খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ: সংকটের নেপথ্য কারণ ও পাহাড়ের ভূরাজনীতি

এ এইচ এম ফারুক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ: সংকটের নেপথ্য কারণ ও পাহাড়ের ভূরাজনীতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন ও ঝোড়ো হাওয়া তৈরি করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ নম্বর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, গত ১ জুন তিনি ‘স্বাস্থ্যগত কারণ’ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা গৃহীত হয়ে ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ের পর থেকে পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা, প্রোপাগান্ডা ও জলঘোলা করার অপচেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দ্বন্দ্ব? নাকি অপপ্রচার?

মন্ত্রী সাহেবের পদত্যাগের পর পাহাড়ের কিছু আঞ্চলিক সংগঠন এবং স্বার্থান্বেষী মহল এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, প্রতিমন্ত্রী নাকি মন্ত্রীকে ‘পুতুলের মতো’ রাখতে চেয়েছিলেন, সবকিছুতেই তাঁর আধিপত্য ছিল এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল। অথচ এই অবাস্তব ও কাল্পনিক দাবির সপক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

বাস্তবতা হলো, জনাব দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন বিচারক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন এবং ২০০৫ সালে যুগ্ম জজের মর্যাদাপূর্ণ চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেই তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। সুতরাং, তাঁর মতো একজন পরিপক্ব, জ্ঞানী ও আইনজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ বা ডমিনেট করতেন—এই দাবিটি একেবারেই অমূলক। তাছাড়া, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং পূর্ণ মন্ত্রীকে যদি অন্য কেউ আসলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে তো পূর্ণ মন্ত্রীর সেই পদে থাকার মানসিক দৃঢ়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে চান বলে যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি তাঁর নিজের হাটহাজারী নির্বাচনী আসন এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিশাল দলীয় দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। একই সাথে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরপাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, বিএনপির মিডিয়া সেল ও “আমরা বিএনপি পরিবার”-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন। সুতরাং, রাঙামাটির স্থানীয় পদ-পদবি বা পদের তদবির নিয়ে তাঁর মন্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যে জড়ানোর তথ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল ভূরাজনীতি, ভেতরের কোন্দল ঠেকানো এবং এই অঞ্চলের আইন ও অর্থনীতি সম্পর্কে প্র্যাক্টিক্যাল ধারণা রাখতেই একজন বিশ্বস্ত, অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী ও ব্যারিস্টার মীর হেলালকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

মীর হেলাল সমতলের মানুষ হিসেবে শুরুতেই আঞ্চলিক সংগঠন সমর্থিতদের সমালোচনারমুখে পড়েন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি কোনো একপাক্ষিক বা বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। কিন্তু যারা জনাব দীপেন দেওয়ানকে আঞ্চলিক সংগঠন ‘জেএসএস’-এর এজেন্ট বানানোর চেষ্টা করছেন, তাদের এই এভিডেন্সহীন অভিযোগ পাহাড়ের শান্তির জন্য সুখকর নয়। তাঁরা দুজনেই দলের পরীক্ষিত নেতা এবং কোনো নির্দিষ্ট উপজাতি বা বাঙালি সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন না।

কৌশলগত ভুল ও কাঠামোগত সংকট

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, জনাব দীপেন দেওয়ানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য তিনি নিজেই কৌশলগতভাবে কিছুটা দায়ী। পার্বত্য মন্ত্রণালয় মূলত মাঠপর্যায়ে ফাংশন করে পার্বত্য ৩ জেলার ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মাধ্যমে। তিনি মন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই যদি এই জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড এবং টাস্কফোর্সগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করতেন, তাহলে আজকে তাঁকে এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতো না। যা তার অসুস্থ শরীর ও মনের উপর ভীষণ চাপ তৈরি করেছে।

কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় পূর্বের আওয়ামী সরকারের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদেরই দায়িত্বে রেখে দিয়েছিলেন, যা এক ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করেছিল এবং তৃণমূলের মাঝে হতাশা জন্ম দিয়েছিল। এর সুযোগে ইতিবৎসরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পদ-পদবি, পার্বত্য ৩ টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের জন্য মন্ত্রীর ওপর প্রচণ্ড চাপ, তদবির ও লবিং শুরু করেন। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের এই যৌক্তিক চাপ সামাল দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর ত্রিমুখী চাপ

বিভিন্ন আলোচনায় স্থান পেয়েছে সবচেয়ে বড় ও হিংস্র চাপটি এসেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। গত নির্বাচনে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে পর্দার আড়াল থেকে দীপেন দেওয়ানকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে এই সমর্থনের পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক স্বার্থ। জেএসএস-এর মূল লক্ষ্য ছিল, তিনি মন্ত্রী হলে পার্বত্য চুক্তির এমন কিছু ধারা (যা আমাদের পবিত্র সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য বাস্তবায়নে চরম চ্যালেঞ্জিং) বাস্তবায়নে তাঁকে বাধ্য করা এবং উন্নয়নবোর্ড, শরনার্থী বিষয়কটাস্কফোর্স, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে জেএসএস-পন্থী বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো। সম্প্রতি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাঙামাটিতে জেএসএস সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি উষাতন তালুকদারের বক্তব্যেও এমন অনৈতিক দাবি ও হুমকির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছিল। জেএসএস নেতারা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছিলেন, “আমরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছি, সুতরাং আমাদের সব কথা শুনতে হবে।”

অন্যদিকে, জেএসএস-এর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ (চুক্তি বিরোধী অংশ) শুরু থেকেই দীপেন দেওয়ানকে ‘জেএসএস সমর্থক’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ইউপিডিএফ নেতারাও জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ এবং অবৈধ প্রকল্প পাসের জন্য সমান্তরাল চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। মূলত জেএসএস-কে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে এবং মন্ত্রীকে বিতর্কিত করতেই তারা জলঘোলা করতে শুরু করে।

সজ্জন রাজনীতিকের অসহায়ত্ব

আলোচনায় এটাও উঠে এসেছে- দীপেন দেওয়ান তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে একজন শান্ত, ভদ্র ও উদারপন্থী মানুষ হিসেবে পরিচিত। জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর আকাশচুম্বী ও অসাংবিধানিক চাওয়া কোনোভাবেই একজন সাবেক বিচারকের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ আঞ্চলিক দলগুলোর সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করলে তিনি জনগণের কাছে এবং রাষ্ট্রের আইনের কাছে বিতর্কিত হতেন।

বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং পিছিয়ে পড়া এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্নের কথা। কিন্তু পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলো কখনই চায় না পাহাড়ের মূল ধারার টেকসই উন্নয়ন হোক; কারণ পাহাড় অনগ্রসর ও অশান্ত থাকলেই তাদের চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের রাজনীতি টিকে থাকে। ফলশ্রুতিতে, একদিকে স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের পদের জন্য তীব্র চাপ, অন্যদিকে জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর অনৈতিক ও ত্রিমুখী লবিং—অসুস্থ শরীরে এই বিপুল মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সজ্জন রাজনীতিক দীপেন দেওয়ান আর নিতে পারেননি। ফলে নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কোনো অসাংবিধানিক দাবির কাছে মাথা নত না করার নৈতিক দৃঢ়তা থেকেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন বলেও তার শুভকাঙ্খিরা মনে করছেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

মূলত পার্বত্য রাজনীতিতে মেইনস্ট্রিম দলগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দল, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, কখনো পাহাড়ে বসবাস করেনি এমন কিছু সুশীল সমাজ, বামপন্থী সংগঠন, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং বিশেষ মহলের নানামুখী প্রভাব রয়েছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের কোনো পক্ষই বৈষম্যের শিকার হয়নি। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং একজন দক্ষ ব্যারিস্টারের এই সম্ভাবনাময় জুটি যখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল, তখন আমরা আশা করেছিলাম যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক আইন ও পলিসিগুলো সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই আকস্মিক বিদায় সত্যিই মর্মাহত করার মতো।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের ভেতরের ও বাইরের অতি-উৎসাহী মহল যারা জলঘোলা করার চেষ্টা করছে, তাদের থামাতে জনাব দীপেন দেওয়ানের উচিত দ্রুত একটি প্রেস কনফারেন্স করে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ ও এসব অনৈতিক চাপের সত্যতা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করা। পাহাড়ে শান্তি, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের আলোকে একটি সুষম নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে দেশের অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে মন্তব্য করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক কারবারীরা দেশ, জাতি ও সমাজের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার ২৬ জুন  রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বাইরে থেকে মাদক আসে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়ে থাকে। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অনেক মাদক কারবারী অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। যাদের একসময় কিছুই ছিল না, তারাও এখন বিপুল সম্পদের মালিক। এসব কারবারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জামিন পেয়ে তারা যাতে আবার মাদক ব্যবসায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের চোখের সামনেই অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা গেছে, যাদের জীবন মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত হয়েছে। কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করারও আহ্বান জানান তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সমাজে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান নেই।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলার একটি কক্ষ থেকে ফারা ফেরদৌস (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৪টার দিকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক।

পুলিশ জানায়, কক্ষের ভেতরে খাটের ওপর বসা অবস্থায় টেবিলে মাথা রাখা অবস্থায় চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহটি ফুলে-পচে যাওয়ায় শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারা ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএসের একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ে তৃতীয় বর্ষের কোর্স করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছোট বোনও প্রথম বর্ষে অন্য একটি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ জুন ছোট বোনের সঙ্গে ফারা ফেরদৌসের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে কক্ষের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ছোট বোনের উপস্থিতিতে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

ফারা ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রশিদের মেয়ে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলায় একাই বসবাস করতেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিএমও
মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান।

এর আগে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে বেইজিং ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি সিনিয়র নেতা, মন্ত্রী, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং দেশে ফেরা নিয়ে কোনো শোডাউন বা র‌্যালি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

দালিয়ান থেকে বুধবার দুপুরে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এছাড়া বেইজিংয়ে বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।

গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/এএএন