খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতার রাজনীতিতে বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে যায়। ইতিহাস বলে, অধিকাংশ সরকারই বিরোধী দলের আক্রমণে নয়, বরং নিজেদের ভেতরের সীমাহীন সুবিধাবাদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিহীনতার কারণে জনসমর্থন হারায়। সেই বাস্তবতায় বগুড়ার ইউনিয়ন নামকরণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরকারের ভেতরে ও বাইরে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হলো—রাষ্ট্র ব্যক্তির চেয়ে বড়, প্রতিষ্ঠান পরিবারের চেয়ে বড় এবং জনগণের স্বার্থ বন্ধুত্বের চেয়েও বড়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই বার্তারই একটি বাস্তব পরীক্ষায় পরিণত হয়েছিল। কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা, পরিবারতন্ত্র, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

যখন একটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে, দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে এবং আরেকটি ইউনিয়নের নাম তাঁর ভাতিজির ডাকনামের সঙ্গে মিলে যায়, তখন জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে প্রশ্নকে দমন করা যায়, কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টিকে “মিরাকল” বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনো অলৌকিকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইন, নীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে। জনগণ কাকতালীয় ব্যাখ্যা শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন বিতর্কিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, তখন তিনি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করেননি; তিনি একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে সরকারের ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা কোনো ব্যক্তির চেয়ে বড়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নানা বিতর্কে জড়িয়েও প্রভাবের বলয়ে সুরক্ষিত থাকেন। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন একটি বার্তা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসন জীবনে তারেক রহমান বারবার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “I Have A Plan”। তখন অনেকে এটিকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, তিনি অন্তত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক আচরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, তাঁর চারপাশের সবাই সেই দর্শন ধারণ করতে পারছেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; পুরো সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ, পরিবারতন্ত্র, প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির সংস্কৃতি যেন এখনো কিছু মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান।

মীর শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্কও কেবল ইউনিয়নের নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প বরাদ্দ, পরিবারের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলোও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অভিযোগের অস্তিত্বই একটি বড় বিষয়। কারণ রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সৎ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে “Conflict of Interest” বা স্বার্থের সংঘাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যদি একই ক্ষমতার কাঠামো থেকে সুবিধা পান, তাহলে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা এবং চাপ সৃষ্টির অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম কোনো সরকারের শত্রু নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি কোনো ত্রুটি প্রতিফলিত হয়, তাহলে আয়না ভাঙার চেষ্টা নয়; ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনায়কের কাজ।

এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একা কতদিন এই বোঝা বহন করবেন? সরকারের যাত্রার শুরুতেই যদি কিছু মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো সরকারকেই দিতে হবে। কারণ জনগণ পৃথক কোনো মন্ত্রীকে নয়; পুরো সরকারকেই মূল্যায়ন করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি অনেক বড় সম্পদ। সেই সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের নেই।

বিএনপির ভেতরে সৎ, আদর্শবান, ত্যাগী এবং জনমুখী নেতৃত্বের অভাব নেই। সরকার পরিচালনার জন্য অসংখ্য যোগ্য মানুষ রয়েছেন। তাহলে কেন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কারণে পুরো সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে? কেন একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্যের ভুলের বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হবে?

সুতরাং আজ সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থের ওপরে স্থান দেন, যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন—তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে যারা সততা, দক্ষতা এবং জনকল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যদি কোনো সিন্ডিকেট, সুবিধাভোগী চক্র কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়ে থাকে, যারা নিয়োগ, বদলি, ব্যবসায়িক সুবিধা অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছে, তাহলে সেই চক্র ভেঙে দিতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেদের ভেতরের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে। এর আগেও বহুবার আমি এ কথা বলেছি।

তারেক রহমানের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত জনগণ। কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো গোষ্ঠী নয়, কোনো সিন্ডিকেট নয়। জনগণের আস্থা হারালে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। আবার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারলে সবচেয়ে কঠিন সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব।

মীর শাহে আলম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট নয়। সরকারের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো সুবিধাভোগী চক্র, পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতা, দুর্নীতি, প্রভাব-বাণিজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা দেখাতে হবে। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রী একা একটি রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারেন না। তাঁকে সহায়তা করার জন্য দরকার সৎ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনস্বার্থে নিবেদিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো।

তারেক রহমান যদি সত্যিই তাঁর ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে তাঁকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বোঝা বহন করবেন, নাকি জনগণের আস্থাকে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবেন?

সকলেরই একটি সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত যে, ইতিহাসের আদালতে শেষ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা সিন্ডিকেটের বিচার হয় না; বিচার হয় সরকারের, বিচার হয় নেতৃত্বের।

আজকের বাংলাদেশে জনগণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, বেশি তথ্যসমৃদ্ধ এবং বেশি প্রত্যাশাপূর্ণ। তারা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় রাজনৈতিক সততা। তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি চায় না; তারা পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ চায়। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ, সবচেয়ে বড় বিচারক জনগণ, আর সবচেয়ে বড় ভরসাও জনগণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি