খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতার রাজনীতিতে বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে যায়। ইতিহাস বলে, অধিকাংশ সরকারই বিরোধী দলের আক্রমণে নয়, বরং নিজেদের ভেতরের সীমাহীন সুবিধাবাদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিহীনতার কারণে জনসমর্থন হারায়। সেই বাস্তবতায় বগুড়ার ইউনিয়ন নামকরণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরকারের ভেতরে ও বাইরে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হলো—রাষ্ট্র ব্যক্তির চেয়ে বড়, প্রতিষ্ঠান পরিবারের চেয়ে বড় এবং জনগণের স্বার্থ বন্ধুত্বের চেয়েও বড়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই বার্তারই একটি বাস্তব পরীক্ষায় পরিণত হয়েছিল। কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা, পরিবারতন্ত্র, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

যখন একটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে, দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে এবং আরেকটি ইউনিয়নের নাম তাঁর ভাতিজির ডাকনামের সঙ্গে মিলে যায়, তখন জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে প্রশ্নকে দমন করা যায়, কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টিকে “মিরাকল” বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনো অলৌকিকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইন, নীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে। জনগণ কাকতালীয় ব্যাখ্যা শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন বিতর্কিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, তখন তিনি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করেননি; তিনি একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে সরকারের ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা কোনো ব্যক্তির চেয়ে বড়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নানা বিতর্কে জড়িয়েও প্রভাবের বলয়ে সুরক্ষিত থাকেন। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন একটি বার্তা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসন জীবনে তারেক রহমান বারবার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “I Have A Plan”। তখন অনেকে এটিকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, তিনি অন্তত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক আচরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, তাঁর চারপাশের সবাই সেই দর্শন ধারণ করতে পারছেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; পুরো সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ, পরিবারতন্ত্র, প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির সংস্কৃতি যেন এখনো কিছু মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান।

মীর শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্কও কেবল ইউনিয়নের নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প বরাদ্দ, পরিবারের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলোও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অভিযোগের অস্তিত্বই একটি বড় বিষয়। কারণ রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সৎ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে “Conflict of Interest” বা স্বার্থের সংঘাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যদি একই ক্ষমতার কাঠামো থেকে সুবিধা পান, তাহলে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা এবং চাপ সৃষ্টির অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম কোনো সরকারের শত্রু নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি কোনো ত্রুটি প্রতিফলিত হয়, তাহলে আয়না ভাঙার চেষ্টা নয়; ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনায়কের কাজ।

এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একা কতদিন এই বোঝা বহন করবেন? সরকারের যাত্রার শুরুতেই যদি কিছু মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো সরকারকেই দিতে হবে। কারণ জনগণ পৃথক কোনো মন্ত্রীকে নয়; পুরো সরকারকেই মূল্যায়ন করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি অনেক বড় সম্পদ। সেই সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের নেই।

বিএনপির ভেতরে সৎ, আদর্শবান, ত্যাগী এবং জনমুখী নেতৃত্বের অভাব নেই। সরকার পরিচালনার জন্য অসংখ্য যোগ্য মানুষ রয়েছেন। তাহলে কেন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কারণে পুরো সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে? কেন একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্যের ভুলের বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হবে?

সুতরাং আজ সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থের ওপরে স্থান দেন, যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন—তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে যারা সততা, দক্ষতা এবং জনকল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যদি কোনো সিন্ডিকেট, সুবিধাভোগী চক্র কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়ে থাকে, যারা নিয়োগ, বদলি, ব্যবসায়িক সুবিধা অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছে, তাহলে সেই চক্র ভেঙে দিতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেদের ভেতরের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে। এর আগেও বহুবার আমি এ কথা বলেছি।

তারেক রহমানের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত জনগণ। কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো গোষ্ঠী নয়, কোনো সিন্ডিকেট নয়। জনগণের আস্থা হারালে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। আবার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারলে সবচেয়ে কঠিন সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব।

মীর শাহে আলম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট নয়। সরকারের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো সুবিধাভোগী চক্র, পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতা, দুর্নীতি, প্রভাব-বাণিজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা দেখাতে হবে। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রী একা একটি রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারেন না। তাঁকে সহায়তা করার জন্য দরকার সৎ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনস্বার্থে নিবেদিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো।

তারেক রহমান যদি সত্যিই তাঁর ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে তাঁকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বোঝা বহন করবেন, নাকি জনগণের আস্থাকে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবেন?

সকলেরই একটি সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত যে, ইতিহাসের আদালতে শেষ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা সিন্ডিকেটের বিচার হয় না; বিচার হয় সরকারের, বিচার হয় নেতৃত্বের।

আজকের বাংলাদেশে জনগণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, বেশি তথ্যসমৃদ্ধ এবং বেশি প্রত্যাশাপূর্ণ। তারা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় রাজনৈতিক সততা। তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি চায় না; তারা পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ চায়। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ, সবচেয়ে বড় বিচারক জনগণ, আর সবচেয়ে বড় ভরসাও জনগণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

‘এটি শুধু কোনো গান নয়, যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ।’ এনজেল নূরের নতুন গান ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে এমনই মন্তব্য করেছেন শ্রোতা শেখ সাদমান। আরেক শ্রোতা আথিনা চাকমার কাছে নূরের কণ্ঠ মনে হয়েছে ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও স্নিগ্ধ।

গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রেমের সূচক’ প্রকাশ করেন এনজেল নূর। দুই সপ্তাহের মধ্যে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি নিজেই।

‘প্রেমের সূচক’ লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে যেমন একটি অতিথি পাখি সাময়িকভাবে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, আবার আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হয়—গানটিতেও তেমনই অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেছেন তিনি।

পাখিটি জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তাই প্রিয় পাখিকে বারবার তার প্রশ্ন, ‘এখনই যাবে কি চলে?’

গানটির ‘সূচক’ শব্দটির মধ্যেও একাধিক অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন এনজেল। এটি যেমন শুরু বোঝায়, তেমনি কোনো কিছুর পরিমাপক বা ইন্ডিকেটরও। তাঁর কাছে প্রিয় মানুষটির প্রতি থাকা ভালোবাসাই সেই প্রেমের অস্তিত্বের সূচক।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গান দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। তবে কোনো একটি গান জনপ্রিয় হলেই তার আদলে পরের গান তৈরি করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প।

এনজেল বলেন, তাঁর লেখা ৫৮টি গান রয়েছে এবং প্রতিটি গানে রয়েছে আলাদা গল্প। তাই নিজেকে তিনি সব সময় একজন ‘স্টোরি টেলার’ হিসেবেই পরিচয় দিতে চান।

তাঁর ভাষায়, তাঁর গানকে প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে ফেলা যায় না। এগুলো পুরোপুরি ক্ল্যাসিক্যাল নয়, আবার পুরোপুরি আধুনিকও নয়। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি মিল নেই। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব একটি স্বর ও গল্প রয়েছে।

সুর তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাঁর ফোনে জমা আছে ৪১২টি সুর। নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা নির্ধারিত সময়ে বসে এসব সুর তৈরি করেননি তিনি। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সুর মাথায় এলে তা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন।

কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করতে গিয়ে, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও মাথায় আসা সুর ধরে রেখেছেন তিনি।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রচলিত ‘হিট’ গানের ফর্মুলায় নিজেকে বাঁধতে চান না এনজেল। তাঁর কাছে অনেক সময় বাণিজ্যিক গানের চাহিদা এমন হয়, যেখানে দ্রুত বিনোদন দেওয়ার মতো বিট ও উপাদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁর মতে, শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে যদি সব গান একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে শিল্প বা গল্প বলার জায়গাটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসাও তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর মতে, এমন অনেক গান রয়েছে, যেগুলো প্রকাশের কয়েক দিন পরই শ্রোতাদের মনোযোগ থেকে হারিয়ে যায়।

এনজেল বরং চান, তাঁর গান ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং ১০ বছর পরও মানুষ সেগুলো শুনুক। তাঁর কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রোতা-সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এনজেল নূরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম তৈরির কাজও চলছে।

অভিনয়েও নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন এনজেল।

দ্রুত জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে নিজের মতো করে গল্প বলে যাওয়াই যেন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে এনজেলের কাছে গানই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।

কালের আলো/এসএ

রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে দেশের প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বিধানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সব শেয়ার ও সিকিউরিটির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইকুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

তবে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবন বিমা ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের ট্রেইলিং পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইয়ের পরিবর্তে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি অথবা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন ঋণ নিতে হলে গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। পাশাপাশি ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে। মূল বাজারের ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন নিয়মে পোর্টফোলিওর ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন কল দিতে হবে। আর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। তবে গ্রাহককে লিখিতভাবে, ই-মেইল, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা প্রয়োজন হলে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। একই সঙ্গে মার্জিন অর্থায়নের অর্থ শুধু মার্জিন-যোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে বছরে অন্তত চারটি সভা করতে হবে।

এ ছাড়া ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহ সুপারভাইজারি বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা করতে হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি