খুঁজুন
                               
, ,
           

বেনজিরের গ্রেফতার: রুই-কাতলাও ধরা পড়ছে সরকারের জালে!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
বেনজিরের গ্রেফতার: রুই-কাতলাও ধরা পড়ছে সরকারের জালে!

ক্ষমতা মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারে—প্রভাব, প্রতিপত্তি, সম্পদ, ভয় প্রদর্শনের সামর্থ্য এবং কখনো কখনো নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার বিভ্রমও। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম সৌন্দর্য হলো, প্রকৃতি ও ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কাউকেই ছাড় দেয় না। সময়ের আদালত অনেক দেরিতে বসলেও তার রায় সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষগুলোকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঠিক তেমনই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি কেবল একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর নয়; এটি এমন এক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রশ্ন, যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে অনেকের কাছে অপ্রতিরোধ্য, অজেয় এবং জবাবদিহির ঊর্ধ্বে বলে মনে হয়েছে।

তাই বেনোজিরের এই গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ বেনজীর আহমেদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি সময়ের প্রতীক, একটি ক্ষমতার কাঠামোর প্রতীক এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর অন্যতম মুখ।

আমার বিবেচনায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা প্রশাসনিক অসদাচরণের অভিযোগে প্রকৃত অর্থে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি করার নজির খুবই কম। অনেক সময় জনমতের চাপ সামাল দিতে কিংবা আইনের শাসনের একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরতে কিছু ছোটখাটো ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করা রুই-কাতলাদের অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।

সেই বাস্তবতায় বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি একটি নতুন বার্তা বহন করে। এটি দেখিয়ে দেয় যে রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং আইনি প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে চায়, তাহলে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই অপরাধীর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে না।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ইন্টারপোলের সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী দুবাই থেকে এমন একজন প্রভাবশালী সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই ঘটনার আরেকটি রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছেও এটি একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কিংবা উত্তর আমেরিকায় অবস্থান করে যারা মনে করেন অতীতের ক্ষমতা, অর্থ কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তাদের জন্য স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, তাদের জন্য এই ঘটনা নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্তত জনমনে এমন ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছে যে আইনের দীর্ঘ হাত একসময় অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে অনেকেই আওয়ামী লীগের দেশত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। যারা বিদেশের মাটিতে বসে দ্রুত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছেও এই গ্রেপ্তার একটি নতুন ও বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। পৃথিবী এখন অনেক ছোট। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যুগে কোনো প্রভাব, কোনো অর্থ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বিদেশি আশ্রয় আর চূড়ান্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে আমার কাছে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অন্যত্র।

এখানে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতে চাই। ২০০৮ সালে আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মরত ছিলাম। ১/১১-সরকারের সময়ে পুলিশ সংস্কার নিয়ে আমি বেনজীর আহমেদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সে সময় তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি অর্থ ও উন্নয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজকের বিতর্কিত ও আলোচিত বেনজীরকে ঘিরে জনমনে যে চিত্রটি বিদ্যমান, সেই মানুষটিকে তখন আমার মোটেও দাম্ভিক বা অহংকারী মনে হয়নি। বরং তাকে একজন মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিশ্রুতিশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেই মনে হয়েছিল।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই মানুষটিকেই আমরা এক ভিন্ন রূপে দেখেছি। এখানেই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—সমস্যা কি শুধু একজন বেনজীর আহমেদ, নাকি সেই রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কাঠামোও, যা একজন কর্মকর্তাকে ধীরে ধীরে এতটা ক্ষমতাবান, এতটা প্রভাবশালী এবং শেষ পর্যন্ত এতটা বিতর্কিত করে তুলতে পারে?

আমি বিশ্বাস করি, কোনো বেনজীর একদিনে তৈরি হন না। তাকে তৈরি করে একটি সংস্কৃতি, একটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং একটি শাসনব্যবস্থা। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও বহু সময় তার আড়ালে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার চর্চা হয়েছে। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহির অভাব, প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং ব্যক্তি-নির্ভর শাসনব্যবস্থা মিলেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের রাষ্ট্রের সেবক নয়, বরং রাষ্ট্রের মালিক ভাবতে শুরু করেন।

আজকের বেনজীর একদিন হঠাৎ করে তৈরি হননি। ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রশ্রয়, জবাবদিহির অভাব এবং ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি মিলেই এমন বাস্তবতার জন্ম দেয়। ফলে কেবল একজন ব্যক্তির পতনে সন্তুষ্ট হলে চলবে না; বরং সেই পরিবেশ এবং সংস্কৃতিরও অবসান ঘটাতে হবে, যা নতুন নতুন বেনজীর তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে।

আমার কাছে বেনজীরের গ্রেপ্তারের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য এখানেই। এটি শুধু অতীতের অভিযোগ ও বিতর্কের বিচার প্রক্রিয়ার বিষয় নয়; এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্যও একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। প্রশাসন, পুলিশ কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের যেকোনো স্তরে যারা ক্ষমতার মোহে নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেন, যারা মনে করেন পদ-পদবি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি তাদের চিরস্থায়ী নিরাপত্তা দেবে, তাদের জন্য এই ঘটনা গভীরভাবে ভাবার বিষয়।

বাংলাদেশের সামনে আজ একটি ঐতিহাসিক সুযোগ উপস্থিত হয়েছে। আমরা কি শুধু একজন ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করেই সন্তুষ্ট থাকব, নাকি সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটাব, যা ক্ষমতার অপব্যবহারকে উৎসাহিত করে? আমরা কি শুধু লেজ ধরে টানাটানি করব, নাকি সমস্যার মূল শিকড়ে হাত দেব?

কারণ প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এবং ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় মূল্যবোধে পরিণত করতে হলে প্রয়োজন আমূল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

রাষ্ট্রকে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে, প্রতিষ্ঠানকে দলের চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে এবং আইনকে ক্ষমতার চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে। নচেৎ ইতিহাসের চাকা ঘুরতেই থাকবে। নাম বদলাবে, মুখ বদলাবে, কিন্তু বেনজীরেরা হারিয়ে যাবে না। একজনের পতনের পর আরেকজনের উত্থান ঘটবে। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সেই অন্তহীন চক্র ভাঙতে প্রস্তুত, নাকি আমরা আবারও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখব?

এখানে একটি সত্য আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত। রাজনীতিবিদ, আমলা, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের সদস্য কিংবা ব্যবসায়ী—পদ ও পরিচয় যাই হোক না কেন, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অহংকার কখনো কোনো মানুষকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব কিংবা ক্ষমতার চাকচিক্য হয়তো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার বিবেকের কাছে নির্দোষ থাকার শক্তি।

পৃথিবীতে গভীর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার মতো বড় প্রাপ্তি খুব কমই আছে। আর সেই প্রশান্তি অর্থ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব দিয়ে কেনা যায় না; সেটি অর্জন করতে হয় সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং নৈতিক সাহসের মাধ্যমে।

পরিশেষে বলতে চাই, হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে শুধুমাত্র একজন সাবেক আইজিপির গ্রেপ্তার হিসেবে মনে রাখবে না। তারা এটিকে মনে রাখবে এমন এক মুহূর্ত হিসেবে, যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ক্ষমতার দুর্গে আঘাত হানার সাহস দেখিয়েছিল। যখন রাষ্ট্র অন্তত প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল যে পদ-পদবি, অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে দিতে পারে না।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সরকার আসবে, সরকার যাবে; রাজনৈতিক দল পরিবর্তিত হবে, ক্ষমতার পালাবদল হবে; কিন্তু কোনো নাগরিককে বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না, কোনো কর্মকর্তাকে ক্ষমতার জোরে নিজেকে রাষ্ট্রের চেয়ে বড় ভাবার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আইনের নিরাপত্তা ভোগ করবে সাধারণ মানুষও, আবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিও একই আইনের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে। সুতরাং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এখনই নতুন অঙ্গীকারের সময়। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান; ক্ষমতা নয়, জবাবদিহি; ভয় নয়, স্বাধীনতা; আনুগত্য নয়, ন্যায়বিচার—এই দর্শনের ওপরই গড়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষর, তদন্তের দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষর, তদন্তের দাবি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের ‘রিবুট ফিফা’ প্রচারণায় ১ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ফিফার পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বড় পরিসরে অভিযোগ উত্থাপন করা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে নতুন করে অভিযোগ জমা দিয়েছে ফেয়ারস্কয়ার। সংগঠনটি অভিযোগটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ইনফান্তিনোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফিফা সভাপতির ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা এবং দায়িত্ব পালনে ঘাটতির প্রমাণ রয়েছে।

অভিযোগে মোট আটটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি এ ঘটনায় ফিফাকে লাল কার্ডটি পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন।

এ ছাড়া ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, ট্রাম্পকে ফিফার শান্তি পুরস্কার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ ইনফান্তিনোর সম্পৃক্ততার বিষয়ও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ‘আমেরিকাকে মহান করার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে মহান’ করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর মন্তব্যকেও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও ফিফার নৈতিকতা কমিটি এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে নতুন অভিযোগটি নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।

অন্যদিকে ফিফা অভিযোগগুলোকে সভাপতি ও সংস্থাটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিফার দাবি, সদস্য ফেডারেশনগুলোর সমর্থন না পাওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ফল অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন না।

এই বিতর্কের মধ্যেই আগামী বছর ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তার পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি, শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে তারিখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি, শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে তারিখ

ঢাকা-কলকাতা রুটের আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর আসতে পারে। ট্রেনটি চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, খুব শিগগিরই একটি ভালো খবর দেওয়া সম্ভব হবে। ট্রেনটি চালুর জন্য দ্রুততম সময়ে কাজ চলছে এবং শিগগিরই নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

তিনি বলেন, বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি দুই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সড়ক ও রেল যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও বাড়াতে সড়ক, রেল ও নৌপথের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। এখন এটি কীভাবে আবার চালু করা যায়, সে বিষয়ে দুই দেশই ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি সাজিয়ে বিয়ে দিতেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি সাজিয়ে বিয়ে দিতেন স্বামী

স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিয়ের পর কয়েক দিনের মধ্যেই নববিবাহিত স্বামীর টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ওই নারী পালিয়ে যেতেন বলেও অভিযোগ। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গায়। সম্প্রতি এক নববিবাহিত যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক যুবক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে তার ‘চাচাশ্বশুর’ এবং ওই নারীকে নিজের ভাতিজি পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের প্রায় এক মাস পর যুবক জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, সেই নারী আসলে ওই ব্যক্তিরই স্ত্রী।

এরপরই থানায় গিয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়াই ছিল অভিযুক্ত দম্পতির মূল উদ্দেশ্য। এর আগেও একই কৌশলে তারা একাধিক বিয়ে করিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ অভিযোগ না করায় এতদিন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেগঙ্গার ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। এক ঘটকের মাধ্যমে এক যুবতীর সন্ধান পাওয়ার পর ছবি দেখে তাকে পছন্দ করেন।

প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে কনের ‘চাচা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিই আশীর্বাদ করেন এবং কন্যা সম্প্রদান করেন। পাত্রপক্ষকে তিনি জানান, মেয়েটি তার একমাত্র ভাতিজি এবং পরিবারের আর কোনো সদস্য নেই।

কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নববিবাহিত যুবকের সন্দেহ হতে থাকে। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—বিয়ের সময় যে ব্যক্তি নিজেকে কনের চাচা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনিই ওই নারীর স্বামী।

ওই দম্পতির দুটি মেয়েও রয়েছে। তাদের দুজনেরই ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। সেখানে তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও অভিযোগকারী যুবক তার বক্তব্যে অনড় থাকেন। পরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

দেগঙ্গা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় বলে জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে স্বামী-স্ত্রী। তাদের মধ্যে চাচা ও ভাতিজির কোনো সম্পর্ক নেই।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে একই নারীকে কখনো নিজের ভাতিজি, আবার কখনো নিজের মেয়ে পরিচয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করতেন। এরপর ওই নারীর সঙ্গে পাত্রের বিয়ে দেওয়া হতো। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই নববিবাহিত স্বামীর টাকা ও গয়না নিয়ে দুজন পালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

সর্বশেষ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এসএ