খুঁজুন
                               
, ,
           

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বড় রায়, দুই আসামির ফাঁসি বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বড় রায়, দুই আসামির ফাঁসি বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামি হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

অন্যদিকে কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন ও মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলরকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ১৬ আসামির বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারিক পর্যালোচনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এক হত্যাকাণ্ডে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে হাইকোর্ট ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ওই বিচারককে ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

তৃতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন আনুশকা? যা জানা গেল

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
তৃতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন আনুশকা? যা জানা গেল

বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা কি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন? স্বামী ও ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এমন প্রশ্নই ঘুরছে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুশকা কিংবা বিরাটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের জেটিঘাটে বিরাটের সঙ্গে দেখা যায় আনুশকাকে। এ সময় তাঁর পরনে ছিল মেরুন রঙের ঢিলেঢালা আনারকলি পোশাক। খোলা চুল ও মেকআপবিহীন সাধারণ সাজে বোট থেকে নেমে সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলেন তিনি। পাশে থাকা বিরাটকে এ সময় স্ত্রীকে আগলে রাখতে দেখা যায়। তাঁর মুখে ছিল মাস্ক।

পোশাক ঘিরেই যত আলোচনা
আলিবাগ থেকে মুম্বাইয়ে ফেরার পথে ইন্ডিয়া গেট-সংলগ্ন জেটিঘাটে তারকা দম্পতির ওই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন ছবিশিকারিরা। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আনুশকার পোশাক ও শারীরিক গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিও দেখে কয়েকজন নেটিজেন তাঁর তৃতীয়বার মা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ কৌতূহল প্রকাশ করেছেন, তাঁদের দুই সন্তান ভামিকা ও অকায়ের জীবনে কি নতুন কোনো অতিথি আসতে চলেছে?

তবে ঢিলেঢালা পোশাক পরা কিংবা ভিডিওতে শারীরিক গঠন দেখে কারও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না। তাই আপাতত বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এখনো আসেনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
আনুশকা শর্মা ও বিরাট কোহলি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেছে বেছে তথ্য প্রকাশ করেন। এবারও তৃতীয় সন্তান আসার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন অতিথি আসার খবরটি এখনো নিশ্চিত নয়।

আনুশকা ও বিরাটের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—মেয়ে ভামিকা ও ছেলে অকায়। তৃতীয় সন্তান নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের সত্যতা জানতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে তারকা দম্পতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য।

কীর্তনে একসঙ্গে বিরাট-আনুশকা
এদিকে সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আধ্যাত্মিক পরিবেশে সময় কাটাতেও দেখা গেছে এই দম্পতিকে। রোববার মার্কিন সংগীতশিল্পী কৃষ্ণ দাসের লাইভ কীর্তনে অংশ নেন তাঁরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিরাট ও আনুশকাকে হাততালি দিয়ে কীর্তন উপভোগ করতে এবং ভক্তিগীতির সঙ্গে মৃদুস্বরে কণ্ঠ মেলাতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁদের এই উপস্থিতিও ভক্তদের নজর কেড়েছে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

জন্মদিনে স্বপ্ন ও প্রাপ্তি নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৌসিফের

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
জন্মদিনে স্বপ্ন ও প্রাপ্তি নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৌসিফের

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। বিশেষ এই দিনে ভক্ত, অনুরাগী ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। তবে জন্মদিনে নতুন কোনো চাওয়া কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা নয়, বরং জীবনে যা পেয়েছেন, তা নিয়েই নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

এক বন্ধুর জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা থেকেই এমন ভাবনার সূত্রপাত। বন্ধুর একটি বাক্য তাঁকে নিজের স্বপ্ন, অর্জন ও বর্তমান জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেই উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন তৌসিফ।

বন্ধুর একটি কথায় নতুন করে ভাবনা
জন্মদিনে তৌসিফকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর এক বন্ধু লিখেছিলেন, ‘তুমি যেন তোমার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারো।’ বন্ধুর এই কথাটি অভিনেতার মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিজের স্বপ্নগুলো আসলে কী, স্বপ্নের চেয়েও বড় হওয়ার অর্থ কী—এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি।

পোস্টে তৌসিফ লেখেন, ‘কথাটা পড়ে ভাবতে শুরু করলাম, আমার স্বপ্নগুলো আসলে কী? স্বপ্নের চেয়েও বড় হওয়ার মানে কী? আমি কি আদৌ যথেষ্ট বড় স্বপ্ন দেখছি?’

বন্ধুর শুভেচ্ছাবার্তা থেকে শুরু হওয়া এই ভাবনা একপর্যায়ে তাঁকে নিজের জীবনের প্রাপ্তিগুলোর দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ করে দেয়।

যে জীবন পেয়েছেন, সেটিও অনেকের স্বপ্ন
আরও বড় কিছু অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় বর্তমান জীবনের প্রাপ্তিগুলোকে অবহেলা করে—এমন উপলব্ধির কথাই জানিয়েছেন তৌসিফ। তাঁর মতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে গিয়ে মানুষ ভুলে যায়, ইতিমধ্যে কতটা পথ পেরিয়ে এসেছে এবং জীবনে কত কিছু অর্জন করেছে।

নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে অভিনেতা লেখেন, ‘ভাবতে ভাবতে একটা উপলব্ধি হলো, আমি আজ এমন একটা জীবন যাপন করছি, যে জীবনের স্বপ্ন হয়তো লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে। আরও বড় কিছু হওয়ার দৌড়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, আমরা ইতোমধ্যে কতটা পথ পেরিয়ে এসেছি, কত কিছু পেয়েছি।’

তৌসিফের এই বক্তব্যে জীবনের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি বর্তমানের প্রাপ্তিকে মূল্য দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন থাকা জরুরি, তবে সেই পথে চলতে গিয়ে ইতিমধ্যে পাওয়া সুখ ও সাফল্যের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়—তাঁর উপলব্ধি যেন সেই বার্তাই দেয়।

জন্মদিনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা
জন্মদিনে নতুন করে কিছু চাওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তৌসিফ। নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ, মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা এবং পরিবার, ভক্ত ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য পাওয়াকে বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে অভিনেতা লেখেন, ‘আজ তাই নতুন করে কিছু চাওয়ার আগে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।

আমাকে আমি হয়ে উঠতে দেওয়ার জন্য, আমার পা দুটো মাটিতে রাখার তৌফিক দেওয়ার জন্য, আর আমার পরিবার, ভক্ত ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দেওয়ার জন্য।’

নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তৌসিফ মাহবুব। অভিনয়ের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্যও পরিচিত তিনি। জন্মদিনে তাঁর এই উপলব্ধি মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পথে নতুন স্বপ্ন দেখা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের বর্তমান জীবন ও প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/জেএন

আইএমএফের পূর্বাভাসে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আইএমএফের পূর্বাভাসে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২০২৬ সালে আবারও ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবরের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। সে হিসাবে এ সূচকে ভারতের চেয়ে ১৩৭ ডলার এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ।

এর আগে ২০২০ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে আবারও এ সূচকে এগিয়ে যায় ভারত। আইএমএফের সর্বশেষ পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে চলতি বছর বাংলাদেশ আবারও প্রতিবেশী দেশটির চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

অর্থনীতির আকারে ভারতের সঙ্গে বড় ব্যবধান
জিডিপিতে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনীতির মোট আকারের দিক থেকে ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের মোট জিডিপি হতে পারে ৫০৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের হিসাবে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড় হতে পারে। মাথাপিছু জিডিপি ও মোট জিডিপি আলাদা সূচক হওয়ায় একটিতে এগিয়ে থাকা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতির আকারেও এগিয়ে থাকা নয়।

ক্রয়ক্ষমতার সমতায় এগিয়ে ভারত
ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) হিসাবেও ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হতে পারে। এ পদ্ধতিতে দুই দেশের স্থানীয় মূল্যস্তর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিপিপির ভিত্তিতে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ হতে পারে ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার। অর্থাৎ পিপিপির হিসাবে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি
গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খাতের অবদানও বেড়েছে। ভারতের অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মূল্য সংযোজনে উৎপাদন খাতের অবদান ২০১৪ সালে ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মেহরোত্রা জানান, ভারতের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের মূল্য সংযোজনের অবদান ২০১৪ সালের ১৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে কমে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। এ পরিসংখ্যান দুই দেশের উৎপাদন খাতের অবদানে ভিন্ন প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটে চাপে বাংলাদেশ
মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও জ্বালানি সংকট অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলছে। দেশের প্রয়োজনীয় তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করে

জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া কিংবা বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে রপ্তানি আয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানির বহুমুখীকরণ ও জ্বালানিনিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ৩ হাজার ২১৯ ডলার। ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ৩ হাজার ৩৬ ডলার। ২০২৮ সালেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। তবে ২০২৯ সালে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ওই বছর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ৬৬১ ডলার এবং বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৩৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৯ সালে এ সূচকে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।

মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে সবার জীবনমান বোঝা যায় না
মাথাপিছু জিডিপি নির্ণয় করা হয় একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। এটি দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনের গড় চিত্র তুলে ধরে। তবে এ সূচকে এগিয়ে থাকা মানেই দেশের প্রত্যেক মানুষের আয় বেশি কিংবা সবার জীবনযাত্রার মান উন্নত—এমন নয়।

আয়বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় মানুষের প্রকৃত জীবনমানকে প্রভাবিত করে। তাই মাথাপিছু জিডিপির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাসে মাথাপিছু জিডিপিতে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা গেলেও সেই অগ্রগতিকে টেকসই করতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি