খুঁজুন
                               
, ,
           

পুকুর থেকে বঙ্গোপসাগর, মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার ডাক বিজিবি মহাপরিচালকের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
পুকুর থেকে বঙ্গোপসাগর, মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার ডাক বিজিবি মহাপরিচালকের

মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বনির্ভরতার ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানেই মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তাঁর মতে, মাছ চাষের জন্য বড় জলাশয়ের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন নেই; ছোট পুকুর ও অন্যান্য উপযুক্ত জলাশয়ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় উৎপাদনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হল সংলগ্ন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

উৎপাদন বাড়াতে চাই সর্বস্তরের অংশগ্রহণ
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বস্তরে মাছ চাষ ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—যেখানে মাছ চাষের উপযোগী জলাশয় রয়েছে, সেগুলোকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগাতে হবে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত মৎস্য উৎপাদনকে শুধু পেশা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খাত হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মিঠাপানির মাছে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, সামনে প্রথম হওয়ার সম্ভাবনা
বিজিবি মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদও যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বড় জলাশয় নয়, পরিকল্পনাই হতে পারে মূল শক্তি
মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা—বড় পুকুর বা জলাশয় না থাকলে উৎপাদন সম্ভব নয়—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও এসেছে বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ছোট পুকুরসহ বিভিন্ন উপযুক্ত জলাশয়েও নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা সম্ভব। এর ফলে দেশের অসংখ্য ছোট ও অব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বহুমাত্রিক সুফলের কথাও তুলে ধরেন বিজিবি মহাপরিচালক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়লে একদিকে মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও মৎস্য খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ, মাছ চাষকে কেবল খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না রেখে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বিজিবির জলাশয়গুলোও হবে উৎপাদনমুখী
সরকারের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগকে সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক। একই সঙ্গে বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে থাকা পুকুর ও জলাশয়গুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করে মাছ চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিজিবির নিজস্ব জলাশয়গুলোকে একদিকে যেমন উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যদের মধ্যেও মাছ চাষ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।

দুই সপ্তাহের কর্মসূচিতে পোনা অবমুক্তকরণ ও সচেতনতা
মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ—সমন্বিত উদ্যোগই বড় চ্যালেঞ্জ
বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সামনে থাকা সম্ভাবনা ও করণীয়—দুই দিকই স্পষ্ট হয়েছে। দেশের মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে শক্ত অবস্থান থাকলেও ভবিষ্যতে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার, আধুনিক চাষপদ্ধতি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনার যে আহ্বান এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে মৎস্য উৎপাদনকে আরও বিকেন্দ্রীভূত করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জলাশয় ব্যবহারের উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কেবল পোনা অবমুক্ত করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি অব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি কার্যকর বার্তা বহন করছে। মিঠাপানির মাছের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের মৎস্য খাত ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার আরও শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বড় রায়, দুই আসামির ফাঁসি বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বড় রায়, দুই আসামির ফাঁসি বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামি হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

অন্যদিকে কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন ও মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলরকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ১৬ আসামির বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারিক পর্যালোচনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এক হত্যাকাণ্ডে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে হাইকোর্ট ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ওই বিচারককে ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। দুইটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এতে বেশিরভাগই তরুণ অভিবাসী ছিলেন।

তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, নৌকাটিতে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন।

দুর্ঘটনার পর মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে।

নৌকায় থাকা সবাই তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেন গেরদানে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান জোরদারের দাবিতে শনিবার রাতে শহরটিতে কয়েক ডজন তরুণ বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

কালের আলো/এসএ

‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের তেল পরিবহন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের কোনো পথ দিয়েই ইরান এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবে না।

ইরানি এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নীতিকে যেসব দেশ সমর্থন বা সহযোগিতা করবে, তাদের ভূমিকাকে তেহরান ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা স্থানীয় উপকূলীয় দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত।

এ ছাড়া যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার সুযোগ দেবে কিংবা ওয়াশিংটনকে অন্য কোনো ধরনের সহায়তা করবে, তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই সরু জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে তেল চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ইরানের এই হুমকি তাই শুধু দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের বিষয় নয়; এর প্রভাব বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ