খুঁজুন
                               
, ,
           

পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ: সংকটের নেপথ্য কারণ ও পাহাড়ের ভূরাজনীতি

এ এইচ এম ফারুক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ: সংকটের নেপথ্য কারণ ও পাহাড়ের ভূরাজনীতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন ও ঝোড়ো হাওয়া তৈরি করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ নম্বর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, গত ১ জুন তিনি ‘স্বাস্থ্যগত কারণ’ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা গৃহীত হয়ে ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ের পর থেকে পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা, প্রোপাগান্ডা ও জলঘোলা করার অপচেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দ্বন্দ্ব? নাকি অপপ্রচার?

মন্ত্রী সাহেবের পদত্যাগের পর পাহাড়ের কিছু আঞ্চলিক সংগঠন এবং স্বার্থান্বেষী মহল এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, প্রতিমন্ত্রী নাকি মন্ত্রীকে ‘পুতুলের মতো’ রাখতে চেয়েছিলেন, সবকিছুতেই তাঁর আধিপত্য ছিল এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল। অথচ এই অবাস্তব ও কাল্পনিক দাবির সপক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

বাস্তবতা হলো, জনাব দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন বিচারক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন এবং ২০০৫ সালে যুগ্ম জজের মর্যাদাপূর্ণ চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেই তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। সুতরাং, তাঁর মতো একজন পরিপক্ব, জ্ঞানী ও আইনজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ বা ডমিনেট করতেন—এই দাবিটি একেবারেই অমূলক। তাছাড়া, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং পূর্ণ মন্ত্রীকে যদি অন্য কেউ আসলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে তো পূর্ণ মন্ত্রীর সেই পদে থাকার মানসিক দৃঢ়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে চান বলে যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি তাঁর নিজের হাটহাজারী নির্বাচনী আসন এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিশাল দলীয় দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। একই সাথে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরপাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, বিএনপির মিডিয়া সেল ও “আমরা বিএনপি পরিবার”-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন। সুতরাং, রাঙামাটির স্থানীয় পদ-পদবি বা পদের তদবির নিয়ে তাঁর মন্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যে জড়ানোর তথ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল ভূরাজনীতি, ভেতরের কোন্দল ঠেকানো এবং এই অঞ্চলের আইন ও অর্থনীতি সম্পর্কে প্র্যাক্টিক্যাল ধারণা রাখতেই একজন বিশ্বস্ত, অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী ও ব্যারিস্টার মীর হেলালকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

মীর হেলাল সমতলের মানুষ হিসেবে শুরুতেই আঞ্চলিক সংগঠন সমর্থিতদের সমালোচনারমুখে পড়েন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি কোনো একপাক্ষিক বা বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। কিন্তু যারা জনাব দীপেন দেওয়ানকে আঞ্চলিক সংগঠন ‘জেএসএস’-এর এজেন্ট বানানোর চেষ্টা করছেন, তাদের এই এভিডেন্সহীন অভিযোগ পাহাড়ের শান্তির জন্য সুখকর নয়। তাঁরা দুজনেই দলের পরীক্ষিত নেতা এবং কোনো নির্দিষ্ট উপজাতি বা বাঙালি সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন না।

কৌশলগত ভুল ও কাঠামোগত সংকট

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, জনাব দীপেন দেওয়ানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য তিনি নিজেই কৌশলগতভাবে কিছুটা দায়ী। পার্বত্য মন্ত্রণালয় মূলত মাঠপর্যায়ে ফাংশন করে পার্বত্য ৩ জেলার ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মাধ্যমে। তিনি মন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই যদি এই জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড এবং টাস্কফোর্সগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করতেন, তাহলে আজকে তাঁকে এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতো না। যা তার অসুস্থ শরীর ও মনের উপর ভীষণ চাপ তৈরি করেছে।

কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় পূর্বের আওয়ামী সরকারের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদেরই দায়িত্বে রেখে দিয়েছিলেন, যা এক ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করেছিল এবং তৃণমূলের মাঝে হতাশা জন্ম দিয়েছিল। এর সুযোগে ইতিবৎসরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পদ-পদবি, পার্বত্য ৩ টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের জন্য মন্ত্রীর ওপর প্রচণ্ড চাপ, তদবির ও লবিং শুরু করেন। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের এই যৌক্তিক চাপ সামাল দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর ত্রিমুখী চাপ

বিভিন্ন আলোচনায় স্থান পেয়েছে সবচেয়ে বড় ও হিংস্র চাপটি এসেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। গত নির্বাচনে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে পর্দার আড়াল থেকে দীপেন দেওয়ানকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে এই সমর্থনের পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক স্বার্থ। জেএসএস-এর মূল লক্ষ্য ছিল, তিনি মন্ত্রী হলে পার্বত্য চুক্তির এমন কিছু ধারা (যা আমাদের পবিত্র সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য বাস্তবায়নে চরম চ্যালেঞ্জিং) বাস্তবায়নে তাঁকে বাধ্য করা এবং উন্নয়নবোর্ড, শরনার্থী বিষয়কটাস্কফোর্স, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে জেএসএস-পন্থী বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো। সম্প্রতি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাঙামাটিতে জেএসএস সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি উষাতন তালুকদারের বক্তব্যেও এমন অনৈতিক দাবি ও হুমকির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছিল। জেএসএস নেতারা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছিলেন, “আমরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছি, সুতরাং আমাদের সব কথা শুনতে হবে।”

অন্যদিকে, জেএসএস-এর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ (চুক্তি বিরোধী অংশ) শুরু থেকেই দীপেন দেওয়ানকে ‘জেএসএস সমর্থক’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ইউপিডিএফ নেতারাও জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ এবং অবৈধ প্রকল্প পাসের জন্য সমান্তরাল চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। মূলত জেএসএস-কে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে এবং মন্ত্রীকে বিতর্কিত করতেই তারা জলঘোলা করতে শুরু করে।

সজ্জন রাজনীতিকের অসহায়ত্ব

আলোচনায় এটাও উঠে এসেছে- দীপেন দেওয়ান তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে একজন শান্ত, ভদ্র ও উদারপন্থী মানুষ হিসেবে পরিচিত। জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর আকাশচুম্বী ও অসাংবিধানিক চাওয়া কোনোভাবেই একজন সাবেক বিচারকের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ আঞ্চলিক দলগুলোর সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করলে তিনি জনগণের কাছে এবং রাষ্ট্রের আইনের কাছে বিতর্কিত হতেন।

বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং পিছিয়ে পড়া এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্নের কথা। কিন্তু পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলো কখনই চায় না পাহাড়ের মূল ধারার টেকসই উন্নয়ন হোক; কারণ পাহাড় অনগ্রসর ও অশান্ত থাকলেই তাদের চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের রাজনীতি টিকে থাকে। ফলশ্রুতিতে, একদিকে স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের পদের জন্য তীব্র চাপ, অন্যদিকে জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর অনৈতিক ও ত্রিমুখী লবিং—অসুস্থ শরীরে এই বিপুল মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সজ্জন রাজনীতিক দীপেন দেওয়ান আর নিতে পারেননি। ফলে নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কোনো অসাংবিধানিক দাবির কাছে মাথা নত না করার নৈতিক দৃঢ়তা থেকেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন বলেও তার শুভকাঙ্খিরা মনে করছেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

মূলত পার্বত্য রাজনীতিতে মেইনস্ট্রিম দলগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দল, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, কখনো পাহাড়ে বসবাস করেনি এমন কিছু সুশীল সমাজ, বামপন্থী সংগঠন, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং বিশেষ মহলের নানামুখী প্রভাব রয়েছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের কোনো পক্ষই বৈষম্যের শিকার হয়নি। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং একজন দক্ষ ব্যারিস্টারের এই সম্ভাবনাময় জুটি যখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল, তখন আমরা আশা করেছিলাম যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক আইন ও পলিসিগুলো সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই আকস্মিক বিদায় সত্যিই মর্মাহত করার মতো।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের ভেতরের ও বাইরের অতি-উৎসাহী মহল যারা জলঘোলা করার চেষ্টা করছে, তাদের থামাতে জনাব দীপেন দেওয়ানের উচিত দ্রুত একটি প্রেস কনফারেন্স করে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ ও এসব অনৈতিক চাপের সত্যতা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করা। পাহাড়ে শান্তি, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের আলোকে একটি সুষম নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় সমাপনী বক্তব্যের শেষে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজিত পথসভায় এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শেষ দিকে শফিজল ইসলাম বলেন, ‘আমি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন মানুষের পাড়া-মহল্লায় গিয়ে কথা বলছি। অত্যন্ত সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারা যদি সহযোগিতা করেন, আশা করি আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়ন। আপনারা সহযোগিতা করলে চেয়ারম্যান পদে কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয়বাংলা।’

‘জয়বাংলা’ উচ্চারণের পর মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ফিসফাস শুরু হয়। এরপর শফিজল ইসলাম মঞ্চ থেকে সরে যান।

পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান ও সুমাইয়া ফারজানা এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে তার কবর জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ পথসভায় অংশ নেন।

‘জয়বাংলা’ কেন বলেছিলেন—এ বিষয়ে জানতে শফিজল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘শফিজল ইসলাম আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এলাকায় তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই তাকে এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামালপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। বড় জনসমাগমে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় অসাবধানতাবশত তিনি ‘জয়বাংলা’ বলে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিষয়টি শুনে বিস্মিত হন।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির পর এবার জ্বালানি পণ্য পরিবহনের অপর গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পানা নিয়েছে ইরান। ইয়েমেনে নিজেদের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে তেহরান থেকে।

ইতোমধ্যে কূটনৈতিক সূত্রে তেহরানের এই পরিকল্পনার তথ্য সৌদির কাছে পৌঁছেছে এবং রিয়াদ এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

ইরানের দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে— সেক্ষেত্রে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইরানি, মধ্যপ্রাচ্যীয়, এশীয় বা পশ্চিমা কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি এ তথ্য।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান থেকে নির্দেশ আসার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করে এনেছে হুথি গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে লোহিত সাগারের প্রবেশ পথ হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালির চারপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শেষ করার পর আগামী সপ্তাহেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন বাহিনী এই নীতিতে হামলা করলে পাল্টা ব্যবস্থা কী হতে পারে— তা জানা গেল রয়র্টার্সের এ প্রতিবেদনে।

যদি সত্যি হুথি গোষ্ঠী বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের জন্য বড় দুর্যোগ। কারণ হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর— এই দু’টি পথ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্য এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২৫ শতাংশ হরমুজ দিয়ে এবং ৭ শতাংশ লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।

যদি সত্যিই হুথি গোষ্ঠ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপদে পড়বে সৌদি আরব। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল উত্তোলনকারী দেশ বৈশ্বিক বাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, তার ৭০ শতাংশ চালান যায় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে।

আর হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি লোহিত সাগর এলাকার সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যে হামলা করবে— এমন আশঙ্কা ব্যাপকভাবে আছে।

কারণ কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীর নেতা ও মুখপাত্রদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ধ্বংস করতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। এই হামলার জন্য সৌদিকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথি গোষ্ঠী।

সৌদি আরবকে এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি। ২০১৫ সালে এই গোষ্ঠী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওএর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ছাড়াও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি