খুঁজুন
                               
, ,
           

সংঘাত কমায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সংঘাত কমায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর হামলা আপাতত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। সংঘাত কমে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে।

এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হয়।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলে আশাবাদ বাড়ছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্টতা রেখে সমঝোতার পথে ফেরা ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে।

তবে হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে ওই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।

এদিকে, গত রোববার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়। তবে চীনের একটি সুপারট্যাংকার ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।

এমএসটি মারকুই-এর বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরে ধীরে এবং সীমিত আকারে স্বাভাবিক হবে। কারণ অনেক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

পে-স্কেলের অনিশ্চয়তায় ভাইরাল ৮০’র দশকের গান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলের অনিশ্চয়তায় ভাইরাল ৮০’র দশকের গান

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘তুমি আমার জীবন’। রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া গানটির ‘কেউ জানে না’ অংশটি বর্তমান পে-স্কেল পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে মজার ছলে শেয়ার করছেন নেটিজেনরা।

‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমায় ব্যবহৃত গানটিতে জাফর ইকবাল ও ববিতা অভিনয় করেছিলেন। পুরোনো গানটির মাত্র ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরেই নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

পে-স্কেল কবে ঘোষণা হবে, কবে বাস্তবায়ন হবে- এ নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য সময়সীমার খবর প্রকাশ হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে ‘কবে হবে, কেউ জানে না’- এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে গানের কথার মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।

এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, পে-স্কেল নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন খবর এলেও চূড়ান্ত খবর কবে আসবে, সেটিই কেউ জানে না। আরেকজনের মন্তব্য, চলমান অনিশ্চয়তার সঙ্গে গানের কথাগুলো যেন একেবারেই মিলে গেছে।

এদিকে ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা এবং মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমার এই জনপ্রিয় গানটি কয়েক দশক পর ভিন্ন এক বাস্তবতায় এসে আবারও আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

২৫ লাখ টাকার প্রোডাকশন ফান্ড, স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাতাদের জন্য দারুণ সুযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
২৫ লাখ টাকার প্রোডাকশন ফান্ড, স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাতাদের জন্য দারুণ সুযোগ

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ অ্যাডভার্টাইজিং ফিল্মমেকার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাডফা)। নতুন পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে মোট ২৫ লাখ টাকা প্রোডাকশন ফান্ড দেবে সংগঠনটি।

অ্যাসেন কমিউনিকেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অ্যাডফা শর্ট ফেস্ট-সিজন-১’ আয়োজন করছে অ্যাডফা। ‘দিস ইজ ইউর শট’ ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উদ্যোগে নির্বাচিত হবে পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য দেওয়া হবে নির্ধারিত প্রোডাকশন ফান্ড। পাশাপাশি নির্বাচিত নির্মাতারা পাবেন অ্যাডফার মেন্টরশিপ ও ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যাডফার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কমিউনিটির নির্মাতাদের মৌলিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা। তাঁর মতে, নতুন গল্প ও প্রতিভার অভাব নেই, প্রয়োজন শুধু সুযোগ ও সহযোগিতা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডফা কমিউনিটির যোগ্য নির্মাতারা এককভাবে অথবা দলগতভাবে একটি করে প্রকল্প জমা দিতে পারবেন। প্রস্তাবিত চলচ্চিত্র অবশ্যই ফিকশন হতে হবে এবং দৈর্ঘ্য হতে হবে ৫ থেকে ১৫ মিনিট।

গল্পের ভাষা নিয়ে থাকছে না কোনো বাধ্যবাধকতা। বাংলা, ইংরেজি কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো আঞ্চলিক ভাষায় প্রকল্প জমা দেওয়া যাবে। একইভাবে গল্পের ঘরানার ক্ষেত্রেও থাকছে না কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা।

আবেদনের জন্য একটি পিডিএফ ফাইলে জমা দিতে হবে- চলচ্চিত্রের শিরোনাম, সর্বোচ্চ ৫০ শব্দের লগলাইন, ১ হাজার শব্দের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গল্প বা সিনপসিস, সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের ডিরেক্টরস নোট, জনর ও সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য, আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য

এর পাশাপাশি চাইলে ভিজ্যুয়াল রেফারেন্স ও নির্মাতার আগের কাজের লিংকও যুক্ত করা যাবে।

প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে গল্পের মৌলিকতা, নির্মাতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, গল্প বলার শক্তি, সিনেমাটিক সম্ভাবনা এবং নির্ধারিত বাজেট ও সময়ের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নির্বাচিত পাঁচ নির্মাতা শুধু অর্থসহায়তাই পাবেন না, মেন্টরশিপ ও ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাবেন। ফলে নতুন নির্মাতাদের জন্য নিজেদের গল্প ও নির্মাণশৈলী তুলে ধরার এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।

আবেদনের শেষ সময়: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা, ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
ডারউইনের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা, ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ যে চমক দেখিয়েছে, তার প্রভাব এবার দেখা যাচ্ছে ম্যাকাইয়েও। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপুটে জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের আগ্রহও বেড়ে গেছে।

আগামী শনিবার ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ম্যাচের প্রথম দিনের সাধারণ শ্রেণির সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার। প্রায় ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়াকে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া টেস্ট নিয়ে বাড়তে থাকা আগ্রহের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডারউনে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে ম্যাকাই টেস্টে জিততেই হবে অস্ট্রেলিয়াকে। ফলে ম্যাচটি ঘিরে স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রথম দিনের টিকিট শেষ হলেও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের টিকিট এখনো পাওয়া যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের সাময়িকী ‘দ্য ইন্ডিয়ান সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনের টিকিটও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। প্রথম দিনের সাধারণ আসনের পাশাপাশি ওই দিনের করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজও বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার পর দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে দেশটির ক্রিকেট মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ম্যাকাই টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহও বেড়েছে। ডারউইনে চার দিনজুড়ে দারুণ ক্রিকেট খেলে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন সাফল্য পেয়েছে নাজমুল হোসেনের দল। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা দাপট দেখিয়েছেন।

এখন তাই ম্যাকাই টেস্ট শুধু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ নয়, দুই দলের জন্যই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য সিরিজে সমতা ফেরানো, আর বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের।

কালের আলো/এসএ