খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক মোতায়েন করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
প্রথমবারের মতো পারমাণবিক মোতায়েন করল ভারত

প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে ভারত। বিশ্বের একটি শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ দেশটির পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা করে সংরক্ষণ করে। এই নীতিকে ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ’ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হতো। তবে নতুন মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, সেই অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ইতোমধ্যে প্রায় ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে। এগুলো মূলত দেশটির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন বহরের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার এবং নিয়মিত সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারত সম্ভবত এখন মাঝে মাঝে তার সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সংযুক্ত রেখে টহল পরিচালনা করছে। এর অর্থ, শান্তিকালীন অবস্থাতেও কিছু অস্ত্র সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৯০টি, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১৮০টি।

মূল তথ্য

মোট পারমাণবিক ওয়ারহেড: প্রায় ১৯০টি।, মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড: আনুমানিক ১২টি।,প্রথমবার সক্রিয় মোতায়েনের মূল্যায়ন।, সাবমেরিনভিত্তিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার

শান্তিকালীন সময়েও কিছু অস্ত্র লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা

ভারত এখনও তার ‘প্রথম ব্যবহার নয়’ নীতি বজায় রেখেছে।

 অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের পারমাণবিক হামলার জবাব হিসেবেই কেবল এই অস্ত্র ব্যবহারের অঙ্গীকার বহাল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে ওয়ারহেড মোতায়েন দেশটির কৌশলগত সক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ী—বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন—পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। ফলে দেশটি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিনটি মাধ্যম থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ

আগে অস্ত্র ও সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদা করে রাখার ফলে দুর্ঘটনাজনিত উৎক্ষেপণের ঝুঁকি কম থাকত এবং সতর্কতার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে নিচু ছিল। কিন্তু নতুন এই ধারা সেই অবস্থাকে বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিয়মিত সাবমেরিন টহল ব্যবস্থা সামগ্রিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বে মোট নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। এদের হাতে মোট প্রায় ১২ হাজার ১৮৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫টি সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ ও মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির বিস্তার এবং পারমাণবিক ও প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে বাড়তে থাকা সমন্বয় ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

সব মিলিয়ে, ভারতের এই সীমিত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ মোতায়েন দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের নতুন ধাপ নির্দেশ করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি

দেশে হাম-সংক্রান্ত রোগে আরও আট শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৯ জনে।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৫৪৭ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জনের। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন।

গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫৬ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ২২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮৬ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৬৬, ময়মনসিংহে ৫০, চট্টগ্রামে ৪৭, বরিশালে ৩৮, খুলনায় ২৩ ও রংপুরে আটজন প্রাণ হারিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম মোকাবিলায় ৪ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিলো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
হাম মোকাবিলায় ৪ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিলো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

দেশে হাম রোগের চিকিৎসা ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ভেন্টিলেটরসহ প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের জরুরি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েছে কানাডাভিত্তিক ইমিগ্রেশন প্রতিষ্ঠান ‌‌‘স্কশিয়া কনসালট্যান্টস’। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরঞ্জামগুলো হস্তান্তর করা হয়। স্কশিয়া কনসালট্যান্টসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ডা. মো. জামিলুর রহিম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে এসব সামগ্রী তুলে দেন।

চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণকালে দেশের এই ক্রান্তিকালে বেসরকারি খাতের এমন মানবিক ও মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি ডা. জামিলুর রহিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের এই ধরনের সহযোগিতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মহামারি বা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, এমপরি এ্যাংশো মেডিকেয়ার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শাহেদ কামালসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হস্তান্তর করা অত্যাধুনিক ভেন্টিলেটর ও জরুরি সরঞ্জামগুলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আব্দুল্লাহ আল ফিরোজ (৪০)। তিনি ইসলামী ব্যাংকের মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট শাখার ক্যাশ ইনচার্জ। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। প্রায় ৫০ বছর বয়সী অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত এক নারীসহ চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাশ্বের হোসেন খান নিহত ফিরোজের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ফিরোজ নিহত হন। পরে আহত অন্যদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. উজ্জ্বল জানান, তারা নিহত দু’জনেরই  পরিচয় জানেন না। অজ্ঞাত হিসেবে তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর আহত চারজনকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মোহনপুর থানার এসআই মোদাশ্বের হোসেন খান জানিয়েছেন, হতাহতরা সবাই সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়েছেন। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন আইনে থানায় একটি মামলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি