খুঁজুন
                               
, ,
           

শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া চারে বাংলাদেশ, টিকে থাকতে পারবে কি টাইগার্সরা?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া চারে বাংলাদেশ, টিকে থাকতে পারবে কি টাইগার্সরা?

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে এবার ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে সেই হারের জবাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দেড় দিনের একটু বেশি সময়ে ম্যাচ শেষ করে প্যাট কামিন্সের দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে।

হারের পরও খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া নাজমুল হোসেনের দল ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার চারে।

২০২৫-২৭ চক্রে ৯টি দল মোট ২৭টি সিরিজে ৭১টি টেস্ট খেলবে। চক্র শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ২০২৭ সালের ফাইনাল। এবারও মোট পয়েন্ট নয়, ‘পারসেন্টেজ অব পয়ে ন্টস’ বা পিসিটির ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে।

প্রতি জয়ে ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ে ৪ এবং টাই হলে দুই দলকে দেওয়া হয় ৬ পয়েন্ট করে। হারলে কোনো পয়েন্ট নেই।

শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া

১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৯৬, পিসিটি ৮০ শতাংশ। বাকি ১২ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি অ্যাওয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি হোম এবং ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি অ্যাওয়ে টেস্ট খেলবে তারা।

বাকি ম্যাচগুলো থেকে ৬৩ পয়েন্ট পেলেই ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। আর বাকি ১২ ম্যাচের আটটিতে জয় ও চারটিতে হারলেও তাদের পিসিটি হবে ৬৮.১৮ শতাংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকাও শক্ত অবস্থানে

চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা।

বাকি ম্যাচগুলো থেকে অন্তত ৬৫ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতে সেটি সম্ভব। সাত জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি দাঁড়াবে ৭১.৪৩ শতাংশে।

নিউজিল্যান্ডেরও সুযোগ ভালো

ছয় ম্যাচে চার জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৫২, পিসিটি ৭২.২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ভারতের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি খেলবে ঘরের মাঠে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে অ্যাওয়ে।

বাকি ১০ ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৪ পয়েন্ট পেলে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে কিউইরা। ছয় জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ; সাত জয় ও তিন হার হলে ৭০.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ

ছয় টেস্টে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ। বাকি ছয় টেস্টের দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।

৬০ শতাংশ পিসিটি ছুঁতে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টেই জয় পেলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

আর ওই চার জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে অন্তত একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। সেই অবস্থান ফাইনালের লড়াইয়ে নাজমুল হোসেনদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠের চার টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণ ৪৮ পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে ফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হবে।

ভারতের সামনে কঠিন পরীক্ষা

১০ ম্যাচে পাঁচ জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে ভারতের পয়েন্ট ৬৪, পিসিটি ৫৩.৩৩ শতাংশ। বাকি আট টেস্টের একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে, দুটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে।

বাকি আট ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৬ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশের ওপরে উঠতে পারবে ভারত। ছয় জয় ও দুই হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৮.৫২ শতাংশে।

শ্রীলঙ্কার সমীকরণ কঠিন

পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ২০, পিসিটি ৩৩.৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা।

৬০ শতাংশে যেতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের অন্তত ৬৭ পয়েন্ট দরকার। অর্থাৎ ছয় জয় অথবা পাঁচ জয় ও দুই ড্র করতে হবে। সাত ম্যাচের সব কটিতে জিততে পারলে অবশ্য পিসিটি ৭২.২২ শতাংশে উঠবে।

ইংল্যান্ডের ফাইনাল কঠিন

১৪ ম্যাচে পাঁচ জয়, আট হার ও এক ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫০, পিসিটি ২৯.৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের ১৪ পয়েন্ট কাটা গেছে।

বাকি সাত টেস্টের সব কটিতে জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষীণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানও পিছিয়ে

১২ ম্যাচে মাত্র দুই জয় নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি ২০.৮৩ শতাংশ। তাদের বাকি দুটি টেস্টই বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে। দুটিতে জিতলেও সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে তারা কার্যত ছিটকে গেছে।

পাকিস্তানের অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। সাত ম্যাচে দুই জয় ও পাঁচ হারে তাদের পয়েন্ট ১৬, পিসিটি ২২.২২ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে কাটা গেছে আরও ৮ পয়েন্ট।

বাকি ছয়টি টেস্টের সব কটিতে জিতলে পাকিস্তানের পিসিটি সর্বোচ্চ ৫৭.৫ শতাংশে উঠতে পারে। পাঁচ জয় ও এক ড্র হলে হবে ৫১.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে

ম্যাকাইয়ের বড় হার বাংলাদেশের পিসিটি কমিয়ে দিলেও ফাইনালের লড়াই থেকে তারা ছিটকে যায়নি। বরং বাকি ছয় টেস্টের চারটি ঘরের মাঠে হওয়ায় সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।

ঘরের মাঠে চার জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত একটি অ্যাওয়ে জয় বাংলাদেশকে প্রায় ৭০ শতাংশ পিসিটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। তবে শীর্ষ তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের শক্ত অবস্থানের কারণে পথটি সহজ হবে না।

তবু এখন পর্যন্ত হিসাব বলছে, নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারলে নাজমুল হোসেনের দল প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে জোরালোভাবে টিকে থাকতে পারে।

কালের আলো/এসএ

৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে অনুভূত এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২। প্রথমদিকে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতার কারণে দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের পরপরই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।  আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়।

আফগানিস্তানের এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশেই তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার খবর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র:রয়টার্স, জিও নিউজ ও টোলো নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। ২০২৭ সালেও যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ফাতিহ বিরল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস ছিল। অর্থাৎ, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের জন্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন এবং দামের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আইইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। এর রেশ আগামী বছরেও থাকতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো বিশ্বাসযোগ্য পথ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফাতিহ বিরল সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। তবে আগামী বছর বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি ঠিক কতটা বদলাবে, তা সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে।  আইইএর সতর্কবার্তা বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাই ২০২৭ সালকে সামনে রেখে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে জনস্বার্থে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এ নিয়োগ কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৯ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক শামীমা সুলতানা পিএসসির সদস্য পদে বহাল থাকবেন। এই দুইয়ের মধ্যে যে শর্তটি আগে পূরণ হবে, সেটিই তাঁর মেয়াদের শেষ সময় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। পিএসসির সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শামীমা সুলতানার নিয়োগ সেই কমিশনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলো।

অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবাদস্বরূপ নিজের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সরিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ ছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ গণনা করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি