খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ!

বাংলাদেশ তার দীর্ঘ ইতিহাসে বহু গণআন্দোলন এবং গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র-জনতার বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে। ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টে এদেশের ছাত্র সমাজ যে নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল, তা ছিল মূলত একটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নৈতিক ক্ষোভ এবং মানবিক মর্যাদার লড়াই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ঘরোয়া, অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজধানী জুড়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হলো, তা যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য। ঘটনার গভীরে প্রবেশ করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ নৈতিক প্রতিবাদ সক্রিয় নেই; বরং এর সুড়ঙ্গ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার এক গভীর রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ এই আন্দোলনের আসল রূপ আমাদের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে। একটি মিছিলে এক তরুণী শিক্ষার্থীকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, “আমরা হাসিনাকে ব্যাক চাই। আগের সরকারই ভালো ছিল।”

এই একটি মাত্র বাক্যই প্রমাণ করে যে, এই তথাকথিত আন্দোলনের গভীর ভেতর থেকে কোন পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মেয়েটি কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী হতে পারে, কিন্তু রাজপথে দাঁড়িয়ে তার এই চিৎকার কোনো নৈতিক অধিকারের দাবি নয়; বরং এটি হলো সাড়ে ১৫ বছর ধরে এদেশের বুকের ওপর জেঁকে বসা এক খুনি, রক্তপিপাসু ও পতিত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের এক নগ্ন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে বিপদে ফেলাই এই অনুপ্রবেশকারীদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, আরেকজন শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, “হাসিনাকে পালাতে হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীকেও পালাতে হবে।”

এই তুলনাটি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং চরম কাণ্ডজ্ঞানহীন। শেখ হাসিনা বিগত দেড় দশকে এদেশের হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, আয়নাঘর বানিয়েছে, রাজপথে শত শত তরুণের বুকে গুলি চালিয়েছে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত লুটে নিয়ে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। একটি আস্ত দেশকে যিনি কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিলেন, তার সেই ভয়াবহ অপরাধের সাথে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যের তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

প্রিয় পাঠকআসুন খতিয়ে দেখা যাক শিক্ষামন্ত্রীর সেই বহুল আলোচিত মন্তব্যটি আসলে কী ছিল। তিনি তার এক পরিচিত পরিমণ্ডলে ঘরোয়া আলাপে বলেছিলেন: “এরা তো ফার্মের মুরগি… আমার মেয়েও তো আছে না, সে-ও তো ফার্মের মুরগির মতো। সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলেই তো জ্বর চলে আসে।”

আমাদের বাঙালি পরিবারগুলোতে, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত সমাজব্যবস্থায় বাবা-মা বা অভিভাবকরা অতি আদরে বেড়ে ওঠা আজকের প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের শারীরিক সহনশীলতা বোঝাতে প্রায়শই এ ধরনের রসাত্মক ও ঘরোয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক পারিবারিক অভিব্যক্তি। হ্যাঁ, বিষয়টি তখনই ঘোর আপত্তিজনক এবং নিন্দনীয় হতো যদি শিক্ষামন্ত্রী কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে, জাতীয় সংসদে বা কোনো দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষার্থীদের অবমাননা করে এই পরিভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপে অনানুষ্ঠানিক কথাকে সুকৌশলে ধারণ করে, সেটিকে জনসমক্ষে এনে যারা তিলকে তাল বানালো—তাদের মোটিভ বা উদ্দেশ্য যে মোটেও সৎ ছিল না, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখানে আরেকটি অপ্রিয় সত্য হলো, নকলবাজ শিক্ষার্থীরা বর্তমান নকলবিরোধী মন্ত্রীকে সহজে গ্রহণ করতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক।

তাছাড়া, শিক্ষামন্ত্রী আহসানুল হক মিলনের পূর্বতন ট্র্যাক রেকর্ড এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অনন্য। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে শিক্ষাঙ্গন থেকে নকল প্রথা ও সন্ত্রাস দূর করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছিল। বর্তমান সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেও তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল, যারা অনিয়মে অভ্যস্ত ছিল—বর্তমান মন্ত্রীর কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। আর ঠিক এই সুযোগটিই দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রটি লুফে নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের একটি অংশ হয়তো পর্দার আড়াল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিচ্ছে এবং অর্থায়ন করছে, যাতে এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে বিতর্কিত করে নিজেদের আখের গোছানো যায় এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করা যায়।

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক প্রতিবাদের একটা গণতান্ত্রিক অধিকার অবশ্যই সংবিধানে রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই রাজপথ অবরোধ করা, অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া, অফিসগামী সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে ফেলা এবং জনজীবনকে স্থবির করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই তথাকথিত বিতর্কের পর শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং দেশের পবিত্র জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টির একটি সম্মানজনক ও বিনীত পরিসমাপ্তি টেনেছেন। এরপরও যারা “লংমার্চের” মতো চরম কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার—তারা সংকটের সমাধান চায় না, তারা চায় বিশৃঙ্খলা।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা অনেকেই আসলে কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থীই নয়। এরা বহিরাগত এবং পতিত স্বৈরাচারের বেতনভুক্ত ক্যাডার, যাদের কাজই হলো পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর অর্থ এই নয় যে, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এখনই কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি:

১.অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আন্দোলনের নামে অনুপ্রবেশকারী পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাওয়া চক্রটিকে আলাদা করতে হবে।

২.যারা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে দেওয়া যাবে না।

৩.সাধারণ শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, তাদের কাঁধে বন্দুক রেখে কারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ছক কষছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের সন্ধানে এগোচ্ছে। লাখো শহীদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। “ফার্মের মুরগি” বিতর্কের আড়ালে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনিক নাশকতা চলছে, দেশপ্রেমিক জনগণ তা ধরে ফেলেছে। ক্ষোভ প্রকাশের অনেক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ খোলা রয়েছে; কিন্তু সেই পথকে পরিহার করে যারা পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি