খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

বাংলাদেশ তার দীর্ঘ ইতিহাসে বহু গণআন্দোলন এবং গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র-জনতার বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে। ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টে এদেশের ছাত্র সমাজ যে নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল, তা ছিল মূলত একটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নৈতিক ক্ষোভ এবং মানবিক মর্যাদার লড়াই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ঘরোয়া, অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজধানী জুড়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হলো, তা যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য। ঘটনার গভীরে প্রবেশ করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ নৈতিক প্রতিবাদ সক্রিয় নেই; বরং এর সুড়ঙ্গ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার এক গভীর রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ এই আন্দোলনের আসল রূপ আমাদের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে। একটি মিছিলে এক তরুণী শিক্ষার্থীকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, “আমরা হাসিনাকে ব্যাক চাই। আগের সরকারই ভালো ছিল।”

এই একটি মাত্র বাক্যই প্রমাণ করে যে, এই তথাকথিত আন্দোলনের গভীর ভেতর থেকে কোন পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মেয়েটি কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী হতে পারে, কিন্তু রাজপথে দাঁড়িয়ে তার এই চিৎকার কোনো নৈতিক অধিকারের দাবি নয়; বরং এটি হলো সাড়ে ১৫ বছর ধরে এদেশের বুকের ওপর জেঁকে বসা এক খুনি, রক্তপিপাসু ও পতিত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের এক নগ্ন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে বিপদে ফেলাই এই অনুপ্রবেশকারীদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, আরেকজন শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, “হাসিনাকে পালাতে হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীকেও পালাতে হবে।”

এই তুলনাটি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং চরম কাণ্ডজ্ঞানহীন। শেখ হাসিনা বিগত দেড় দশকে এদেশের হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, আয়নাঘর বানিয়েছে, রাজপথে শত শত তরুণের বুকে গুলি চালিয়েছে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত লুটে নিয়ে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। একটি আস্ত দেশকে যিনি কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিলেন, তার সেই ভয়াবহ অপরাধের সাথে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যের তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

প্রিয় পাঠকআসুন খতিয়ে দেখা যাক শিক্ষামন্ত্রীর সেই বহুল আলোচিত মন্তব্যটি আসলে কী ছিল। তিনি তার এক পরিচিত পরিমণ্ডলে ঘরোয়া আলাপে বলেছিলেন: “এরা তো ফার্মের মুরগি… আমার মেয়েও তো আছে না, সে-ও তো ফার্মের মুরগির মতো। সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলেই তো জ্বর চলে আসে।”

আমাদের বাঙালি পরিবারগুলোতে, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত সমাজব্যবস্থায় বাবা-মা বা অভিভাবকরা অতি আদরে বেড়ে ওঠা আজকের প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের শারীরিক সহনশীলতা বোঝাতে প্রায়শই এ ধরনের রসাত্মক ও ঘরোয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক পারিবারিক অভিব্যক্তি। হ্যাঁ, বিষয়টি তখনই ঘোর আপত্তিজনক এবং নিন্দনীয় হতো যদি শিক্ষামন্ত্রী কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে, জাতীয় সংসদে বা কোনো দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষার্থীদের অবমাননা করে এই পরিভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপে অনানুষ্ঠানিক কথাকে সুকৌশলে ধারণ করে, সেটিকে জনসমক্ষে এনে যারা তিলকে তাল বানালো—তাদের মোটিভ বা উদ্দেশ্য যে মোটেও সৎ ছিল না, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখানে আরেকটি অপ্রিয় সত্য হলো, নকলবাজ শিক্ষার্থীরা বর্তমান নকলবিরোধী মন্ত্রীকে সহজে গ্রহণ করতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক।

তাছাড়া, শিক্ষামন্ত্রী আহসানুল হক মিলনের পূর্বতন ট্র্যাক রেকর্ড এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অনন্য। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে শিক্ষাঙ্গন থেকে নকল প্রথা ও সন্ত্রাস দূর করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছিল। বর্তমান সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেও তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল, যারা অনিয়মে অভ্যস্ত ছিল—বর্তমান মন্ত্রীর কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। আর ঠিক এই সুযোগটিই দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রটি লুফে নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের একটি অংশ হয়তো পর্দার আড়াল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিচ্ছে এবং অর্থায়ন করছে, যাতে এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে বিতর্কিত করে নিজেদের আখের গোছানো যায় এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করা যায়।

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক প্রতিবাদের একটা গণতান্ত্রিক অধিকার অবশ্যই সংবিধানে রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই রাজপথ অবরোধ করা, অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া, অফিসগামী সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে ফেলা এবং জনজীবনকে স্থবির করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই তথাকথিত বিতর্কের পর শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং দেশের পবিত্র জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টির একটি সম্মানজনক ও বিনীত পরিসমাপ্তি টেনেছেন। এরপরও যারা “লংমার্চের” মতো চরম কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার—তারা সংকটের সমাধান চায় না, তারা চায় বিশৃঙ্খলা।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা অনেকেই আসলে কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থীই নয়। এরা বহিরাগত এবং পতিত স্বৈরাচারের বেতনভুক্ত ক্যাডার, যাদের কাজই হলো পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর অর্থ এই নয় যে, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এখনই কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি:

১.অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আন্দোলনের নামে অনুপ্রবেশকারী পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাওয়া চক্রটিকে আলাদা করতে হবে।

২.যারা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে দেওয়া যাবে না।

৩.সাধারণ শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, তাদের কাঁধে বন্দুক রেখে কারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ছক কষছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের সন্ধানে এগোচ্ছে। লাখো শহীদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। “ফার্মের মুরগি” বিতর্কের আড়ালে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনিক নাশকতা চলছে, দেশপ্রেমিক জনগণ তা ধরে ফেলেছে। ক্ষোভ প্রকাশের অনেক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ খোলা রয়েছে; কিন্তু সেই পথকে পরিহার করে যারা পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, মুখ খুললেন রণজয় বিষ্ণু

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, মুখ খুললেন রণজয় বিষ্ণু

ভালোবাসা দিবস, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি। তবে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁদের দাম্পত্যে ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, এই দম্পতি নাকি আলাদা থাকছেন। যদিও এ বিষয়ে এতদিন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি দুজনের কেউই।

অবশেষে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নীরবতা ভাঙেন রণজয় বিষ্ণু। শুটিং সেট থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, “ভাবিনি কখনো এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। যে কাদা–ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, তা কাম্য নয়। আমরা একে অন্যকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত কথা বলতে আমি আগ্রহী নই। এই মুহূর্তে মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত।”

তিনি আরও বলেন, একজন নারীকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে সবার আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। শ্যামৌপ্তিকে নিয়ে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো তাঁর প্রাপ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন অভিনেতা।

বিচ্ছেদের গুঞ্জন প্রসঙ্গে রণজয়ের বক্তব্য, “আমরা বিয়ে করেছি। আমাদের মধ্যে যা-ই হোক, আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার দায় নেই। করজোড়ে অনুরোধ করছি, আমাদের বাঁচতে দিন। আমাদের মতো থাকতে দিন। এত মিথ্যা রটনা আর নিতে পারছি না।”

এদিকে, শ্যামৌপ্তির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি রণজয়ের সহ-অভিনেত্রী অভিকা মালাকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এসব দাবি নাকচ করে রণজয় বলেন, “এই রটনার কোনো প্রমাণ কী আছে? আমাদের ব্যক্তিগত জীবন আমরা নিজেরাই সামলে নেব। যা হচ্ছে, সেটা আমরা ডিজার্ভ করি না।”

যদিও নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও, রণজয় বা শ্যামৌপ্তি—কেউই এখন পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা বা বিচ্ছেদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

কালের আলো/এসএ

টেকসই গণমাধ্যম গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
টেকসই গণমাধ্যম গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

টেকসই, গতিশীল, দায়িত্বশীল ও সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগকারী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এনে এর সুরক্ষায় সরকার বিজনেসের মতো টেকসই পদক্ষেপ নিতে চায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার প্রশ্ন অবধারিতভাবেই জড়িয়ে আছে।

কারণ উদ্যোক্তা মুনাফা নিশ্চিত করতে না পারলে শিল্প টিকবে না এবং সংবাদকর্মীদের অধিকারও সুরক্ষিত হবে না। তবে মুনাফার পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতাও থাকতে হবে।

গণমাধ্যম ব্যবস্থার সাম্প্রতিক পরিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের মিডিয়া ইকোসিস্টেমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, টেক জায়ান্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত হয়ে পরিবেশকে জটিল করেছে। এখন মূল লড়াইটা সরকার বনাম সাংবাদিকের নয়; বরং লড়াইটি অপতথ্য বনাম সঠিক তথ্য এবং অসৎ সাংবাদিকতা বনাম বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতার নিরাপত্তা ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক চাপ, ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ ও নজরদারির কারণে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের শত্রু বা সরকারের মুখপত্র না ভেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের গঠনমূলক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় পূর্ণ স্বাধীনতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য রোধে জাতীয় পর্যায়ে সুসংহত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সেমিনারে অনেকের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম কাঞ্চল, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

মাছ ও মুরগির বাজারে দামের ওঠানামা থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের বাজারে নেই কোনো স্বস্তি। গত বছরের শেষ দিকে এক দফা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বাড়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কমেনি মাংসের দাম। ফলে উচ্চমূল্যেই গরু ও খাসির মাংস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরু ও খাসির মাংসের দাম কয়েক মাস ধরেই একই অবস্থানে রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গবাদিপশু কেনার খরচ, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দাম কমারও সুযোগ নেই।

যাত্রাবাড়ীর মাংস বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবারই মাংসের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। কর্মব্যস্ত মানুষ এদিন বাজার করেন, আবার অনেক পরিবারে শুক্রবার বিশেষ রান্নার আয়োজন থাকে। তবে দাম বেশি থাকায় অনেকেই আগের মতো পরিমাণে মাংস কিনছেন না।’

শ্যামবাজারে আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতারা দাম নিয়ে অভিযোগ করেন, কিন্তু আমাদেরও বেশি দামে গরু কিনতে হয়। তাই কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই।’

রাজধানীর নারিন্দার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া বলেন, ‘সাত-আট মাস আগে এক লাফে মাংসের দাম অনেক বেড়েছিল। এরপর এতদিনেও কমেনি। শুক্রবার বাসায় অতিথি আসে, বাচ্চারাও মাংস খেতে চায়। তাই ইচ্ছা না থাকলেও কিনতে হয়।’

গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, ‘আগে মাসে কয়েকবার গরুর মাংস রান্না হতো। এখন দাম বেশি হওয়ায় অনেক হিসাব করে কিনতে হয়। খাসির মাংস তো প্রায় কেনাই ছেড়ে দিয়েছি।’

ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হলেও বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বাজার তদারকি বাড়িয়ে মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ