শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া চারে বাংলাদেশ, টিকে থাকতে পারবে কি টাইগার্সরা?
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে এবার ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে সেই হারের জবাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দেড় দিনের একটু বেশি সময়ে ম্যাচ শেষ করে প্যাট কামিন্সের দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে।
হারের পরও খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া নাজমুল হোসেনের দল ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার চারে।
২০২৫-২৭ চক্রে ৯টি দল মোট ২৭টি সিরিজে ৭১টি টেস্ট খেলবে। চক্র শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ২০২৭ সালের ফাইনাল। এবারও মোট পয়েন্ট নয়, ‘পারসেন্টেজ অব পয়ে ন্টস’ বা পিসিটির ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে।
প্রতি জয়ে ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ে ৪ এবং টাই হলে দুই দলকে দেওয়া হয় ৬ পয়েন্ট করে। হারলে কোনো পয়েন্ট নেই।
শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া
১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৯৬, পিসিটি ৮০ শতাংশ। বাকি ১২ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি অ্যাওয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি হোম এবং ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি অ্যাওয়ে টেস্ট খেলবে তারা।
বাকি ম্যাচগুলো থেকে ৬৩ পয়েন্ট পেলেই ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। আর বাকি ১২ ম্যাচের আটটিতে জয় ও চারটিতে হারলেও তাদের পিসিটি হবে ৬৮.১৮ শতাংশ।
দক্ষিণ আফ্রিকাও শক্ত অবস্থানে
চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা।
বাকি ম্যাচগুলো থেকে অন্তত ৬৫ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতে সেটি সম্ভব। সাত জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি দাঁড়াবে ৭১.৪৩ শতাংশে।
নিউজিল্যান্ডেরও সুযোগ ভালো
ছয় ম্যাচে চার জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৫২, পিসিটি ৭২.২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ভারতের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি খেলবে ঘরের মাঠে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে অ্যাওয়ে।
বাকি ১০ ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৪ পয়েন্ট পেলে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে কিউইরা। ছয় জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ; সাত জয় ও তিন হার হলে ৭০.৮৩ শতাংশ।
বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ
ছয় টেস্টে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ। বাকি ছয় টেস্টের দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।
৬০ শতাংশ পিসিটি ছুঁতে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টেই জয় পেলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আর ওই চার জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে অন্তত একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। সেই অবস্থান ফাইনালের লড়াইয়ে নাজমুল হোসেনদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে পারে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠের চার টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণ ৪৮ পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে ফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হবে।
ভারতের সামনে কঠিন পরীক্ষা
১০ ম্যাচে পাঁচ জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে ভারতের পয়েন্ট ৬৪, পিসিটি ৫৩.৩৩ শতাংশ। বাকি আট টেস্টের একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে, দুটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে।
বাকি আট ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৬ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশের ওপরে উঠতে পারবে ভারত। ছয় জয় ও দুই হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৮.৫২ শতাংশে।
শ্রীলঙ্কার সমীকরণ কঠিন
পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ২০, পিসিটি ৩৩.৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা।
৬০ শতাংশে যেতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের অন্তত ৬৭ পয়েন্ট দরকার। অর্থাৎ ছয় জয় অথবা পাঁচ জয় ও দুই ড্র করতে হবে। সাত ম্যাচের সব কটিতে জিততে পারলে অবশ্য পিসিটি ৭২.২২ শতাংশে উঠবে।
ইংল্যান্ডের ফাইনাল কঠিন
১৪ ম্যাচে পাঁচ জয়, আট হার ও এক ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫০, পিসিটি ২৯.৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের ১৪ পয়েন্ট কাটা গেছে।
বাকি সাত টেস্টের সব কটিতে জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষীণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানও পিছিয়ে
১২ ম্যাচে মাত্র দুই জয় নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি ২০.৮৩ শতাংশ। তাদের বাকি দুটি টেস্টই বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে। দুটিতে জিতলেও সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে তারা কার্যত ছিটকে গেছে।
পাকিস্তানের অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। সাত ম্যাচে দুই জয় ও পাঁচ হারে তাদের পয়েন্ট ১৬, পিসিটি ২২.২২ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে কাটা গেছে আরও ৮ পয়েন্ট।
বাকি ছয়টি টেস্টের সব কটিতে জিতলে পাকিস্তানের পিসিটি সর্বোচ্চ ৫৭.৫ শতাংশে উঠতে পারে। পাঁচ জয় ও এক ড্র হলে হবে ৫১.৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে
ম্যাকাইয়ের বড় হার বাংলাদেশের পিসিটি কমিয়ে দিলেও ফাইনালের লড়াই থেকে তারা ছিটকে যায়নি। বরং বাকি ছয় টেস্টের চারটি ঘরের মাঠে হওয়ায় সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।
ঘরের মাঠে চার জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত একটি অ্যাওয়ে জয় বাংলাদেশকে প্রায় ৭০ শতাংশ পিসিটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। তবে শীর্ষ তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের শক্ত অবস্থানের কারণে পথটি সহজ হবে না।
তবু এখন পর্যন্ত হিসাব বলছে, নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারলে নাজমুল হোসেনের দল প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে জোরালোভাবে টিকে থাকতে পারে।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array