খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ-মালদ্বীপের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-মালদ্বীপের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে মালদ্বীপ সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এটি ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি মালদ্বীপ সফর। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, পর্যটন, শ্রম, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তারা আলোচনা করেন। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সফরের অংশ হিসেবে ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদমের আয়োজিত ডিপ্লোম্যাটিক আউটরিচ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং রাজধানী মালের রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজেও অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদম এবং পরিবেশমন্ত্রী আলী শরীফের সঙ্গে লোনুজিয়ারাই পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর উদ্যোগে গৃহীত ‘পাঁচ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর অংশ। অনুষ্ঠানে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অভিন্ন অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

মালদ্বীপ সফর শেষে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বিদায় জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ ফাহমি হাসান এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্র সংস্কারের যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি পালন করবে এবং সরকারের সমালোচনা করবে—এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।

সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন ও নীতিমালার বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় মনে করে না জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আইন বাস্তবে প্রয়োগের পর সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তা সংশোধনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মানুষের প্রয়োজনেই আইন প্রণয়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা যায়।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সরকার সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ প্রয়োজন। সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে যৌক্তিক প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের দায়িত্ব পালনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে।

তিনি বলেন, “আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।”

অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

ইমরানের পাশে বিশ্ব ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ইমরানের পাশে বিশ্ব ক্রিকেট

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের পাশে এবার দাঁড়ালেন বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কেরা। কারাবন্দি ইমরানের মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে যৌথ চিঠি দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২১ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই উদ্যোগ। চিঠিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে করার কথা। সেই বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বোন ডা. উজমা খানকে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

শুধু চিকিৎসা নয়, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়কেরা। তাদের মতে, দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে একজন বন্দির স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা এসেছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যায়। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং ইমরানের সঙ্গে ক্রিকেটের মাঠে গড়ে ওঠা সম্পর্ক থেকেই এই আবেদন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জায়গা থেকে, সাবেক সহখেলোয়াড় ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে’ তারা এই আহ্বান জানাচ্ছেন।

একসময় যে ইমরান খান ক্রিকেটের মাঠে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই অধিনায়কই এখন দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে। ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে এসে ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন।

ইমরানকে ঘিরে সাবেক ক্রিকেটারদের এমন উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক তার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাই বেড়ে দাঁড়াল ২১-এ।

রাজনীতির মাঠে ইমরানকে ঘিরে যত আলোচনা ও সমালোচনা থাকুক, ক্রিকেটের মাঠে তার পরিচয় ছিল ভিন্ন—একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ২১ সাবেক অধিনায়কের চিঠিতে তাই রাজনীতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে সেই ক্রিকেটীয় সম্পর্ক, মানবিক উদ্বেগ এবং একজন সাবেক সতীর্থের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা।

কালের আলো/এম/এএইচ

জুলাইকে বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জহির উদ্দিন স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
জুলাইকে বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জহির উদ্দিন স্বপন

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার ও মেরামতের লক্ষ্যেই ওই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের পেছনে নির্দিষ্ট দর্শন, বিপ্লবী আদর্শ এবং সেই আদর্শ ধারণকারী রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্ব থাকে। এর মাধ্যমে নতুন ধরনের সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাস্তবতা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দল ও সরকার খুব স্পষ্টভাবে মনে করে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রচলিত ব্যবস্থাকে সংস্কার ও মেরামত করার জন্য। কোনোভাবেই এখানে কোনো বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি।’

জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে বিপ্লব না সংস্কার—কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো চিন্তাগত অস্পষ্টতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের মতো জটিল কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বপন বলেন, ভিন্নমত ও সমালোচনাকে পরস্পরকে পরাজিত করার হাতিয়ার না বানিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সামনে এগোতে হবে।

জুলাই সনদসহ চলমান রাজনৈতিক ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদ থাকলেও আলোচনা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বপন বলেন, সরকারের কাজ কাউকে পরাজিত করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। এ জন্য সব রাজনৈতিক শক্তি, অংশীজন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ‘এনগেজমেন্ট, এনগেজমেন্ট, এনগেজমেন্ট—গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সম্পৃক্ততা এবং সুস্থ আলোচনা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’

আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আহমদ আব্দুল কাদের এবং সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি