খুঁজুন
                               
, ,
           

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ

রাষ্ট্রের কোষাগারে যে অর্থ জমা হয়, তার প্রতিটি টাকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন কৃষকের ঘাম, একজন শ্রমিকের পরিশ্রম, একজন প্রবাসীর ত্যাগ, একজন ব্যবসায়ীর কর এবং কোটি মানুষের স্বপ্ন। তাই রাষ্ট্রের অর্থ কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সাহসী, সময়োপযোগী এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।

বিশ্ব অর্থনীতি এখনও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অস্থিরতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যয়কে আরও বিচক্ষণ, আরও দায়িত্বশীল এবং আরও ফলপ্রসূ করে তোলার বিকল্প নেই।

এই প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয় স্থগিত, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কড়াকড়ি, সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে গাড়ি কেনা বন্ধ এবং নতুন ভবন নির্মাণে বিধিনিষেধ আরোপ—এসব সিদ্ধান্ত একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে: তারেক রহমানের সরকার এখন ব্যয়ের চেয়ে প্রয়োজনকে, আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে জনস্বার্থকে এবং বিলাসিতার চেয়ে জবাবদিহিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।

দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল—সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয় কি সত্যিই জনকল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে? বিদেশ সফর, নতুন গাড়ি, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অহেতুক আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে নানা সময়ে সমালোচনা হয়েছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নের একটি বাস্তবধর্মী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এটি প্রমাণ করে, রাষ্ট্র চাইলে নিজের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে পারে।

এই নীতির আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো বাস্তবতার প্রতি সম্মান। জরুরি সেবা, নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দশ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন কিংবা নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক প্রয়োজনকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ উন্নয়নের গতি থামিয়ে নয়, অপচয়ের পথ বন্ধ করেই সাশ্রয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় সরকার।

পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিষয়টিও এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নতুন সরকারি জিপ বা কারকে ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) করার সিদ্ধান্ত শুধু আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের প্রতীক নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিও। জ্বালানি আমদানির চাপ কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার অযথা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সরকারের লক্ষ্য দক্ষতা অর্জনের পথ বন্ধ করা নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম চাহিদা পূরণ করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগের প্রয়োজন বাড়ছে। তাই অপচয়ের প্রতিটি টাকা যদি সাশ্রয় করে জনকল্যাণে ব্যয় করা যায়, তবে সেটিই হবে প্রকৃত উন্নয়নের দর্শন।

তবে একটি বিষয় কখনোই ভুলে গেলে চলবে না—ভালো সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার বাস্তবায়নে। যদি এই নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, যদি ব্যতিক্রমের সুযোগ অপব্যবহারের পথ বন্ধ হয়, যদি প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, তবে জনগণই হবে এর সবচেয়ে বড় উপকারভোগী। অন্যথায় পরিপত্র কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর পরিবর্তনের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যাবে।

অর্থ বিভাগের পরিপত্রে “ভ্যালু ফর মানি”—অর্থাৎ প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, সেটিই এই নীতির প্রাণ। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নয়নের মান নির্ধারণ হয় ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং জনগণের জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব দিয়ে।

রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের আমানত। সেই আমানতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই একটি গণমুখী সরকারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আজ যে সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা যদি আগামী দিনের স্বচ্ছ প্রশাসন, জবাবদিহিমূলক শাসন এবং জনকল্যাণভিত্তিক উন্নয়নের ভিত্তি হয়ে ওঠে, তাহলে ইতিহাস একে শুধু একটি ব্যয়সংকোচন নীতি হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার এক সাহসী সূচনা হিসেবেই স্মরণ করবে। সুতরাং ভ্যালু ফর মানি-এর কার্যকর বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

Oplus_131072

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

শেখ হাসিনা আবারও আগামী ডিসেম্বরে আসার কথা জানিয়েছেন একটি ইন্টারভিউতে, এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি করছে না, সেটা আপনি কীভাবে জানেন? অবশ্যই চেষ্টা করছে, আমি বলছি। দ্বিতীয়ত হলো- একজন ফাঁসির আসামি হলেও সে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়, বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে সারেন্ডার করতে চায়, সেখানে হয়তো তার সারেন্ডারের আগেই অ্যারেস্ট হবে। কিন্তু, তার সেই তো অধিকার তো আছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে আইনের ব্যত্যয় করে আমরা কিছু করবো না। আইন যেভাবে আমাদের অথরিটি দিয়েছে, আমরা সে অথরিটি এক্সারসাইজ করব।

শেখ হাসিনার কাছে পাসপোর্ট নেই, এ অবস্থায় তিনি এলে কীভাবে আসবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি কীভাবে আসবেন, এটা তার সমস্যা। এটা আমার সমস্যা না। আমার চৌহদ্দির মধ্যে যখন ঢুকবেন, আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি তার প্রয়োগটা করবো। দ্যাটস সিম্পল এজ ইট ইজ।

এরপর মো. আসাদুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি বলেছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের আইডিয়া পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তো এখন কি সে পর্যায়ে আছে? নাকি স্পেশাল অধিবেশন ডাকতে হবে?

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আলোচনায় আসেনি। আমি বলেছি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। আমার সংবিধানে আছে, ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, তার থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্ন এসেছিল যে, আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকবো কি না। তো ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে, আর আমার নেক্সট অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে ডাকতে হবে, গত অধিবেশন শেষ হওয়া থেকে আগামী অধিবেশন পর্যন্ত ৬০ দিনের মধ্যে আমার ডাকতে হবে। সুতরাং এই দুইটা টাইম যেহেতু ম্যাচ করছে, আমি সে কারণে বলছি বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। যদি সরকার মনে করে, নিশ্চয়ই ডাকতে পারেন।

কালের আলো/এসএকে

নতুন সিনেমায় আইনজীবীর চরিত্রে বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
নতুন সিনেমায় আইনজীবীর চরিত্রে বাঁধন

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা পাওয়া ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর সুখবরের মধ্যেই নতুন সিনেমার ঘোষণা দিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি অভিনয় করতে যাচ্ছেন পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি-তে। ছবিতে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।

বুধবার বাঁধন জানান, নির্মাতার সঙ্গে তার প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং গল্প পছন্দ হওয়ায় তিনি ছবিটিতে কাজ করতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, “আমাকে যেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি আমার খুব ভালো লেগেছে। পরিচালক বলেছেন, ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো।’ একজন শিল্পীকে সম্মান ও যথাযথ মূল্যায়ন করার বিষয়টিই আমাকে কাজটি করতে আগ্রহী করেছে।”

পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল এর আগে ‘কিল হিম’, ‘ডেড বডি’ ও ‘রিভেঞ্জ’ নির্মাণ করেছেন। তার নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ আবর্তিত হয়েছে রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার বাস্তবতাকে ঘিরে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন যৌনকর্মী, যিনি অন্যায়ভাবে ক্ষমতার শিকার হন। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নারীকেন্দ্রিক সিনেমা এবং এতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক থাকছে না।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। এছাড়া অভিনয় করবেন রোজিনা, আমিন খান, আশীষ খন্দকার এবং আজমেরী হক বাঁধন।

নতুন সিনেমা নিয়ে বাঁধন বলেন, “সব সময় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মতো গল্প পাওয়া সম্ভব নয়। অভিনয় আমার পেশা। তাই আমি বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে চাই। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের বহুমাত্রিক সক্ষমতাও তুলে ধরতে চাই।”

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বর থেকে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার শুটিং শুরু হবে।

কালের আলো/এসএ

আগ্রাসী উদযাপনের দায়ে আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তানের দুই পেসার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
আগ্রাসী উদযাপনের দায়ে আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তানের দুই পেসার

সময়টা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম পরাজয়ের পর এবার শাস্তির মুখে পড়েছেন দলের দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও খুররম শাহজাদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উইকেট নেওয়ার পর আগ্রাসী উদযাপনের কারণে দুজনকেই ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে।

আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ ধারা ভঙ্গের দায়ে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাটারকে আউট করার পর এমন ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ করা যাবে না, যা প্রতিপক্ষকে অপমান করে বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।

ম্যাচের ১৭তম ওভারে শাই হোপকে আউট করার পর তার খুব কাছে গিয়ে উদযাপন করেন খুররম শাহজাদ। অন্যদিকে ইনিংসের শেষ উইকেট নেওয়ার পর জোমেল ওয়ারিকানের কাছাকাছি গিয়ে অতিরিক্ত আগ্রাসী উদযাপন করেন মোহাম্মদ আব্বাস।

ঘটনার পর ম্যাচের অন-ফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ ও রিচার্ড কেটলবরো, তৃতীয় আম্পায়ার জয়রামন মাদনাগোপাল অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো দুই পেসারকে শাস্তি দেন।

আব্বাস ও শাহজাদ দুজনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। গত ২৪ মাসে এটি ছিল দুই ক্রিকেটারেরই প্রথম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এর আগে একই ম্যাচে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হয় পাকিস্তানের।

কালের আলো/এসস