খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

বাংলাদেশ তার দীর্ঘ ইতিহাসে বহু গণআন্দোলন এবং গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র-জনতার বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে। ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টে এদেশের ছাত্র সমাজ যে নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল, তা ছিল মূলত একটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নৈতিক ক্ষোভ এবং মানবিক মর্যাদার লড়াই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ঘরোয়া, অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজধানী জুড়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হলো, তা যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য। ঘটনার গভীরে প্রবেশ করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ নৈতিক প্রতিবাদ সক্রিয় নেই; বরং এর সুড়ঙ্গ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার এক গভীর রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ এই আন্দোলনের আসল রূপ আমাদের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে। একটি মিছিলে এক তরুণী শিক্ষার্থীকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, “আমরা হাসিনাকে ব্যাক চাই। আগের সরকারই ভালো ছিল।”

এই একটি মাত্র বাক্যই প্রমাণ করে যে, এই তথাকথিত আন্দোলনের গভীর ভেতর থেকে কোন পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মেয়েটি কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী হতে পারে, কিন্তু রাজপথে দাঁড়িয়ে তার এই চিৎকার কোনো নৈতিক অধিকারের দাবি নয়; বরং এটি হলো সাড়ে ১৫ বছর ধরে এদেশের বুকের ওপর জেঁকে বসা এক খুনি, রক্তপিপাসু ও পতিত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের এক নগ্ন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে বিপদে ফেলাই এই অনুপ্রবেশকারীদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, আরেকজন শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, “হাসিনাকে পালাতে হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীকেও পালাতে হবে।”

এই তুলনাটি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং চরম কাণ্ডজ্ঞানহীন। শেখ হাসিনা বিগত দেড় দশকে এদেশের হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, আয়নাঘর বানিয়েছে, রাজপথে শত শত তরুণের বুকে গুলি চালিয়েছে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত লুটে নিয়ে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। একটি আস্ত দেশকে যিনি কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিলেন, তার সেই ভয়াবহ অপরাধের সাথে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যের তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

প্রিয় পাঠকআসুন খতিয়ে দেখা যাক শিক্ষামন্ত্রীর সেই বহুল আলোচিত মন্তব্যটি আসলে কী ছিল। তিনি তার এক পরিচিত পরিমণ্ডলে ঘরোয়া আলাপে বলেছিলেন: “এরা তো ফার্মের মুরগি… আমার মেয়েও তো আছে না, সে-ও তো ফার্মের মুরগির মতো। সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলেই তো জ্বর চলে আসে।”

আমাদের বাঙালি পরিবারগুলোতে, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত সমাজব্যবস্থায় বাবা-মা বা অভিভাবকরা অতি আদরে বেড়ে ওঠা আজকের প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের শারীরিক সহনশীলতা বোঝাতে প্রায়শই এ ধরনের রসাত্মক ও ঘরোয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক পারিবারিক অভিব্যক্তি। হ্যাঁ, বিষয়টি তখনই ঘোর আপত্তিজনক এবং নিন্দনীয় হতো যদি শিক্ষামন্ত্রী কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে, জাতীয় সংসদে বা কোনো দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষার্থীদের অবমাননা করে এই পরিভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপে অনানুষ্ঠানিক কথাকে সুকৌশলে ধারণ করে, সেটিকে জনসমক্ষে এনে যারা তিলকে তাল বানালো—তাদের মোটিভ বা উদ্দেশ্য যে মোটেও সৎ ছিল না, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখানে আরেকটি অপ্রিয় সত্য হলো, নকলবাজ শিক্ষার্থীরা বর্তমান নকলবিরোধী মন্ত্রীকে সহজে গ্রহণ করতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক।

তাছাড়া, শিক্ষামন্ত্রী আহসানুল হক মিলনের পূর্বতন ট্র্যাক রেকর্ড এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অনন্য। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে শিক্ষাঙ্গন থেকে নকল প্রথা ও সন্ত্রাস দূর করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছিল। বর্তমান সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেও তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল, যারা অনিয়মে অভ্যস্ত ছিল—বর্তমান মন্ত্রীর কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। আর ঠিক এই সুযোগটিই দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রটি লুফে নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের একটি অংশ হয়তো পর্দার আড়াল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিচ্ছে এবং অর্থায়ন করছে, যাতে এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে বিতর্কিত করে নিজেদের আখের গোছানো যায় এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করা যায়।

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক প্রতিবাদের একটা গণতান্ত্রিক অধিকার অবশ্যই সংবিধানে রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই রাজপথ অবরোধ করা, অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া, অফিসগামী সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে ফেলা এবং জনজীবনকে স্থবির করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই তথাকথিত বিতর্কের পর শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং দেশের পবিত্র জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টির একটি সম্মানজনক ও বিনীত পরিসমাপ্তি টেনেছেন। এরপরও যারা “লংমার্চের” মতো চরম কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার—তারা সংকটের সমাধান চায় না, তারা চায় বিশৃঙ্খলা।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা অনেকেই আসলে কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থীই নয়। এরা বহিরাগত এবং পতিত স্বৈরাচারের বেতনভুক্ত ক্যাডার, যাদের কাজই হলো পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর অর্থ এই নয় যে, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এখনই কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি:

১.অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আন্দোলনের নামে অনুপ্রবেশকারী পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাওয়া চক্রটিকে আলাদা করতে হবে।

২.যারা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে দেওয়া যাবে না।

৩.সাধারণ শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, তাদের কাঁধে বন্দুক রেখে কারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ছক কষছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের সন্ধানে এগোচ্ছে। লাখো শহীদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। “ফার্মের মুরগি” বিতর্কের আড়ালে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনিক নাশকতা চলছে, দেশপ্রেমিক জনগণ তা ধরে ফেলেছে। ক্ষোভ প্রকাশের অনেক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ খোলা রয়েছে; কিন্তু সেই পথকে পরিহার করে যারা পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে একটি নৌবহরের অভিযানে যোগ দিতে দক্ষিণ ইংল্যান্ড থেকে একটি নৌযান যাত্রা শুরু করেছে।

রোববার ব্রিস্টলের হ্যানোভার কুয়ে-তে জড়ো হন সমর্থকেরা।

প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য পরিচিত এবং গ্রিন পার্টির প্রতিনিধিত্ব থাকা শহরটি থেকে ‘কেট’ নামের নৌযানটির যাত্রা উপলক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌযানটিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা আন্দোলনের ১২ জন কর্মী রয়েছেন।
বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ও ‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুই অ্যাং। ছিলেন ওয়েলসের নার্স লেই ইভান্স, যাকে ২০২৫ সালের জুনে মিসরীয় সেনাদের সামনে হাঁটু গেড়ে গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার দৃশ্যের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়া ছিলেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী মতামত প্রকাশের ঘটনায় সম্প্রতি আইনি লড়াইয়ে জয়ী অধ্যাপক ডেভিড মিলার।
নৌযানটির আইরিশ অধিনায়ক ফিয়াক ও ব্রোলচাইন এর আগেও গাজামুখী একটি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

সে সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার শ্রবণযন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রোলচাইন বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের তিনি বারবার বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের শুনতে পাচ্ছি না; আপনারা আমার শ্রবণযন্ত্র নিয়ে নিয়েছেন’।

২০১০ সাল থেকে গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা প্রতিটি নৌবহরকে ইসরায়েল বাধা দিয়েছে বা হামলা চালিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক জলসীমায়ও এসব নৌযান আটক বা হামলার শিকার হয়েছে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ফ্রাঙ্ক রোমানো বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ৭৫টিরও বেশি সংহতি প্রকাশকারী জাহাজ ও নৌযান আটক করেছে। এসব নৌযান ফিরিয়ে আনতে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি নৌযান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

রোমানোর নিজের মালিকানাধীন ‘হান্দালা’ নামের একটি নৌযানও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। নৌযানটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ফিলিস্তিনি চিত্রশিল্পী নাজি আল-আলির সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হান্দালা’র নামে।

রোমানো জানান, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বিভিন্ন ধাপে কয়েক ডজন নৌযান রয়েছে। এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। গত বছর প্রথম অভিযান শুরু করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত অক্টোবরে ‘আলমা’ নামের একটি নৌযান ইসরায়েলি বাহিনী আটক করলে থুনবার্গসহ ফ্লোটিলার অন্য যাত্রীদেরও আটক করা হয়। আটক অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নৌযানটিতে ‘ইন ফ্রিডম’ কবিতাটিলেখা রয়েছে |
আরেক আইরিশ অধিকারকর্মী কলম বার্নও আগের কয়েকটি ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর এবার আবারও যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি জানান, এপ্রিলে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকতেই ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নৌযান আটক করে।

বার্নের দাবি, ফ্লোটিলার সদস্যদের লাথি মারা, মারধর করা এবং যন্ত্রণাদায়ক ও অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়। এতে তার কাঁধে আঘাত লাগে।

তিনি জানান, হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের। পরে কারাগারে নেওয়ার পর মাথা নিচু করে হাঁটতে বাধ্য করা হয়। মাথা তুললে চড় মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বার্ন বলেন, ওই আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করলেও ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর যে মাত্রায় নির্যাতন চালানো হয়, তার সঙ্গে এ অভিজ্ঞনার তুলনা চলে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

কুমিল্লায় একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন-ফয়সাল ও আরমান।

তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায়। পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকার উদ্দেশে মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হবে বলে পুলিশ জানতে পারে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়িটি আগের রাতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল। পরদিন সেটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ইয়াবার চালানের মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া প্রাডো গাড়িটির মালিকানা যাচাই করতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।

পুলিশের দাবি, কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে আটক হওয়া ইয়াবার চালানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় চালান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র একদিন আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস এই পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ। তবে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কাউকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বেছে নিচ্ছেন না। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই তিনি চুক্তিতে রাখছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন তাঁর বিষয়ে সরকারপ্রধানের মূল্যায়ন পরিস্কার। যা নাসিমুল গনির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে-সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনি (পরিচিতি নম্বর-৩১০৭)-কে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় পুন:চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, মাঠ প্রশাসনের তদারকি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ড.নাসিমুল গনি। বর্তমান প্রশাসন ক্যাডারেও একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। প্র্রশাসনের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা সরকারের প্রথম ৬ মাসে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গতিশীল ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই পুনরায় ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার ওপরেই আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
  • দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন
  • অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন

একজন নাসিমুল গনির শিক্ষা ও চাকরি জীবন বেশ বর্ণাঢ্য। ছিলেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সরকারের মেয়াদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ছিলেন ভূমি মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব। ১৯৯৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয় এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলী করা হয়। ১৯৯৯ সালে তাঁকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় জন বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ওই বছরের ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগদান করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পর এক বছর এক মাস ২৩ দিন তিনি দক্ষতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের আমলা হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। চলতি বছরের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর ঠিক আগেরদিন দুপুর সোয়া ১টায় নতুন পদে যোগ দিতে এসে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসিমুল গনি তাঁর গুরুদায়িত্ব প্রাপ্তির উচ্চারণে সুস্পষ্ট করেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতাকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে (কাঁধে) বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি সেটার ভার বহনের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ, আমার সাধ্যমতো। অতীতে যেভাবে কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করবো।’

নাসিমুল গনি সেদিন যখন এই পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কেবলই এটি একটি পদ নয় বরং সময়ের কারণে এর দায়িত্বও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ছিল অনেক বেশি। তিনি তাঁর সেই বক্তব্যের মাধ্যমে দায়িত্বের বিশালত্বের সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন গভীর বিনয়ের সঙ্গেই। নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাস প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে শক্ত হাতে প্রশাসন সামলেছেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ সরকারপ্রধানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএমএমকে