খুঁজুন
                               
, ,
           

সীমান্তে বিএসএফের বাড়াবাড়ি প্রশ্নের মুখে ভারতীয় নীতি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিএসএফের বাড়াবাড়ি প্রশ্নের মুখে ভারতীয় নীতি

সীমান্ত একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা মাত্র নয়; এটি তার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সুস্পষ্ট প্রতীক। এ কারণেই কোনো দেশের সীমান্তে অন্য দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একতরফা পদক্ষেপ শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক আচরণের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিছক একটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয় নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ উঠছে যে যথাযথ যাচাই-বাছাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রত্যাবাসনের স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে—এ ধরনের কর্মকাণ্ড আদৌ কি বিধিসম্মত?

আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি হলো, কোনো রাষ্ট্র অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর একতরফাভাবে তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আর যদি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক না হন, তাহলে তাকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কাজেই ‘পুশইন’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতি আইনগতভাবে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভারত সব সময়ই নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবিও করে। কিন্তু সীমান্তে বারবার যে আচরণ দেখা যায়, তা সেই ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বহু বছর ধরেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সীমান্ত হত্যা, গুলি চালানো, নাগরিক হয়রানি, কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বিরোধ, পানি বণ্টন সংকট—এসবের সঙ্গে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে পুশইনের অভিযোগ। প্রশ্ন হচ্ছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবিদার একটি রাষ্ট্রের সীমান্ত আচরণ কেন বারবার বিতর্কের জন্ম দেয়?

এখানে একটি সত্য আমাকে স্বীকার করতেই হবে। ভারতের সঙ্গে যেসব দেশের সীমান্ত রয়েছে, বিশেষ করে যেসব দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এমন একতরফা আচরণ খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায়ই এমন মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, যেন ঢাকা নয়াদিল্লির সমমর্যাদার অংশীদার নয়, বরং নির্দেশ গ্রহণকারী কোনো অধস্তন পক্ষ। ভারতের এই মানসিকতাই সমস্যার মূল।

বাংলাদেশ কোনো করদ রাজ্য নয়, কোনো প্রটেক্টরেট নয়, কোনো প্রভাব বলয়ের উপনিবেশও নয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। ফলে সীমান্তে যে কোনো কর্মকাণ্ড পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সময়কালও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে নতুন কিছু বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। তিস্তা প্রকল্প, পানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পদ্মা ব্যারাজের মতো বৃহৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এসব উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এখানে সরাসরি কোনো কারণ-ফল সম্পর্কের দাবি করা কঠিন। তবে এটাও সত্য যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপ প্রয়োগের ভাষা সব সময় প্রকাশ্য হয় না। অনেক সময় সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি কিংবা নিরাপত্তা ইস্যুকেও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তবে যে কারণই থাকুক না কেন, সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে কোনো ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যায় না। বরং এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বন্ধুত্বের কথা বললেও সীমান্তের বাস্তবতা তখন সেই বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সময় ভারতের পক্ষ থেকে এমন আচরণ দেখা যায়, যেন বাংলাদেশ প্রতিবাদ করলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মেনে নেবে। এই ধারণা শুধু ভুল নয়, বিপজ্জনকও। কারণ মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘদিন নীরব থাকতে পারে না। ভারতের এই সত্য উপলব্ধি করা একান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশের জনগণ ভারতের শত্রু নয়। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করে। কিন্তু বন্ধুত্ব কখনো একতরফা হতে পারে না। বন্ধুত্বের নামে যদি সীমান্তে গুলি চলে, মানুষ মারা যায়, কিংবা কথিত পুশইনের মাধ্যমে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেই সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হতে বাধ্য।

সবচেয়ে বড় কথা, কোনো রাষ্ট্রের শক্তিমত্তার প্রকৃত পরিচয়  প্রতিবেশীর ওপর প্রভাব খাটানোর মধ্যে নয়; বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। ভারত যদি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে তাকে প্রথমেই তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণের ধরন পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশেরও উচিত এই বিষয়ে আরও দৃঢ়, সুস্পষ্ট এবং নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করা। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন, একতরফা সিদ্ধান্ত কিংবা আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। কারণ আজ যদি সীমান্তে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা হয়, কাল সেটি আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

পুশইনের অভিযোগ তাই কেবল সীমান্তের একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সত্যিই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সীমান্তে বারবার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে?

একটি বিষয় পরিষ্কার—বন্ধুত্ব কখনো শক্তির প্রদর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বন্ধুত্ব দাঁড়িয়ে থাকে সম্মান, আস্থা এবং পারস্পরিক মর্যাদাবোধের ওপর। সীমান্তে একতরফা পদক্ষেপ, কথিত পুশইন, সীমান্ত হত্যা কিংবা আন্তর্জাতিক রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে পরিচালিত কর্মকাণ্ড সেই আস্থার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।

ভারতের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করা উচিত যে, আজকের বাংলাদেশ আর কোনো দুর্বল বা নীরব রাষ্ট্র নয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করে যদি এখনো পুরোনো আধিপত্যবাদী মানসিকতা থেকে সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে।

বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু তারা নিজেদের রাষ্ট্রের মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আপস করতেও প্রস্তুত নয়। সীমান্তে প্রতিটি গুলি, প্রতিটি মৃত্যু, প্রতিটি পুশইন অভিযোগ এবং প্রতিটি একতরফা পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে—ভারত কি সত্যিই বাংলাদেশকে সমমর্যাদার বন্ধু হিসেবে দেখে, নাকি কেবল একটি কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কূটনৈতিক বিবৃতিতে নয়, সীমান্তের বাস্তব আচরণেই নিহিত।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। বন্ধুত্বের নামে আধিপত্য কিংবা সহযোগিতার আড়ালে একতরফা চাপ গ্রহণযোগ্য নয়। নয়াদিল্লি যত দ্রুত এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করবে, ততই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি