খুঁজুন
                               
, ,
           

ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা অনুমোদনের সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়; এর রয়েছে গভীর নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতে গৃহীত বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে ছিল।

রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর মতো একটি পেশাদার ও শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আস্থা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রতিষ্ঠান শুধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই এখানে যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যক্তি পর্যায়ের বাইরে গিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত বা চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, তারা প্রশাসনিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের শিকার হয়েছেন। সেই দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাহিনীসমূহের সদর দপ্তরের মাধ্যমে একাধিক কমিটি ও বোর্ড গঠন করা হয়।

এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি আবেদনসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাও নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো আকস্মিক বা একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি দীর্ঘ প্রশাসনিক পর্যালোচনা, মূল্যায়ন এবং সুপারিশের মাধ্যমে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সরকার একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের অভিযোগসমূহ পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা করেছে।

তবে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানও গভীরভাবে জড়িত। যদি কোনো সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিবেচনা বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা। কারণ রাষ্ট্র কখনোই কেবল বর্তমান সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তি হলো যোগ্যতা, শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। একজন কর্মকর্তা যখন তার কর্মজীবনে পদোন্নতি বা দায়িত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব অনুভব করেন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয় না; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। এই আস্থার সংকট দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার বাহিনীর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। রাষ্ট্র যদি অতীতের বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করে, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে গৃহীত হবে।

তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। যে কোনো পুনর্বাসন বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির প্রক্রিয়া যতটা স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর এবং নিরপেক্ষ হবে, ততটাই এটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত শুধু ঘোষণা দিয়ে নয়; বরং তার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েও মূল্যায়িত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে আস্থা পুনর্গঠন। কেবল অতীতের ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে পদোন্নতি, বদলি, অবসর ও শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্তগুলোতে যদি স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড সুস্পষ্ট থাকে, তাহলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের আরেকটি পরোক্ষ দিক হলো রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন। অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ সময়ের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হলো সেই প্রশ্নগুলো উপেক্ষা না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার উত্তর খোঁজা। সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই দিকেরই একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নীতিগত বার্তাও বহন করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, কোনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে না। এখানে যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বই চূড়ান্ত মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাব যত কম থাকবে, ততই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, যারা সত্যিকার অর্থে বৈষম্য বা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের মানবিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার কখনো বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা চিরতরে অস্বীকার করা রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতিগত অবস্থানই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা বজায় রাখে। সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে সরকারের এই সিদ্ধান্তে।

পরিশেষে বলা যায়, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কেবল ১৫০ জন কর্মকর্তার পুনর্বাসন বা তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের প্রক্রিয়া যদি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে দৌড়ে পালালেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে দৌড়ে পালালেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক

সরকারি হাসপাতালের কর্মঘণ্টা ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামাম উল হক।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরামবাগ মোড়ে অবস্থিত ‘চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে’ রোগী দেখার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়েছেন।

জানা গেছে, ডা. ইনজামাম উল হক দীর্ঘদিন ধরে অফিস চলাকালে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ রোগী দেখার কাজ করে আসছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ওই দিন সকাল থেকেই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে’ অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে একজনকে রোগী সাজিয়ে পাঠানো হয় ওই হাসপাতালে। সেখানে এক হাজার টাকা ফি দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রামের সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে ওই হাসপাতালে আসেন ডা. ইনজামাম।

তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমে ঢুকে কাজ শুরু করতেই সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ক্যামেরা দেখামাত্রই ওই কক্ষ থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান এই চিকিৎসক।

পালিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ডা. ইনজামামের পিছু নিলে তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে নামাজ পড়তে এসেছিলেন। তবে জোহরের আজানের সময় প্রাইভেট ক্লিনিকের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষে তার কী কাজ—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

ডা. ইনজামামকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাচ্ছি না। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার এখানে এসে চিকিৎসা করেছে টাকার জন্য। তাহলে আমরা কোথায় যাবো, কোথায় চিকিৎসা পাবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, ডা. ইনজামাম সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার সঙ্গেই দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরপরের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

তিনি বলেন, অফিস চলাকালে বাইরে প্র্যাকটিস করাটা কারও পক্ষেই সমীচীন নয়। তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া একটি লিখিত অভিযোগ পেলে একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভাটারায় গ্রিলের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মিস্ত্রির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
ভাটারায় গ্রিলের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মিস্ত্রির

রাজধানীর ভাটারায় ওয়্যারিংয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আব্দুল বারী (২৪) নামে এক গ্রিল মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার সময় ভাটারা থানাধীন কোকোকোলা ঢালিবাড়ি কাঁচাবাজারের সামনে একটি ভবনে গ্রিলের ওয়ারিংয়ের কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল বারী ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জুরবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গ্রিল মিস্ত্রি ছিলেন।

​নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী আব্দুল রাসেল জানান, বিকেলে কোকোকোলা ঢালিবাড়ি কাঁচাবাজারের সামনে একটি ভবনে গ্রিলের ওয়ারিংয়ের কাজ করছিলেন আব্দুল বারী। কাজ করার এক পর্যায়ে তিনি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।

তাৎক্ষণিক তার সহকর্মী আমাকে এ বিষয় জানালে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল পৌনে ৬টায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

সরকার মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সব শিক্ষার্থীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। একটি সংস্কৃতি, অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না; বরং তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং তারা নিজ নিজ প্রতিভা বিকাশে কাজ করবে। এগুলোই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শ ও নীতি। আমরা যখন সামনে এগিয়ে যাব, তখন এসব নীতি বাস্তবায়নে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সব অংশীজনের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই অর্থ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারব, যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রয়োজনীয়তা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আজ যে অনুদান পাচ্ছি, তা সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। আমরা চাই, আমাদের সব উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রীর প্রণীত নীতিকাঠামো এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে অনুদান ও দক্ষতার ব্যবহার যেন সরাসরি সঙ্গতিপূর্ণ হয়। আমরা যেমন এই তহবিলকে স্বাগত জানাতে এসেছি, তেমনি সরকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে চাই। যাতে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এই নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়।

সব আন্তর্জাতিক অংশীজন ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কাজ করলে উল্লেখযোগ্য ও অর্থবহ পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করে গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’-এর মতো উদ্যোগকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। এ কারণে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুলব্যাগ ও একই জুতা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন মতামত পাচ্ছি এবং সে অনুযায়ী কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, পাঠদানের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের বৃহত্তর পরিমণ্ডলের দিকেও নজর দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ, বৈষম্য হ্রাসসহ নানা বিষয়। আমরা এগুলোকে ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি। তাই শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছেন, শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আরও পরিশীলিত করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সেরা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা ও মাল্টিপলার গ্র্যান্ট শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে একসঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করা হবে, যাতে এই অনুদান শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে সহায়তা করে এবং একই সঙ্গে প্রধান অংশীজনদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচিও এগিয়ে যায়।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখছি, এখানে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের একটি গ্র্যান্ট নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা একত্রিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক করতে চাই। এর মাধ্যমে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। যাতে তারা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ লক্ষ্যেই আমরা পাঠ্যক্রম উন্নয়নের কাজ করছি। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি কার্যক্রম তখনই সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, যখন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কান্ডারি শিক্ষার্থীদের এবং তাঁদের গড়ে তোলা শিক্ষক তথা শিক্ষাবিদদের দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এর মৌলিক ভিত্তি হবে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই একযোগে কাজ করলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে সেইভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেমনটি প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন। আমরা একটি আধুনিক, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং আগামী দিনের সুশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষক তৈরির ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন