খুঁজুন
                               
, ,
           

ইলিয়াস আলী গুম মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফ কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
ইলিয়াস আলী গুম মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফ কারাগারে

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একইসঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে উইং কমান্ডার সাইফকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।  অন্যদিকে, জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী তাবারক হোসেন।

শুনানিতে তাবারক হোসেন বলেন, ‘সাইফুর রহমান ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না। অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন। তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করছি।’

এর বিপরীতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি এবং আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা ছাড়াও আরও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাইফকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই নিখোঁজ রহস্য অমীমাংসিত থাকলেও সম্প্রতি এর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা।

৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ইয়াবা, গাঁজা ও অ্যালকোহলের পাশাপাশি ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। মাদকাসক্ত নারীদের তালিকায় শিক্ষার্থী ও বেকারের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণীরাও রয়েছেন।

নারীদের নিয়ে কাজ করা আহছানিয়া মিশনের তথ্য বলছে, তাদের মাত্র ৩টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ৩৩ নারী মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন। গত ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৩ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইয়াবা এবং ৪৩ শতাংশ গাঁজায় আসক্ত। অ্যালকোহলে আসক্ত প্রায় ৭ শতাংশ। চিকিৎসাধীন নারীদের ৭৭ শতাংশই ঢাকার বাসিন্দা।

পরিসংখ্যানের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ—মাদকাসক্তি শুধু নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণী—বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অবস্থানের নারীরাই এখন চিকিৎসার আওতায় আসছেন। অনেকের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক সমস্যাও যুক্ত হচ্ছে।

অ্যালকোহল সেবনের প্রবণতার ক্ষেত্রেও রাজধানীতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মদ পানের পারমিটের জন্য চলতি বছর হাজারের বেশি তরুণী আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। জুন পর্যন্ত ৭ শতাধিক পারমিট ইস্যু হয়েছে। গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকায় নারী পারমিটধারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

তবে পারমিটের সংখ্যা সরাসরি মাদকাসক্তির সংখ্যা নির্দেশ করে না। বৈধভাবে অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি নেওয়া এবং আসক্ত হয়ে পড়া—দুটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে নারী মাদকাসক্তদের উপস্থিতি এবং তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবহারের তথ্য সামাজিক বাস্তবতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী মাদকাসক্তির বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলা বা চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ, সামাজিক পরিবেশ ও সহজলভ্যতার মতো কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসুবিধা বাড়ানো জরুরি।

কারণ একজন নারীর মাদকাসক্তির প্রভাব শুধু তার নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, সন্তান ও সামাজিক সম্পর্ক। ফলে বাড়তে থাকা নারী মাদকাসক্তি এখন ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে পরিবার ও সমাজের জন্যও একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৪৪টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অভিযানে ৫০৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১১টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৩৭টি, লালবাগে ১৯৭টি, মতিঝিলে ৩০২টি, ওয়ারীতে ১৭৮টি, তেজগাঁওয়ে ৩৫৭টি, মিরপুরে ৩৩৬টি, উত্তরা বিভাগে ৪৫৪টি এবং গুলশান বিভাগে ১৮৩টি মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৪টি মামলা এবং রমনা বিভাগে সবচেয়ে কম ১৩৭টি মামলা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি

শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, পুলিশ বক্সের আশপাশ, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও ভিআইপি রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ছিল। এতে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল। এ সমস্যা নিরসনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের অভিযানে আটক ৪০ জনসহ গত কয়েক দিনে বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

আটক শিশুদের মিরপুরের শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদি জানান, বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি