খুঁজুন
                               
, ,
           

ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা অনুমোদনের সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়; এর রয়েছে গভীর নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতে গৃহীত বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে ছিল।

রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর মতো একটি পেশাদার ও শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আস্থা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রতিষ্ঠান শুধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই এখানে যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যক্তি পর্যায়ের বাইরে গিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত বা চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, তারা প্রশাসনিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের শিকার হয়েছেন। সেই দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাহিনীসমূহের সদর দপ্তরের মাধ্যমে একাধিক কমিটি ও বোর্ড গঠন করা হয়।

এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি আবেদনসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাও নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো আকস্মিক বা একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি দীর্ঘ প্রশাসনিক পর্যালোচনা, মূল্যায়ন এবং সুপারিশের মাধ্যমে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সরকার একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের অভিযোগসমূহ পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা করেছে।

তবে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানও গভীরভাবে জড়িত। যদি কোনো সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিবেচনা বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা। কারণ রাষ্ট্র কখনোই কেবল বর্তমান সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তি হলো যোগ্যতা, শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। একজন কর্মকর্তা যখন তার কর্মজীবনে পদোন্নতি বা দায়িত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব অনুভব করেন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয় না; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। এই আস্থার সংকট দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার বাহিনীর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। রাষ্ট্র যদি অতীতের বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করে, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে গৃহীত হবে।

তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। যে কোনো পুনর্বাসন বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির প্রক্রিয়া যতটা স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর এবং নিরপেক্ষ হবে, ততটাই এটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত শুধু ঘোষণা দিয়ে নয়; বরং তার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েও মূল্যায়িত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে আস্থা পুনর্গঠন। কেবল অতীতের ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে পদোন্নতি, বদলি, অবসর ও শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্তগুলোতে যদি স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড সুস্পষ্ট থাকে, তাহলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের আরেকটি পরোক্ষ দিক হলো রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন। অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ সময়ের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হলো সেই প্রশ্নগুলো উপেক্ষা না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার উত্তর খোঁজা। সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই দিকেরই একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নীতিগত বার্তাও বহন করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, কোনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে না। এখানে যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বই চূড়ান্ত মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাব যত কম থাকবে, ততই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, যারা সত্যিকার অর্থে বৈষম্য বা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের মানবিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার কখনো বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা চিরতরে অস্বীকার করা রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতিগত অবস্থানই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা বজায় রাখে। সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে সরকারের এই সিদ্ধান্তে।

পরিশেষে বলা যায়, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কেবল ১৫০ জন কর্মকর্তার পুনর্বাসন বা তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের প্রক্রিয়া যদি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি