খুঁজুন
                               
, ,
           

মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

সরকার মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সব শিক্ষার্থীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। একটি সংস্কৃতি, অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না; বরং তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং তারা নিজ নিজ প্রতিভা বিকাশে কাজ করবে। এগুলোই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শ ও নীতি। আমরা যখন সামনে এগিয়ে যাব, তখন এসব নীতি বাস্তবায়নে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সব অংশীজনের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই অর্থ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারব, যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রয়োজনীয়তা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আজ যে অনুদান পাচ্ছি, তা সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। আমরা চাই, আমাদের সব উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রীর প্রণীত নীতিকাঠামো এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে অনুদান ও দক্ষতার ব্যবহার যেন সরাসরি সঙ্গতিপূর্ণ হয়। আমরা যেমন এই তহবিলকে স্বাগত জানাতে এসেছি, তেমনি সরকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে চাই। যাতে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এই নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়।

সব আন্তর্জাতিক অংশীজন ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কাজ করলে উল্লেখযোগ্য ও অর্থবহ পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করে গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’-এর মতো উদ্যোগকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। এ কারণে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুলব্যাগ ও একই জুতা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন মতামত পাচ্ছি এবং সে অনুযায়ী কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, পাঠদানের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের বৃহত্তর পরিমণ্ডলের দিকেও নজর দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ, বৈষম্য হ্রাসসহ নানা বিষয়। আমরা এগুলোকে ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি। তাই শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছেন, শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আরও পরিশীলিত করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সেরা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা ও মাল্টিপলার গ্র্যান্ট শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে একসঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করা হবে, যাতে এই অনুদান শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে সহায়তা করে এবং একই সঙ্গে প্রধান অংশীজনদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচিও এগিয়ে যায়।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখছি, এখানে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের একটি গ্র্যান্ট নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা একত্রিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক করতে চাই। এর মাধ্যমে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। যাতে তারা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ লক্ষ্যেই আমরা পাঠ্যক্রম উন্নয়নের কাজ করছি। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি কার্যক্রম তখনই সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, যখন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কান্ডারি শিক্ষার্থীদের এবং তাঁদের গড়ে তোলা শিক্ষক তথা শিক্ষাবিদদের দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এর মৌলিক ভিত্তি হবে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই একযোগে কাজ করলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে সেইভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেমনটি প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন। আমরা একটি আধুনিক, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং আগামী দিনের সুশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষক তৈরির ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

জামায়াতের সেই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে যা বললেন ইসি আনোয়ারুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সেই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে যা বললেন ইসি আনোয়ারুল

Oplus_131072

চাকরিপ্রত্যাশী এক কিশোরীর সঙ্গে বিতর্কিত কার্যকলাপে জড়িয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। এরই মধ্যে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

তবে, এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশন এখনও পায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বহিষ্কারের চিঠি হাতে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন কথা জানান এমনটা জানান ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এর আগে, একই দিন বিকেলে এক জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডের বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারায় তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে। ভিডিওটিতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

কালের আলো/এসএকে

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি রবিউল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি রবিউল আলম

Oplus_131072

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সমন্বিত বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগকে অবশ্যই শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, কার্যকর সমন্বয় এবং জবাবদিহিতার কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে হবে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়, যা বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে। এ দর্শন দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও কেবল ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতারই ধারাবাহিক প্রকাশ।

এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত অধ্যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক-তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন-বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তাঁর মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে। এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

কালের আলো/এসআর/এএএন