খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলে কানাডা ও বাংলাদেশের সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার কানাডা হাইকমিশন এক বার্তায় এসব তথ্য জানায়।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং হাইকমিশনার অজিত সিং সেনাবাহিনীর বিমান চলাচল, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

উভয় পক্ষই অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে যে ভূমিকা পালন করেছেন তার জন্য সেনাপ্রধানকে ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহায়তায় কানাডা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশে গ্যাসের সংকট আর কতদিন থাকবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
দেশে গ্যাসের সংকট আর কতদিন থাকবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী

Oplus_131072

দেশজুড়ে চলমান গ্যাসের সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০-১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে, দেশজুড়ে রান্নাঘরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়াসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল পরিশোধও বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের প্রধান সংকট এখন আর্থিক সমস্যা। সেগুলোর নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। আগস্ট মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে দর–কষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

সোমবারের এ বৈঠকের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)। এতে সরকারি–বেসরকারি নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। বৈঠকের মডারেটর ছিলেন বিআইপিএসএসের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

উল্লেখ্য, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও আরেকটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কালের আলো/এসএকে

অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক বাংলাদেশ। অর্থের অভাবে কোনো মানুষ চিকিৎসাবঞ্চিত হবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, সার্বিক উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সমাজে বসবাসরত মূক ও বধির ব্যক্তিদেরও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত অডিটরি ভারবাল থেরাপি (এভিটি) সেন্টারের উদ্বোধন করেন। জন্মগতভাবে বা পরবর্তী সময়ে শ্রবণশক্তি হারানো এবং অন্য কোনো উপায়ে যাদের শ্রবণক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন করা হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এভিটি সেন্টারে থেরাপির মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ধরনের সেবা বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হেড অ্যান্ড নেক–সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনুদানের চেক ও চিকিৎসাসহায়ক বিভিন্ন ডিভাইস বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হেড অ্যান্ড নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

সরকারের কাছে সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে স্মারকলিপিটি পেশ করেন বাপার নেতারা। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও উপস্থিত ছিলেন। বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহসভাপতি খুশি কবির, মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক ড. হালিম দাদ খান, এস এম মিজানুর রহমান এবং খন্দকার আজিজুল হক মনিও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাপার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাপার পক্ষ থেকে দেশের নদ-নদীতে মেগা প্রকল্পের ফলে নদীর আকার-প্রকৃতির পরিবর্তন, স্লুইসগেটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর বর্তমান বাস্তব চিত্র, বুড়িগঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ, বড়াল নদী ও চলনবিলের মাছ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের সমস্যা, বিল হরিণা ও ভবদহের দুর্ভোগ, নদ-নদীতে বাঁধ বা পোল্ডারের অপ্রয়োজনীয়তা, দেশের হাওরগুলোর সমস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার নেতারা।

মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই পরিবেশ ও নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাপার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় চলনবিলের পদ্মা-যমুনা ও অভ্যন্তরীণ নদীপথের একমাত্র পতিতমুখ বন্ধ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিবর্তে অন্যত্র করার বিষয়ে চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা স্মারকলিপিতে যেসব সুপারিশ করা হয়—

১) নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত নীতিকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করবেন; প্লাবনভূমিতে নদ-নদীর আসা-যাওয়ার পথে ইতিমধ্যে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেবেন; এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবেন।

২) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) অধীনে উপকূলের পোল্ডারগুলোর বাঁধ আরও নিশ্ছিদ্র করার পরিবর্তে সেগুলোকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে পোল্ডারের মধ্যে বর্ষাকালে পলিযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে এবং পলিপতনের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত নিমজ্জনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৩) দেশের অভ্যন্তরে যেসব পোল্ডার নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর বাঁধও ক্রমান্বয়ে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে বর্ষাকালে নদীর পানি পোল্ডারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং বর্ষা শেষে আবার নদীতে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে পোল্ডারের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এ ধারায় অগ্রসর হয়ে ভবদহসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কার্যকরভাবে নিরসন করবেন।

৪) পোল্ডারের সঙ্গে সম্পর্কহীনভাবে দেশের নদ-নদীর ওপর যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন—স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর, প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সংকীর্ণ সেতু ও কালভার্ট—সেগুলো অপসারণ করে নদ-নদীর প্রবাহ বাধাহীন করার নির্দেশ দেবেন।

৫) সিএস মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সব নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করবেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

৬) গঙ্গা ও যমুনার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী চলনবিলের প্রধান নদী বড়ালকে অবমুক্ত করার অর্ধসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আশু পদক্ষেপ নেবেন।

৭) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেসব নদী ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর কোহেলিয়া অন্যতম, সেগুলো পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

৮) নদ-নদী ও জলাশয়কে আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত করার বর্তমান প্রবণতা রোধ করবেন এবং হবিগঞ্জের সুতাং, ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ, কক্সবাজারের বাঁকখালী, খুলনার ময়ূরসহ দেশের সব নদ-নদীকে দূষণমুক্ত করবেন।

৯) নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে নদ-নদীর পাড়ভাঙন রোধ এবং পাড় স্থিতিশীল করাকে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে গ্রহণ করবেন। সে লক্ষ্যে জিওব্যাগ পদ্ধতিসহ দেশীয় বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারের ভিত্তিতে অগ্রসর হবেন।

১০) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী করবেন এবং নদ-নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১) আন্তর্জাতিক নদ-নদীর ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার আদায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এবং গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে ৫ ও ৬ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত যথাক্রমে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং সফল চুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে যা করতে হবে শীর্ষক নিবন্ধে উপস্থাপিত বিভিন্ন পরামর্শ বিবেচনায় নিতে পারেন।

১২) তিস্তা নদীর সংকট সমাধানে বিদেশি কোম্পানির প্রস্তুত করা প্রকল্পের পরিবর্তে দেশীয় পারদর্শিতা, দেশীয় প্রযুক্তি, দেশীয় অর্থায়ন ও উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষ ও দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করবেন।

১৩) গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে জাতীয় পর্যায়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেবেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে ১২ থেকে ১৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানো সত্ত্বেও কেন তা গড়াই-মধুমতি, বড়াল ও অন্যান্য শাখানদীতে প্রবেশ করছে না, তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলো অপসারণে পাউবোকে নির্দেশ দেবেন। কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি শাখানদীগুলোতে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হলে প্রস্তাবিত গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ সম্পর্কে আরও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

১৪) উপর্যুক্ত ধারায় আপনার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি বাপার সমর্থন থাকবে এবং বাপা সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ