খুঁজুন
                               
, ,
           

এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ

সুফি বিশ্বাস:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) খ্যাতনামা টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ এর সাথে সরকারের আলোচনা ও দরকষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। হঠাৎ করেই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখছে। টার্মিনালটির পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেই মূলত এই আন্তর্জাতিক জায়ান্টকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি জিটুজি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কাঠামোর অধীনে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ-ইউএই জয়েন্ট পিপিপি প্ল্যাটফর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠকে বন্দর খাতে বিশেষ করে এনসিটিতে বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচিত হয়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় অনুষ্ঠিত তৃতীয় প্ল্যাটফর্ম বৈঠকে বিষয়টি ছিল অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত চতুর্থ প্ল্যাটফর্ম বৈঠকেও এটি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার পথ ধরেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে দরকষাকষি ও বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিনিয়োগ প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত একটি মাইলফলক। কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়াতে এটি নির্মিত হয়েছিল। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দরের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ২০০০ সালের দিকে এনসিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেময়কার জেটিগুলো কনটেইনারের চাপ সামলাতে পারছিল না। এই সমস্যার সমাধানে বন্দরের নিউমুরিং এলাকায় একটি সম্পূর্ণ আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ২০০৭ সালে টার্মিনালের জেটি ও অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ৫টি জেটি সমৃদ্ধ এই টার্মিনাল নির্মাণে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়। জেটি ও ইয়ার্ডের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা সম্ভব হয়নি। ক্রমান্বয়ে যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে টার্মিনালটি পুরোদমে কনটেইনার হ্যান্ডলিং শুরু করে। চালুর পর থেকেই আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ এই টার্মিনাল নিরবচ্ছিন্নভাবে হ্যান্ডলিং করছে। ফলে যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমেছে, কমেছে উৎপাদনশীলতা। টার্মিনালে ইক্যুইপমেন্ট অ্যাভেইলেভিলিটি বা যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতার (কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য যন্ত্রপাতি প্রস্তুত বা সচল থাকা) বৈশ্বিক মান যেখানে গড়ে ৯৩ শতাংশ, সেখানে এনসিটিতে এই মান প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থ্যাৎ অবকাঠামোগত সুবিধা থাকার পরও যন্ত্রপাতির পূর্ণ কার্যক্ষমতার অভাবে কাঙ্খিত মাত্রায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে না। এ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ। এককভাবে সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হওয়া এই টার্মিনালে প্রতিঘন্টায় ২০-২২ টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় নিলে একইসময়ে ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। এতে বাড়বে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং কমবে জাহাজের টার্ণ অ্যারাউন্ড টাইম। বিদ্যমান অবকাঠামোয় উন্নত যন্ত্রপাতি ও দক্ষতার সংযোজন এই টার্মিনালের সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

এনসিটিতে কেন ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটর (ITO)?
টার্মিনাল অপারেশনে ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটর (International Terminal Operator) যুক্ত করার বিষয়টি কেবল ক্রেন বা জাহাজ পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক লজিস্টিকস চেইন এবং ভূরাজনীতির সাথে গভীরভাবে জড়িত একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কোনো দেশের প্রবেশদ্বার বা বন্দরকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং এর পরিচালন ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার পেছনে যে সুদূরপ্রসারী কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত কারণগুলো রয়েছে, তা

নিচে আরও বিস্তারিত ও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. বিশাল মূলধন ও বিনিয়োগ
একটি আধুনিক টার্মিনাল পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। ইন্টারন্যাশনাল অপারেটররা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করে টার্মিনালে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি স্থাপন করে। এতে একদিকে যেমন বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ে তেমনি সরকারের ওপর আর্থিক ব্যয়ের চাপ কমে।

২. সক্ষমতা
ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটরের পরিচালনগত সক্ষমতা অনেক বেশি। তারা বিশ্বমানের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (TOS) ব্যবহার করে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম ২৪ ঘণ্টার নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম। তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতায় রয়েছে আধুনিক মেগা-ভেসেল হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আধুনিক ক্রেন এবং স্বয়ংক্রিয় ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা। সর্বোপরি, তাদের কৌশলগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক শিপিং নেটওয়ার্ক আমাদের বন্দরকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব-এ রূপান্তর করতে শতভাগ সক্ষম।

৩. আধুনিক প্রযুক্তি
আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরদের অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস সফটওয়‍্যার, গ্রিন পোর্ট টেকনোলজি (পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি), আধুনিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। শুধু একটি টার্মিনাল অপারেশনে নয় বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে অপারেটরগুলো সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

৪. বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টার্মিনাল অপারেটরদের অনেকেরই নিজেদের মালিকানাধীন শিপিং লাইন আছে অথবা শীর্ষ শিপিং জোটগুলোর সাথে কৌশলগত চুক্তি আছে। ফলে যখন কোনো ইন্টারন্যাশনাল অপারেটর একটি টার্মিনালের দায়িত্ব নেয়, তারা তাদের বৈশ্বিক ক্লায়েন্টদের (শিপিং লাইন) সেই বন্দরে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করে। এর ফলে একটি সাধারণ বা আঞ্চলিক বন্দর আন্তর্জাতিক রুটের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পায়, যা দেশের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. স্বচ্ছতা
আন্তর্জাতিক অপারেটর সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও কাগজবিহীন ‘টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম’ ব্যবহার করে। রিয়েল-টাইম ডাটা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি কনটেইনার ও জাহাজের অবস্থান কাস্টমস এবং অংশীজনদের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান থাকে, যা মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং অন্যায্য দাবির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সুশাসন, সুনির্দিষ্ট ট্যারিফ কাঠামো এবং বৈশ্বিক অ্যান্টি-করাপশন পলিসি মেনে চলার কারণে কোনো ধরনের লুকানো খরচ বা সিন্ডিকেট তৈরির সুযোগ থাকে না; যা নিয়মিত থার্ড-পার্টি অডিটের মাধ্যমে সরকারের কাছে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

৬. দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা
বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় বন্দরে কাজ করার কারণে এই অপারেটরদের অভিজ্ঞতা থাকে ব্যাপক। ফলে তারা জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম বা বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল কমিয়ে আনতে পারে। দক্ষ লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৭. রূপান্তর (ট্রান্সফরমেশন)
একটি আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে টার্মিনালের পরিচালনগত ও বাণিজ্যিক চেহারায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। বিশ্বমানের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও কাগজবিহীন ‘স্মার্ট পোর্ট’ এ রূপান্তরিত হয়। এর ফলে, একটি জাহাজের কনটেইনার ওঠানামার গতি ঘণ্টায় ১০-১২টি থেকে বেড়ে ৩০টিরও বেশিতে উন্নীত হয়, যা জাহাজের বন্দরে অবস্থানকাল কমিয়ে ২৪ ঘণ্টার নিচে নামিয়ে আনে। একই সাথে, অপারেটরের নিজস্ব বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইন ও বিশাল মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি এই বন্দরে ভিড়তে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে, একটি সাধারণ আঞ্চলিক ফিডার পোর্ট রাতারাতি আন্তর্জাতিক রুটের একটি প্রধান সাপ্লাই চেইন হাবে পরিণত হয়, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি খরচ এক ধাক্কায় প্রায় ৩০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

কেন ডিপি ওয়ার্ল্ড?

১. ডিপি ওয়ার্ল্ড আমিরাত সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সম্পূর্ণ মালিকানা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের। একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানি। ডিপি ওয়ার্ল্ড ‘দুবাই ওয়ার্ল্ড’ এর অধীনে পরিচালিত হয়। দুবাই ওয়ার্ল্ড দুবাই সরকারের একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা। দুবাই ওয়ার্ল্ডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান পোর্ট অ্যান্ড ফ্রি জোন ওয়ার্ল্ড সরাসরি ডিপি ওয়ার্ল্ডের শতভাগ শেয়ারের মালিক। যে প্রতিষ্ঠান টার্মিনাল পরিচালনার সাথে সাথে বিভিন্ন দেশে ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপন ও পরিচালনা করে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের কারণে এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সংযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

২. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টার্মিনাল অপারেটর
ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টার্মিনাল অপারেটর, যা প্রায় ৭০টিরও বেশি দেশে ৮০টি টার্মিনাল ও লজিস্টিকস কার্যক্রম পরিচালনা করে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের রয়েছে অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস সফটওয়্যার, গ্রিন পোর্ট টেকনোলজি (পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি), আধুনিক কোয়ান্টাম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। যা প্রয়োগ করলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বজুড়ে কেবল পোর্ট অপারেটর হিসেবেই নয়, বরং একটি মাল্টি-মডাল লজিস্টিকস জায়ান্ট (সমুদ্র, রেল ও সড়কপথের সমন্বিত নেটওয়ার্ক) হিসেবে কাজ করে। রেড সী কান্ট্রি বা লোহিত সাগরের অববাহিকার দেশ এবং মধ্য এশিয়ার আজারবাইজান পর্যন্ত রেল সংযোগের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক করিডোর উন্নয়নে কাজ করেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড।

২. উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা
বর্তমানে এনসিটি দক্ষতার সাথে পরিচালিত হলেও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বন্দরের দক্ষতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টার্মিনাল অপারেটর। তাদের উন্নত অপারেটিং সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার কারণে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি (হ্যান্ডলিং স্পিড) বৈশ্বিক মানের (ঘন্টায় ৩৫ একক কনটেইনার)। এর ফলে বন্দরে জাহাজের অবস্থান করার সময় বা ‘টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম’ বর্তমানের চেয়ে অনেক কমে আসবে। জাহাজ যত দ্রুত পণ্য খালাস করে চলে যেতে পারবে, বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতা তত বাড়বে।

৩. বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা
ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এনসিটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হলে বাংলাদেশে তাদের বড় অঙ্কের বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম হবে, যা বন্দরের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

৪. দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বৃদ্ধি
প্রস্তাব অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে, তাতে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে। উপরন্তু, হ্যান্ডলিং সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বন্দরে জাহাজের সংখ্যা এবং কনটেইনারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘমেয়াদে কনটেইনার ভলিউম বাড়ার কারণে শুল্ক ও অন্যান্য খাত থেকে সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

৫. বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের উপস্থিতি চট্টগ্রাম বন্দরকে বৈশ্বিক শিপিং লাইন এবং লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কৌশলগত সম্পর্ক থাকায়, তারা চট্টগ্রাম বন্দরকে তাদের প্রধান রুটে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী হবে। এতে করে কনটেইনার পরিবহন ব্যয় কমে আসবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা ও রেটিং বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আমিরাত সরকার চালু করেছে আমিরাত শিপিং লাইন। যা তাদের লজিস্টিকস ও বন্দর ইকোসিস্টেমকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

৬. আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের খরচ কমবে
টার্মিনালের কর্মক্ষমতা বাড়লে ব্যবসায়ীদের বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না। পণ্য দ্রুত খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীদের লিড-টাইম (পণ্য উৎপাদন থেকে বাজারে পৌঁছানোর সময়) কমে আসবে। এর ফলে দেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য বিশ্ববাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে।

৭. বন্দরের ব্যয় সাশ্রয়
বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নিজেরা বিনিয়োগ করবে। এ ছাড়া এখন কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বর্তমান মূল্য পরিশোধ করে অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। ফলে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিনিয়োগ করতে হবে না, একই সাথে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মূল্য কর্তৃপক্ষের তহবিলে যোগ হবে। এ ছাড়া যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় না থাকায় কর্তৃপক্ষের বার্ষিক বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে।

৮. বে টার্মিনাল ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পে সহায়তার পথ সুগম হওয়া
এনসিটি পরিচালনার মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সফল অংশীদারিত্ব তৈরি হলে, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত বে টার্মিনাল কিংবা মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও বিদেশি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অনেক সহজ হবে।

৯. মানবসম্পদ উন্নয়ন
আন্তর্জাতিক এই অপারেটরটি তাদের সাথে অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস সফটওয়‍্যার এবং গ্রিন পোর্ট টেকনোলজি (পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি) নিয়ে আসবে। এর ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় কর্মকর্তা ও বন্দর শ্রমিকরা আধুনিক বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পাবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক বন্দর ব্যবস্থাপনার মানবসম্পদকে দক্ষ করে তুলবে।

টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, নিরাপত্তার চাবিকাঠি দেশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি হবে শুধুমাত্র ‘টার্মিনাল অপারেশন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত, কোনোভাবেই নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয় নয়। বন্দর এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বহির্নোঙ্গর নজরদারি এবং সাইবার গেটওয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও দেশীয় নিরাপত্তাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং আইএসপিএস (ISPS) কোড কমপ্লায়েন্ট বন্দর। এই বৈশ্বিক কোডের নিয়ম অনুযায়ী, টার্মিনালের চূড়ান্ত নিরাপত্তার চাবিকাঠি থাকবে বন্দরের হাতে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিজস্ব বা বিদেশি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদের পূর্বানুমতি এবং কঠোর স্ক্রিনিং ছাড়া বন্দরের স্পর্শকাতর কোনো ডেটা বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

নিয়মিতভাবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংস্থা (যেমন ইউএস কোস্ট গার্ড এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-IMO) দ্বারা অডিট হয় বন্দরে। চট্টগ্রাম বন্দর সর্বদা ‘নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়ে আসছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর নিজেদের বাণিজ্যিক সুনাম ধরে রাখতেই ISPS কোডের নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ মেনে চলতে বাধ্য। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সামান্যতম গাফিলতি বা বিচ্যুতির ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বলবৎ থাকবে এবং প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের কঠোর আইনি ধারা রয়েছে। এ ছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরে যে স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (TOS) ব্যবহার করবে, তার প্রতিটি ডেটা এবং সিসিটিভি (CCTV) ফিড রিয়েল-টাইমে বাংলাদেশ কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে। ফলে বন্দরের ভেতরে কোন কনটেইনার আসছে বা যাচ্ছে, তার প্রতিটি তথ্যের ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তথ্য পাচার বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো প্রযুক্তিগত সুযোগ থাকবে না।

ল্যান্ডলর্ড মডেলের উৎকৃষ্ট প্রয়োগ
বিশ্বজুড়ে আধুনিক এবং বড় বড় সমুদ্রবন্দরগুলোর প্রায় ৮০% এরও বেশি বর্তমানে ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’ নীতিতে পরিচালিত হয়। রটারড্যাম, সিঙ্গাপুর, কিংবা দুবাইয়ের মতো বিশ্বসেরা বন্দরগুলো এই মডেল ব্যবহার করেই সফল হয়েছে। একটি আধুনিক বন্দর চালাতে প্রতিনিয়ত শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। ল্যান্ডলর্ড মডেলে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের দায়িত্ব বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক অপারেটরের ওপর চলে যায়। ফলে সরকারের বা সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা এই ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক বিনিয়োগে খরচ করতে হয় না। রাষ্ট্র সেই টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্যান্য সামাজিক খাতে ব্যবহার করতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করতে বা নতুন প্রযুক্তি কিনতে দীর্ঘ আইনি ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা বন্দরের গতি কমিয়ে দেয়। বেসরকারি অপারেটররা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক নিয়মে চলে। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হয় এবং আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের সাথে তাদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। এর ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়ে এবং জাহাজের বন্দরে অবস্থানকাল কমে যায়। অনেকের মনে ভয় থাকে, বেসরকারি বা বিদেশি কোম্পানিকে দিলে দেশ বন্দর হারাতে পারে। ল্যান্ডলর্ড মডেল এই ভয়কে সম্পূর্ণ দূর করে। এই মডেলে বন্দরের জমি, জেটি, জলসীমা এবং যাবতীয় স্থাবর সম্পত্তির মূল মালিকানা চিরকাল রাষ্ট্রের হাতেই থাকে। কোম্পানিটিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ‘অপারেশন বা পরিচালনার লাইসেন্স’ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে বা শর্ত ভঙ্গ করলে সরকার যেকোনো সময় তাদের বের করে দিতে পারে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো গ্লোবাল অপারেটরদের নিজস্ব বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থাকে। তারা যখন কোনো বন্দরে যোগ দেয়, তখন বিশ্বের বড় বড় শিপিং লাইনগুলো সেই বন্দরে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের আগমন বাড়ে। অপারেটর লাভ করুক বা না করুক, ল্যান্ডলর্ড মডেলের চুক্তি অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থির রয়‍্যালটি, লিজ রেন্ট এবং প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ওপর নির্দিষ্ট ফি সরাসরি পেয়ে যায়। অর্থাৎ, ঝুঁকি ছাড়াই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া একই সংস্থাকে যখন নিয়ম বানাতে হয় এবং নিজেই সেই নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়, তখন সেখানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা দক্ষতার অভাব দেখা দিতে পারে। ল্যান্ডলর্ড মডেল এই দুটি কাজকে আলাদা করে দেয়। সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ এখানে কাজ করে ‘রেগুলেটর’ হিসেবে (নিরাপত্তা, ট্যারিফ ও আইন দেখবে)। আর বিদেশি বা বেসরকারি অপারেটর কাজ করবে, যারা শুধু ব্যবসা ও অপারেশন চালাবে। এতে বন্দরের সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, গতিশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অংশীদার। মূলত শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এই তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে।

১. শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্স
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১২ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকেভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রবাসীদের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব আমিরাত থেকে গড়ে বছরে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন (৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাংলাদেশে এসেছে।

মাসিক গড় প্রবাহ
বর্তমানে আরব আমিরাত থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৩৫ কোটি থেকে 4৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে আসে। চলতি বছরের মে মাসের এক মাসের হিসাবেই দেশটি থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

২. দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার। দুই দেশই এই বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

৩. বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন
Currently বাংলাদেশে শীর্ষ ৫টি বিনিয়োগকারী দেশের একটি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সময়ে তারা বাংলাদেশের জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে বড় বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে।

৪. সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সাধারণ পর্যায় থেকে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো CEPA (Comprehensive Economic Partnership Agreement) বা ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য শুল্কমুক্ত হবে এবং বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে এগিয়ে নিতে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার চুক্তি নয় বরং এটি বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এগিয়ে যাওয়ার এক দূরদর্শী কৌশল। গ্লোবাল লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাত ধরে যুক্ত হবে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও আধুনিক প্রযুক্তি। আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’ এবং ‘আইএসপিএস কোড’-এর দ্বিমুখী সুরক্ষাকবচের কারণে একদিকে যেমন বন্দরের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব শতভাগ অক্ষুণ্ণ থাকছে। নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ‘আইএসপিএস (ISPS) কোড’ নিশ্চিত করবে বন্দরের বাণিজ্যিক গতি বাড়লেও এর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি সবসময় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতেই সুরক্ষিত থাকবে। বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং জাতীয় স্বার্থের এই সুষম সমন্বয় চট্টগ্রাম বন্দরকে আগামী দিনে আঞ্চলিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

সুফি বিশ্বাস: কলাম লেখক

‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

‘এটি শুধু কোনো গান নয়, যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ।’ এনজেল নূরের নতুন গান ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে এমনই মন্তব্য করেছেন শ্রোতা শেখ সাদমান। আরেক শ্রোতা আথিনা চাকমার কাছে নূরের কণ্ঠ মনে হয়েছে ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও স্নিগ্ধ।

গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রেমের সূচক’ প্রকাশ করেন এনজেল নূর। দুই সপ্তাহের মধ্যে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি নিজেই।

‘প্রেমের সূচক’ লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে যেমন একটি অতিথি পাখি সাময়িকভাবে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, আবার আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হয়—গানটিতেও তেমনই অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেছেন তিনি।

পাখিটি জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তাই প্রিয় পাখিকে বারবার তার প্রশ্ন, ‘এখনই যাবে কি চলে?’

গানটির ‘সূচক’ শব্দটির মধ্যেও একাধিক অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন এনজেল। এটি যেমন শুরু বোঝায়, তেমনি কোনো কিছুর পরিমাপক বা ইন্ডিকেটরও। তাঁর কাছে প্রিয় মানুষটির প্রতি থাকা ভালোবাসাই সেই প্রেমের অস্তিত্বের সূচক।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গান দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। তবে কোনো একটি গান জনপ্রিয় হলেই তার আদলে পরের গান তৈরি করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প।

এনজেল বলেন, তাঁর লেখা ৫৮টি গান রয়েছে এবং প্রতিটি গানে রয়েছে আলাদা গল্প। তাই নিজেকে তিনি সব সময় একজন ‘স্টোরি টেলার’ হিসেবেই পরিচয় দিতে চান।

তাঁর ভাষায়, তাঁর গানকে প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে ফেলা যায় না। এগুলো পুরোপুরি ক্ল্যাসিক্যাল নয়, আবার পুরোপুরি আধুনিকও নয়। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি মিল নেই। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব একটি স্বর ও গল্প রয়েছে।

সুর তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাঁর ফোনে জমা আছে ৪১২টি সুর। নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা নির্ধারিত সময়ে বসে এসব সুর তৈরি করেননি তিনি। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সুর মাথায় এলে তা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন।

কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করতে গিয়ে, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও মাথায় আসা সুর ধরে রেখেছেন তিনি।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রচলিত ‘হিট’ গানের ফর্মুলায় নিজেকে বাঁধতে চান না এনজেল। তাঁর কাছে অনেক সময় বাণিজ্যিক গানের চাহিদা এমন হয়, যেখানে দ্রুত বিনোদন দেওয়ার মতো বিট ও উপাদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁর মতে, শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে যদি সব গান একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে শিল্প বা গল্প বলার জায়গাটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসাও তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর মতে, এমন অনেক গান রয়েছে, যেগুলো প্রকাশের কয়েক দিন পরই শ্রোতাদের মনোযোগ থেকে হারিয়ে যায়।

এনজেল বরং চান, তাঁর গান ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং ১০ বছর পরও মানুষ সেগুলো শুনুক। তাঁর কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রোতা-সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এনজেল নূরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম তৈরির কাজও চলছে।

অভিনয়েও নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন এনজেল।

দ্রুত জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে নিজের মতো করে গল্প বলে যাওয়াই যেন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে এনজেলের কাছে গানই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।

কালের আলো/এসএ

রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে দেশের প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বিধানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সব শেয়ার ও সিকিউরিটির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইকুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

তবে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবন বিমা ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের ট্রেইলিং পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইয়ের পরিবর্তে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি অথবা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন ঋণ নিতে হলে গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। পাশাপাশি ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে। মূল বাজারের ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন নিয়মে পোর্টফোলিওর ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন কল দিতে হবে। আর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। তবে গ্রাহককে লিখিতভাবে, ই-মেইল, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা প্রয়োজন হলে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। একই সঙ্গে মার্জিন অর্থায়নের অর্থ শুধু মার্জিন-যোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে বছরে অন্তত চারটি সভা করতে হবে।

এ ছাড়া ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহ সুপারভাইজারি বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা করতে হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি