খুঁজুন
                               
, ,
           

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

সভ্যতার ইতিহাসে প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি প্রযুক্তির অপব্যবহার সমাজের জন্য নতুন নতুন সংকটও সৃষ্টি করেছে। একসময় জুয়ার আসর বসত নির্দিষ্ট কোনো ঘর, ক্লাব কিংবা আড্ডাকেন্দ্রে। এখন সেই জুয়ার আসর চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। একটি স্মার্টফোন, একটি মোবাইল অ্যাপ কিংবা একটি ওয়েবসাইট—এতেই তৈরি হচ্ছে ভার্চুয়াল ক্যাসিনো। আর এই ভয়াবহ আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম।

বাংলাদেশ একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও যুবসমাজ। এই জনগোষ্ঠীই আগামী দিনের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার এই সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং অপরাধের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন বেটিংয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা বিভিন্ন ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য তরুণ বেটিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে কৌতূহল, পরে বিনোদন, এরপর আসক্তি—এই ধাপ পেরিয়ে অনেকেই আর্থিক ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রতারণা, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। পরিবার থেকে চুরি, বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ, এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে। ফলে এটি আর শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় জুয়ার কোনো স্থান নেই। ধর্মীয়, নৈতিক এবং সামাজিক সব দৃষ্টিকোণ থেকেই জুয়া নিরুৎসাহিত ও নিষিদ্ধ। তারপরও ডিজিটাল প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক জুয়া সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশের বাজারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিদেশি সার্ভার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা দেশের লাখো তরুণকে তাদের ফাঁদে ফেলছে।

এই বাস্তবতায় সরকার যে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। অনেকেই আইনটির কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশের অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রথমে দেখতে হবে সমস্যাটির গভীরতা কতটা ভয়াবহ।

বর্তমান সময়ে অপরাধীরা আর আগের মতো দৃশ্যমান নয়। তারা ডিজিটাল জগতে ছদ্মবেশী। একটি মোবাইল ফোন, একটি এনক্রিপটেড অ্যাপ কিংবা বিদেশি সার্ভারের আড়ালে থেকে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যদি প্রচলিত ধীরগতির পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়, তাহলে অপরাধীরা সহজেই প্রমাণ মুছে ফেলতে সক্ষম হবে।

তাই যুক্তিসংগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত তল্লাশি, ডিজিটাল তথ্য জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদানকে অনেকেই কঠোর মনে করলেও বাস্তবতা হলো—ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ ডিজিটাল প্রমাণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুছে ফেলা সম্ভব। অপরাধীরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাহলে রাষ্ট্রকেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই উদ্বেগ অমূলক নয়। যেকোনো ক্ষমতার ক্ষেত্রেই অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কায় সমাজ ধ্বংসকারী অপরাধের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকবে? নিশ্চয়ই নয়। বরং প্রয়োজন শক্তিশালী নজরদারির পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

অনলাইন জুয়া বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ অর্থনীতির অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ যদি এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হবে।

খসড়ায় প্রস্তাবিত ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট’ও সময়ের দাবি। কারণ একজন ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন সিম, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে অপরাধ পরিচালনা করতে পারে। এসব তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খসড়া আইনে জুয়াসংক্রান্ত অপরাধকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অনেকের কাছে এটি কঠোর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে অপরাধ হাজার হাজার পরিবারকে ধ্বংস করছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে এবং কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে, সেই অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে?

আমার বিশ্বাস, অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে নমনীয়তা নয়, প্রয়োজন দৃঢ়তা। ইতিহাস বলে, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। অনলাইন জুয়াও আজ একই ধরনের একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।

তবে কঠোর আইনই একমাত্র সমাধান নয়। আইনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা জোরদার, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

একটি সুস্থ সমাজ শুধু আইন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু যখন নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন সেই মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক বন্ধন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

আমি মনে করি, সরকার অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহির বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে, তবে সেই সঙ্গে রাষ্ট্রকে অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও দিতে হবে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ যদি বিপন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের নীরব থাকার সুযোগ নেই।

পরিশেষে বলতে চাই, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস হবে না। নৈতিক অবক্ষয়, ডিজিটাল জুয়ার বিস্তার এবং অপরাধ অর্থনীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে হতে হবে আপসহীন। সমাজকে রক্ষা করতে, পরিবারকে রক্ষা করতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর আইনের সত্যিই কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দুই গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ সময়ে জয় পেল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
দুই গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ সময়ে জয় পেল আর্জেন্টিনা

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুটা ছিল মিশরের পক্ষে। প্রথমার্ধেই ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় তারা। এরপর মোস্তফা জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মিশর।

তবে পিছিয়ে পড়ে হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ব্যবধান কমায় তারা। এরপর দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

এর আগে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও মেসি শেষ পর্যন্ত নিজের অষ্টম গোল তুলে নেন। এই গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজের অবস্থান শক্ত করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে ভিএআরের কাছে আবেদন করে মিশর। কিন্তু পর্যালোচনার পর গোল বহাল রাখেন কর্মকর্তারা। প্রতিবাদের কারণে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ড দেখেন।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয় বিশ্বকাপ। ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেসির পেনাল্টি মিসে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
মেসির পেনাল্টি মিসে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা

চলতি আসরে প্রথমবার আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করল। শুরুতেই তারা গোল হজম করে। পেনাল্টি মিস করার কারণে গোল শোধ দিতে পারেনি তারা। মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করবে।

শুরুতেই আর্জেন্টিনার জাল কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।

মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটিকে পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালের ভেতরে পাঠান তিনি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।

১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।

তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।

বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি গোল করতে পারেননি তিনি।

মেসি শটটি গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে নিলেও তাতে যথেষ্ট গতি ছিল না। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা সঠিক উচ্চতায় থাকা বলটিকে দারুণভাবে প্রতিহত করেন।

গোলরক্ষক মোস্তফার জন্যও এটি এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টিও তিনি একইভাবে আটকে দিয়েছিলেন।

২৮ মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন তিনি।

১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন মোস্তফা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি