খুঁজুন
                               
, ,
           

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

সভ্যতার ইতিহাসে প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি প্রযুক্তির অপব্যবহার সমাজের জন্য নতুন নতুন সংকটও সৃষ্টি করেছে। একসময় জুয়ার আসর বসত নির্দিষ্ট কোনো ঘর, ক্লাব কিংবা আড্ডাকেন্দ্রে। এখন সেই জুয়ার আসর চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। একটি স্মার্টফোন, একটি মোবাইল অ্যাপ কিংবা একটি ওয়েবসাইট—এতেই তৈরি হচ্ছে ভার্চুয়াল ক্যাসিনো। আর এই ভয়াবহ আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম।

বাংলাদেশ একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও যুবসমাজ। এই জনগোষ্ঠীই আগামী দিনের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার এই সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং অপরাধের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন বেটিংয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা বিভিন্ন ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য তরুণ বেটিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে কৌতূহল, পরে বিনোদন, এরপর আসক্তি—এই ধাপ পেরিয়ে অনেকেই আর্থিক ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রতারণা, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। পরিবার থেকে চুরি, বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ, এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে। ফলে এটি আর শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় জুয়ার কোনো স্থান নেই। ধর্মীয়, নৈতিক এবং সামাজিক সব দৃষ্টিকোণ থেকেই জুয়া নিরুৎসাহিত ও নিষিদ্ধ। তারপরও ডিজিটাল প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক জুয়া সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশের বাজারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিদেশি সার্ভার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা দেশের লাখো তরুণকে তাদের ফাঁদে ফেলছে।

এই বাস্তবতায় সরকার যে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। অনেকেই আইনটির কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশের অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রথমে দেখতে হবে সমস্যাটির গভীরতা কতটা ভয়াবহ।

বর্তমান সময়ে অপরাধীরা আর আগের মতো দৃশ্যমান নয়। তারা ডিজিটাল জগতে ছদ্মবেশী। একটি মোবাইল ফোন, একটি এনক্রিপটেড অ্যাপ কিংবা বিদেশি সার্ভারের আড়ালে থেকে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যদি প্রচলিত ধীরগতির পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়, তাহলে অপরাধীরা সহজেই প্রমাণ মুছে ফেলতে সক্ষম হবে।

তাই যুক্তিসংগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত তল্লাশি, ডিজিটাল তথ্য জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদানকে অনেকেই কঠোর মনে করলেও বাস্তবতা হলো—ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ ডিজিটাল প্রমাণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুছে ফেলা সম্ভব। অপরাধীরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাহলে রাষ্ট্রকেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই উদ্বেগ অমূলক নয়। যেকোনো ক্ষমতার ক্ষেত্রেই অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কায় সমাজ ধ্বংসকারী অপরাধের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকবে? নিশ্চয়ই নয়। বরং প্রয়োজন শক্তিশালী নজরদারির পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

অনলাইন জুয়া বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ অর্থনীতির অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ যদি এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হবে।

খসড়ায় প্রস্তাবিত ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট’ও সময়ের দাবি। কারণ একজন ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন সিম, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে অপরাধ পরিচালনা করতে পারে। এসব তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খসড়া আইনে জুয়াসংক্রান্ত অপরাধকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অনেকের কাছে এটি কঠোর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে অপরাধ হাজার হাজার পরিবারকে ধ্বংস করছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে এবং কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে, সেই অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে?

আমার বিশ্বাস, অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে নমনীয়তা নয়, প্রয়োজন দৃঢ়তা। ইতিহাস বলে, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। অনলাইন জুয়াও আজ একই ধরনের একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।

তবে কঠোর আইনই একমাত্র সমাধান নয়। আইনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা জোরদার, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

একটি সুস্থ সমাজ শুধু আইন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু যখন নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন সেই মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক বন্ধন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

আমি মনে করি, সরকার অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহির বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে, তবে সেই সঙ্গে রাষ্ট্রকে অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও দিতে হবে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ যদি বিপন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের নীরব থাকার সুযোগ নেই।

পরিশেষে বলতে চাই, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস হবে না। নৈতিক অবক্ষয়, ডিজিটাল জুয়ার বিস্তার এবং অপরাধ অর্থনীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে হতে হবে আপসহীন। সমাজকে রক্ষা করতে, পরিবারকে রক্ষা করতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর আইনের সত্যিই কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অ‌ভিনন্দন তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অ‌ভিনন্দন তারেক রহমানের

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ জুলাই) এক চিঠিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তি‌নি অভিনন্দন জানান।

চি‌ঠি‌তে তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে, লেবার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং যুক্তরাজ্যের (গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার এই নির্বাচন আপনার দল এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী, ঐতিহাসিক ও বহুমুখী অংশীদারত্ব বিদ্যমান, যা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কমনওয়েলথ নীতি এবং জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে।

চি‌ঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাজ্য-প্রবাসী প্রাণবন্ত বাংলাদেশি সম্প্রদায় বন্ধুত্বের এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে চলেছে এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময়তায় অমূল্য অবদান রাখছে।

আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং উভয় দেশ ও জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে সম্প্রসারিত করতে আমি আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তা‌রেক রহমান। তি‌নি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমি আপনাকে সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

আপনার সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং আপনার পদের গুরুদায়িত্ব পালনে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কামনা করছি। আমি যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। মহামান্য, অনুগ্রহ করে আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়টি গ্রহণ করুন।

উল্লেখ্য, সোমবার যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে তাঁরা স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অতীতের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকারের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার মান নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেকোনো উপায়ে গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাঁদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ সহজে চিকিৎসা পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা পর্যায়ের ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, জনবল নিয়োগ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের মতবিনিময়

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উদ্যোগে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় এডিটরস ফোরামের নেতারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরের ট্রাফিকজট, ফুটপাত দখল, অটোরিকশার আধিক্য, মাদক ও জুয়া, সড়কে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের মতবিনিময় সভা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজশাহী এডিটরস ফোরামের পক্ষে বক্তব্য রাখেন  সভাপতি ও দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, সহসভাপতি ও আমাদের রাজশাহীর সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সংবাদের সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সানশাইনের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও গণধ্বনি প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াকুব শিকদার, নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত এবং উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক এনায়েত করিম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) পদে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পদে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপি’র মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমানসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি