খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক মোতায়েন করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
প্রথমবারের মতো পারমাণবিক মোতায়েন করল ভারত

প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে ভারত। বিশ্বের একটি শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ দেশটির পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা করে সংরক্ষণ করে। এই নীতিকে ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ’ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হতো। তবে নতুন মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, সেই অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ইতোমধ্যে প্রায় ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে। এগুলো মূলত দেশটির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন বহরের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার এবং নিয়মিত সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারত সম্ভবত এখন মাঝে মাঝে তার সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সংযুক্ত রেখে টহল পরিচালনা করছে। এর অর্থ, শান্তিকালীন অবস্থাতেও কিছু অস্ত্র সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৯০টি, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১৮০টি।

মূল তথ্য

মোট পারমাণবিক ওয়ারহেড: প্রায় ১৯০টি।, মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড: আনুমানিক ১২টি।,প্রথমবার সক্রিয় মোতায়েনের মূল্যায়ন।, সাবমেরিনভিত্তিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার

শান্তিকালীন সময়েও কিছু অস্ত্র লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা

ভারত এখনও তার ‘প্রথম ব্যবহার নয়’ নীতি বজায় রেখেছে।

 অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের পারমাণবিক হামলার জবাব হিসেবেই কেবল এই অস্ত্র ব্যবহারের অঙ্গীকার বহাল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে ওয়ারহেড মোতায়েন দেশটির কৌশলগত সক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ী—বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন—পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। ফলে দেশটি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিনটি মাধ্যম থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ

আগে অস্ত্র ও সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদা করে রাখার ফলে দুর্ঘটনাজনিত উৎক্ষেপণের ঝুঁকি কম থাকত এবং সতর্কতার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে নিচু ছিল। কিন্তু নতুন এই ধারা সেই অবস্থাকে বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিয়মিত সাবমেরিন টহল ব্যবস্থা সামগ্রিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বে মোট নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। এদের হাতে মোট প্রায় ১২ হাজার ১৮৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫টি সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ ও মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির বিস্তার এবং পারমাণবিক ও প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে বাড়তে থাকা সমন্বয় ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

সব মিলিয়ে, ভারতের এই সীমিত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ মোতায়েন দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের নতুন ধাপ নির্দেশ করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ হালনাগাদকরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো—বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও সেবার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।

মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ও নীতিগত সমন্বয়: বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নীতিগত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার করেছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিডা ও এনবিআরের মধ্যে মাসিক সভার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কর-সংক্রান্ত সমস্যা ও নীতিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ সভা ও মতবিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশসমূহ সরাসরি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন, প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে সরকার মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন (Capital Repatriation) প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে শেয়ার বিক্রয়, ব্যবসা হস্তান্তর বা ব্যবসা বন্ধ করার পর বিনিয়োগকৃত মূলধন ও অর্জিত অর্থ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগকারী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত দলিলপত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা ও কাগজপত্রের পরিমাণ হ্রাস করে বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করা হবে।

লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সকল অনুমোদন, নিবন্ধন ও লাইসেন্স সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিঙ্গেল-উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আন্তঃসংযুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী প্রায়ই জানতে পারেন না কোন সেবার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আবেদন করতে হবে কিংবা কীভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই তথ্যগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর সহযোগিতায় ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি সেবা, অনুমোদন, নিবন্ধন, লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য একক ডিজিটাল মাধ্যমে জানতে ও আবেদন করতে পারেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া হ্রাস, শতভাগ অনলাইনভিত্তিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, সেইসাথে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে লজিস্টিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর লক্ষ্যে নতুন বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান সুবিধার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চলতি বছর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ অগ্রসর হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে বৃহৎ জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রাথমিকে শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই চালুর উদ্যোগ, সৃষ্টি হবে ৬০ হাজার কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকে শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই চালুর উদ্যোগ, সৃষ্টি হবে ৬০ হাজার কর্মসংস্থান

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের বিকশিত করতে পারে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

ববি হাজ্জাজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায় সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সংগীত,নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব,দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ারম্যানগণসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে ৪টি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

কালের আলো/এসএকে