শুক্রবার (৫ জুন) ফেরি করবীতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় কারণ উদঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (৫ জুন) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের আদেশে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিম এনডিসি। এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর একজন করে প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জাকির হোসেন সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা ও সুপারিশ প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ২৯,৬৯৪ জন বাংলাদেশি হাজি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৬ জন বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন এবং মদিনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী।

ফেরত আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরেছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২৬ হাজার ৩৬৬ জন।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনের মাধ্যমে হাজিরা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯ হাজার ৯৮১ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৩৩১ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনস ৬৮২ জন।

হজ চলাকালীন এবং পরে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩১২টি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৭১০টি সেবা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৬২ জন হজযাত্রী। বর্তমানে ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট চলবে। এরপর পুরো হজযাত্রী প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শেষ হবে।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএকে

দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় তিনি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা ও পূর্বপ্রস্তুতির কারণেই কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানান।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‌‘বাসটি যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে দ্রুতগতিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরির ঢালায় আঘাত করে এবং ঢালা ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখানে কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, সেটা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ ঘাট সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবে। তবে স্বাভাবিকভাবে আমাদের নজরে এখন পর্যন্ত কিছু পড়েনি।’

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের বড় এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ উনি সরাসরি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ফেরিতে ওঠার পর আবার বাসে ওঠার নির্দেশনা দিয়েছেন। মানুষকে বাস থেকে নামানো খুব কষ্টকর ব্যাপার। বাসে অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ, শিশু বাচ্চা থাকে। তারপরও আমরা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর চেষ্টা করেছি, যেটি দেশের ইতিহাসে ছিল না।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। যেজন্য আমরা একটি এবং জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গাড়ির চালক ও হেলপার সুস্থ হলে জানা যাবে গাড়ির কোনো সমস্যা ছিল কি-না, চালকের কোনো সমস্যা ছিল কি-না বা গাড়ির ফিটনেসের কোনো সমস্যা ছিল কি-না। সে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে।’

এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ