খুঁজুন
                               
, ,
           

আগ্রাসী উদযাপনের দায়ে আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তানের দুই পেসার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
আগ্রাসী উদযাপনের দায়ে আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তানের দুই পেসার

সময়টা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম পরাজয়ের পর এবার শাস্তির মুখে পড়েছেন দলের দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও খুররম শাহজাদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উইকেট নেওয়ার পর আগ্রাসী উদযাপনের কারণে দুজনকেই ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে।

আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ ধারা ভঙ্গের দায়ে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাটারকে আউট করার পর এমন ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ করা যাবে না, যা প্রতিপক্ষকে অপমান করে বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।

ম্যাচের ১৭তম ওভারে শাই হোপকে আউট করার পর তার খুব কাছে গিয়ে উদযাপন করেন খুররম শাহজাদ। অন্যদিকে ইনিংসের শেষ উইকেট নেওয়ার পর জোমেল ওয়ারিকানের কাছাকাছি গিয়ে অতিরিক্ত আগ্রাসী উদযাপন করেন মোহাম্মদ আব্বাস।

ঘটনার পর ম্যাচের অন-ফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ ও রিচার্ড কেটলবরো, তৃতীয় আম্পায়ার জয়রামন মাদনাগোপাল অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো দুই পেসারকে শাস্তি দেন।

আব্বাস ও শাহজাদ দুজনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। গত ২৪ মাসে এটি ছিল দুই ক্রিকেটারেরই প্রথম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এর আগে একই ম্যাচে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হয় পাকিস্তানের।

কালের আলো/এসস

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে বাংলাদেশ থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। ফোনালাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা তাদের চাহিদার কথা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিদেশি পর্যটকদের একটি দল মানস সরবরের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেপালের বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
নেপালের বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও বন্যা ও কাদার স্রোতে ভেসে গিয়ে নেপালে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত অংশেও ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৮৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান ব্যাপকভাবে চলছে। ফলে আরও মরদেহ উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন এবং অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন নাগরিক রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি। সেখানে মৃতের সংখ্যা তিনজনেই রয়েছে।

যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গিয়রংয়ের সীমান্ত এলাকায় পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত কয়েক ডজন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, নেপালে আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

লিন বলেন, চীন নেপালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তিনি আরও বলেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী চীন জরুরি সহায়তাও প্রদান করবে।

নেপালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বুধবারের বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো “চরম পরিস্থিতি” বিরাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় শুধু হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব, কারণ বন্যায় সেতু ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দল সেখান থেকে কিছুটা দক্ষিণে অবস্থান করছে এবং তারা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সেখানে যেতে পেরেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে হেলিকপ্টারে করে তাঁবু, খাবারসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে এর চেয়ে অনেক, অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি আরও যোগ করেন, অনেক গ্রাম ও বাজার এলাকা ভেসে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

এরআগে গতকাল বুধবার সকালে নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ৩ মিনিট পর এক বিধ্বংসী হড়পা বান (আকস্মিক বন্যা) ও ব্যাপক ভূমিধস আঘাত হানে। এতে তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় আটকা ‘শিকার’-এর খরাজ, ফিরতে পারছেন না কলকাতায়

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় আটকা ‘শিকার’-এর খরাজ, ফিরতে পারছেন না কলকাতায়

বাংলাদেশি সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিং করতে গিয়ে নেপালে আটকা পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। নেপালের চীন সীমান্তঘেঁষা রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে শুটিং শেষে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল রসুয়া জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এর মধ্যেই প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। এতে ভেসে যায় রাস্তা ও সেতুর বিভিন্ন অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো।

দুর্যোগের পর খরাজের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে না পারায় উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের নিরাপদে থাকার খবর জানান তিনি।

খরাজ জানান, গত ২০ আগস্ট ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ আগস্ট শুটিং শেষে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ বৃষ্টি, বন্যা ও ধসের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

অভিনেতার ভাষায়, ‘ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই।’

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে খরাজ জানান, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জঙ্গলে আটকে থাকতে হয়েছিল পুরো দলকে।

তিনি বলেন, ‘কালকে শুটিং করছিলাম, পাঁচ ঘণ্টার মতো আমরা বৃষ্টির মধ্যে জঙ্গলে বসে ছিলাম। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ছিলাম।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ আগস্ট সকালে কাঠমান্ডু থেকে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক ও বিমান যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

এখন সড়কপথে গোরখপুর যাওয়ার চেষ্টা করছেন খরাজ। সেখান থেকে ২৮ আগস্টের একটি ফ্লাইটে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রজতাভ দত্তও অংশ নিচ্ছেন। সিনেমাটিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসকে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে।

এর আগে অপু বিশ্বাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নেপালে থাকা ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদে আছে।

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে শুটিং ইউনিটের সদস্যরা নিরাপদে থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁদের দেশে ফেরার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ