খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

সভ্যতার ইতিহাসে প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি প্রযুক্তির অপব্যবহার সমাজের জন্য নতুন নতুন সংকটও সৃষ্টি করেছে। একসময় জুয়ার আসর বসত নির্দিষ্ট কোনো ঘর, ক্লাব কিংবা আড্ডাকেন্দ্রে। এখন সেই জুয়ার আসর চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। একটি স্মার্টফোন, একটি মোবাইল অ্যাপ কিংবা একটি ওয়েবসাইট—এতেই তৈরি হচ্ছে ভার্চুয়াল ক্যাসিনো। আর এই ভয়াবহ আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম।

বাংলাদেশ একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও যুবসমাজ। এই জনগোষ্ঠীই আগামী দিনের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার এই সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং অপরাধের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন বেটিংয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা বিভিন্ন ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য তরুণ বেটিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে কৌতূহল, পরে বিনোদন, এরপর আসক্তি—এই ধাপ পেরিয়ে অনেকেই আর্থিক ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রতারণা, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। পরিবার থেকে চুরি, বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ, এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে। ফলে এটি আর শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় জুয়ার কোনো স্থান নেই। ধর্মীয়, নৈতিক এবং সামাজিক সব দৃষ্টিকোণ থেকেই জুয়া নিরুৎসাহিত ও নিষিদ্ধ। তারপরও ডিজিটাল প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক জুয়া সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশের বাজারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিদেশি সার্ভার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা দেশের লাখো তরুণকে তাদের ফাঁদে ফেলছে।

এই বাস্তবতায় সরকার যে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। অনেকেই আইনটির কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশের অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রথমে দেখতে হবে সমস্যাটির গভীরতা কতটা ভয়াবহ।

বর্তমান সময়ে অপরাধীরা আর আগের মতো দৃশ্যমান নয়। তারা ডিজিটাল জগতে ছদ্মবেশী। একটি মোবাইল ফোন, একটি এনক্রিপটেড অ্যাপ কিংবা বিদেশি সার্ভারের আড়ালে থেকে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যদি প্রচলিত ধীরগতির পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়, তাহলে অপরাধীরা সহজেই প্রমাণ মুছে ফেলতে সক্ষম হবে।

তাই যুক্তিসংগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত তল্লাশি, ডিজিটাল তথ্য জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদানকে অনেকেই কঠোর মনে করলেও বাস্তবতা হলো—ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ ডিজিটাল প্রমাণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুছে ফেলা সম্ভব। অপরাধীরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাহলে রাষ্ট্রকেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই উদ্বেগ অমূলক নয়। যেকোনো ক্ষমতার ক্ষেত্রেই অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কায় সমাজ ধ্বংসকারী অপরাধের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকবে? নিশ্চয়ই নয়। বরং প্রয়োজন শক্তিশালী নজরদারির পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

অনলাইন জুয়া বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ অর্থনীতির অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ যদি এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হবে।

খসড়ায় প্রস্তাবিত ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট’ও সময়ের দাবি। কারণ একজন ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন সিম, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে অপরাধ পরিচালনা করতে পারে। এসব তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খসড়া আইনে জুয়াসংক্রান্ত অপরাধকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অনেকের কাছে এটি কঠোর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে অপরাধ হাজার হাজার পরিবারকে ধ্বংস করছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে এবং কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে, সেই অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে?

আমার বিশ্বাস, অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে নমনীয়তা নয়, প্রয়োজন দৃঢ়তা। ইতিহাস বলে, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। অনলাইন জুয়াও আজ একই ধরনের একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।

তবে কঠোর আইনই একমাত্র সমাধান নয়। আইনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা জোরদার, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

একটি সুস্থ সমাজ শুধু আইন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু যখন নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন সেই মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, পারিবারিক বন্ধন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

আমি মনে করি, সরকার অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহির বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে, তবে সেই সঙ্গে রাষ্ট্রকে অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও দিতে হবে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ যদি বিপন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের নীরব থাকার সুযোগ নেই।

পরিশেষে বলতে চাই, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস হবে না। নৈতিক অবক্ষয়, ডিজিটাল জুয়ার বিস্তার এবং অপরাধ অর্থনীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে হতে হবে আপসহীন। সমাজকে রক্ষা করতে, পরিবারকে রক্ষা করতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর আইনের সত্যিই কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারত আমন্ত্রণ জানালে নিশ্চয়ই যাবো। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি— আমি যদি প্রোপার ইনভিটেশন পাই, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি। কথাটা খুব ইম্পর্টেন্ট।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই। আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। ইন্টেরিমের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের এক্সচেঞ্জ নানান ফর্মে হতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু সেটা না। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের পানি আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টা নদী আছে। আমাদের রাইট আছে। আমাদের ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি সেটা লুফে নেবো। আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবেন। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে—ইনফ্যাক্ট ইন্টেরিম সরকারের সময় তারা অনেকবার এই কথাবার্তা বলেছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে তারা, নতুন সরকার যেটা আসবে যেটা জনগণের ম্যান্ডেট-প্রাপ্ত তার সঙ্গে তারা এনগেজ করবেন। আমি আশা করি তারা সেটা এগিয়ে যাবেন এবং আমি যদি কোথাও কোনোভাবে রোল প্লে করার সুযোগ পাই, ইনভিটেশন পাই নিশ্চয়ই ভারতে যাবো। আবারও বলছি ব্যক্তি জাহেদ ওখানে কিছু করে নাই। আসলে আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। বিষয়টি দেখেছি যে, একটা রাষ্ট্রের একটা সরকারের একটা পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ হচ্ছে, সেই কারণে আসলে ওটা করেছি।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি