খুঁজুন
                               
, ,
           

সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

সরকারের কাছে সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে স্মারকলিপিটি পেশ করেন বাপার নেতারা। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও উপস্থিত ছিলেন। বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহসভাপতি খুশি কবির, মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক ড. হালিম দাদ খান, এস এম মিজানুর রহমান এবং খন্দকার আজিজুল হক মনিও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাপার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাপার পক্ষ থেকে দেশের নদ-নদীতে মেগা প্রকল্পের ফলে নদীর আকার-প্রকৃতির পরিবর্তন, স্লুইসগেটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর বর্তমান বাস্তব চিত্র, বুড়িগঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ, বড়াল নদী ও চলনবিলের মাছ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের সমস্যা, বিল হরিণা ও ভবদহের দুর্ভোগ, নদ-নদীতে বাঁধ বা পোল্ডারের অপ্রয়োজনীয়তা, দেশের হাওরগুলোর সমস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার নেতারা।

মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই পরিবেশ ও নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাপার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় চলনবিলের পদ্মা-যমুনা ও অভ্যন্তরীণ নদীপথের একমাত্র পতিতমুখ বন্ধ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিবর্তে অন্যত্র করার বিষয়ে চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা স্মারকলিপিতে যেসব সুপারিশ করা হয়—

১) নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত নীতিকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করবেন; প্লাবনভূমিতে নদ-নদীর আসা-যাওয়ার পথে ইতিমধ্যে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেবেন; এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবেন।

২) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) অধীনে উপকূলের পোল্ডারগুলোর বাঁধ আরও নিশ্ছিদ্র করার পরিবর্তে সেগুলোকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে পোল্ডারের মধ্যে বর্ষাকালে পলিযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে এবং পলিপতনের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত নিমজ্জনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৩) দেশের অভ্যন্তরে যেসব পোল্ডার নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর বাঁধও ক্রমান্বয়ে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে বর্ষাকালে নদীর পানি পোল্ডারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং বর্ষা শেষে আবার নদীতে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে পোল্ডারের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এ ধারায় অগ্রসর হয়ে ভবদহসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কার্যকরভাবে নিরসন করবেন।

৪) পোল্ডারের সঙ্গে সম্পর্কহীনভাবে দেশের নদ-নদীর ওপর যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন—স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর, প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সংকীর্ণ সেতু ও কালভার্ট—সেগুলো অপসারণ করে নদ-নদীর প্রবাহ বাধাহীন করার নির্দেশ দেবেন।

৫) সিএস মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সব নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করবেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

৬) গঙ্গা ও যমুনার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী চলনবিলের প্রধান নদী বড়ালকে অবমুক্ত করার অর্ধসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আশু পদক্ষেপ নেবেন।

৭) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেসব নদী ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর কোহেলিয়া অন্যতম, সেগুলো পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

৮) নদ-নদী ও জলাশয়কে আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত করার বর্তমান প্রবণতা রোধ করবেন এবং হবিগঞ্জের সুতাং, ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ, কক্সবাজারের বাঁকখালী, খুলনার ময়ূরসহ দেশের সব নদ-নদীকে দূষণমুক্ত করবেন।

৯) নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে নদ-নদীর পাড়ভাঙন রোধ এবং পাড় স্থিতিশীল করাকে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে গ্রহণ করবেন। সে লক্ষ্যে জিওব্যাগ পদ্ধতিসহ দেশীয় বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারের ভিত্তিতে অগ্রসর হবেন।

১০) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী করবেন এবং নদ-নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১) আন্তর্জাতিক নদ-নদীর ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার আদায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এবং গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে ৫ ও ৬ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত যথাক্রমে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং সফল চুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে যা করতে হবে শীর্ষক নিবন্ধে উপস্থাপিত বিভিন্ন পরামর্শ বিবেচনায় নিতে পারেন।

১২) তিস্তা নদীর সংকট সমাধানে বিদেশি কোম্পানির প্রস্তুত করা প্রকল্পের পরিবর্তে দেশীয় পারদর্শিতা, দেশীয় প্রযুক্তি, দেশীয় অর্থায়ন ও উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষ ও দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করবেন।

১৩) গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে জাতীয় পর্যায়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেবেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে ১২ থেকে ১৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানো সত্ত্বেও কেন তা গড়াই-মধুমতি, বড়াল ও অন্যান্য শাখানদীতে প্রবেশ করছে না, তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলো অপসারণে পাউবোকে নির্দেশ দেবেন। কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি শাখানদীগুলোতে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হলে প্রস্তাবিত গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ সম্পর্কে আরও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

১৪) উপর্যুক্ত ধারায় আপনার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি বাপার সমর্থন থাকবে এবং বাপা সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত, মহামারি ও কৃষিশ্রমিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্য আমদানিনির্ভর শিল্পোন্নত দেশ জাপানও এর বাইরে নয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন ক্যালরির হিসাবে মোট চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ। জনসংখ্যা কমে যাওয়া, কৃষিশ্রমিকদের বার্ধক্য এবং নতুন কর্মীর ঘাটতি দেশটির কৃষি খাতের সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

তবে ধান উৎপাদনে জাপানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। দেশটির ধানের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদনের ভিত্তি ধরে রাখার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে দেশটি।

সম্প্রতি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দল দেশটির অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন অঞ্চল তোহোকুর ইয়ামাগাতা জেলা পরিদর্শন করে। সেখানে টেকসই কৃষি, নতুন ধানের জাত ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি নিয়ে চলমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মিদোরি কৌশলে পরিবেশবান্ধব কৃষি

জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘মিদোরি কৌশল’ গ্রহণ করে। ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি খাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানো, রাসায়নিক কীটনাশকের ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো এবং মোট কৃষিজমির ২৫ শতাংশে জৈব চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে এ কৌশলে।

এ নীতি বাস্তবায়নে ২০২২ সালে ‘মিদোরি আইন’ কার্যকর করা হয়। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও করছাড় দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি উৎপাদক এ সুবিধা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ ছাড়া কৃষি খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে চালু হয়েছে ‘জে-ক্রেডিট’ ব্যবস্থা। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে খাদ্যপণ্যে পরিবেশগত লেবেলিংও চালু করেছে জাপান।

সোনাই সমভূমিতে ধান গবেষণা

ইয়ামাগাতা জেলার সোনাই সমভূমি জাপানের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। পাহাড় থেকে নেমে আসা খনিজসমৃদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়া এ অঞ্চলের ধান চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সুরুওকা শহরের ইয়ামাগাতা সমন্বিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ধান প্রজনন ও শস্যবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠানটি ১৩০টির বেশি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে হায়েনুকি, সুইয়াহিমে, ইউকিওয়াকামারু ও ইয়ামাগাতামোচি-১২৮ উল্লেখযোগ্য।

গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক রেইকো নাকাবা জানান, বর্তমানে ধান গবেষণায় চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—স্বাদ ও গুণমান ধরে রাখা, ফলন বাড়ানো, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নির্বাচন।

গরম সহনশীল নতুন জাত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধান চাষের মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০২৩ সালে ইয়ামাগাতায় ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার সময় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এতে উন্নতমানের ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পর থেকে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘ইউকিমানতেন’ নামে একটি উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাতের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক চাষ চলছে। ২০২৭ সালে জাতটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ধানখেতে পানি ব্যবস্থাপনায় কমছে মিথেন

ধান উৎপাদনে পরিবেশগত ক্ষতি কমাতেও জাপানে নানা প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ বা AWD পদ্ধতি। এতে ধানখেত সব সময় পানিতে ডুবিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট সময় পর পানি বের করে মাটি শুকানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরে আবার খেতে পানি দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব। গবেষণা অনুযায়ী, ফলন অক্ষুণ্ন রেখে AWD ব্যবহারে মিথেন নিঃসরণ সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

জাপানের সহযোগিতায় ফিলিপাইনসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগে জাপানের আগ্রহ রয়েছে।

জিনোম প্রযুক্তিতেও গুরুত্ব

ধানের স্বাদ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও অন্যান্য কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য দ্রুত শনাক্ত করতে গবেষকেরা ডিএনএ মার্কার ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জাতের মধ্যে ক্রস-ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নতুন জাত উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ইয়ামাগাতার গবেষকেরা এমন জাতও উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন, যেগুলো বিদ্যমান জাতগুলোর আগে বা পরে কাটা যাবে। এতে বড় জমিতে সীমিত শ্রমিক দিয়ে ধান চাষ ও ফসল কাটার সময় ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে রেইকো নাকাবা জানান, ইয়ামাগাতা গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বর্তমানে কোনো যৌথ প্রকল্প নেই। তবে বিভিন্ন দেশের ধান গবেষণা সম্পর্কে তাঁরা অবগত।

জাপানের ইয়ামাগাতার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা শুধু বেশি ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে না। জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত, স্মার্ট কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি মোকাবিলার সমন্বিত উদ্যোগই হয়ে উঠতে পারে টেকসই ধান উৎপাদনের ভিত্তি। বাংলাদেশের মতো ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্যও এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে: জেলেনস্কি

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা দেশকে বিভক্ত করে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রোববার যুদ্ধকালীন নির্বাচন নিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধ চলার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জেলেনস্কি বলেন, “যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।” তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন ইউক্রেনীয়দের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে দেশটির লাখ লাখ নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন, অনেকে রুশ-অধিকৃত এলাকায় রয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ সম্মুখযুদ্ধে নিয়োজিত। ফলে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে ভোট আয়োজন করা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বাস্তব পরিকল্পনা তাঁর কাছে আসেনি।

কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। জরিপকারীদের মতে, ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এখনই ভোট দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থনও বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দীর্ঘদিন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানালে বিষয়টি ইউক্রেনের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

ফেদোরভকে এখন জেলেনস্কির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেননি।

জেলেনস্কির বক্তব্য, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য নির্বাচন নয়; বরং যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

কালের আলো/এসএ

ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী (স.) অনুষ্ঠানমালা’ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, সাম্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক প্রচারিত রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা।

এছাড়া মঙ্গলবার থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা ওয়াজ করবেন।

এসব আয়োজনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ ও অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ