খুঁজুন
                               
, ,
           

ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র, পেশাদারিত্বে সশস্ত্র বাহিনী

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা অনুমোদনের সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়; এর রয়েছে গভীর নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতে গৃহীত বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে ছিল।

রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর মতো একটি পেশাদার ও শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আস্থা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রতিষ্ঠান শুধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই এখানে যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যক্তি পর্যায়ের বাইরে গিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত বা চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, তারা প্রশাসনিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের শিকার হয়েছেন। সেই দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাহিনীসমূহের সদর দপ্তরের মাধ্যমে একাধিক কমিটি ও বোর্ড গঠন করা হয়।

এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি আবেদনসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাও নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো আকস্মিক বা একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি দীর্ঘ প্রশাসনিক পর্যালোচনা, মূল্যায়ন এবং সুপারিশের মাধ্যমে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সরকার একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের অভিযোগসমূহ পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা করেছে।

তবে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানও গভীরভাবে জড়িত। যদি কোনো সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিবেচনা বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা। কারণ রাষ্ট্র কখনোই কেবল বর্তমান সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তি হলো যোগ্যতা, শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। একজন কর্মকর্তা যখন তার কর্মজীবনে পদোন্নতি বা দায়িত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব অনুভব করেন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয় না; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। এই আস্থার সংকট দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার বাহিনীর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। রাষ্ট্র যদি অতীতের বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করে, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে গৃহীত হবে।

তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। যে কোনো পুনর্বাসন বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির প্রক্রিয়া যতটা স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর এবং নিরপেক্ষ হবে, ততটাই এটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত শুধু ঘোষণা দিয়ে নয়; বরং তার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েও মূল্যায়িত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে আস্থা পুনর্গঠন। কেবল অতীতের ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে পদোন্নতি, বদলি, অবসর ও শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্তগুলোতে যদি স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড সুস্পষ্ট থাকে, তাহলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের আরেকটি পরোক্ষ দিক হলো রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন। অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ সময়ের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হলো সেই প্রশ্নগুলো উপেক্ষা না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার উত্তর খোঁজা। সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই দিকেরই একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নীতিগত বার্তাও বহন করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, কোনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে না। এখানে যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বই চূড়ান্ত মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাব যত কম থাকবে, ততই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, যারা সত্যিকার অর্থে বৈষম্য বা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের মানবিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার কখনো বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা চিরতরে অস্বীকার করা রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতিগত অবস্থানই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা বজায় রাখে। সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে সরকারের এই সিদ্ধান্তে।

পরিশেষে বলা যায়, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কেবল ১৫০ জন কর্মকর্তার পুনর্বাসন বা তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের প্রক্রিয়া যদি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি