খুঁজুন
                               
, ,
           

শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া চারে বাংলাদেশ, টিকে থাকতে পারবে কি টাইগার্সরা?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া চারে বাংলাদেশ, টিকে থাকতে পারবে কি টাইগার্সরা?

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে এবার ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে সেই হারের জবাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দেড় দিনের একটু বেশি সময়ে ম্যাচ শেষ করে প্যাট কামিন্সের দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে।

হারের পরও খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া নাজমুল হোসেনের দল ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার চারে।

২০২৫-২৭ চক্রে ৯টি দল মোট ২৭টি সিরিজে ৭১টি টেস্ট খেলবে। চক্র শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ২০২৭ সালের ফাইনাল। এবারও মোট পয়েন্ট নয়, ‘পারসেন্টেজ অব পয়ে ন্টস’ বা পিসিটির ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে।

প্রতি জয়ে ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ে ৪ এবং টাই হলে দুই দলকে দেওয়া হয় ৬ পয়েন্ট করে। হারলে কোনো পয়েন্ট নেই।

শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া

১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৯৬, পিসিটি ৮০ শতাংশ। বাকি ১২ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি অ্যাওয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি হোম এবং ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি অ্যাওয়ে টেস্ট খেলবে তারা।

বাকি ম্যাচগুলো থেকে ৬৩ পয়েন্ট পেলেই ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। আর বাকি ১২ ম্যাচের আটটিতে জয় ও চারটিতে হারলেও তাদের পিসিটি হবে ৬৮.১৮ শতাংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকাও শক্ত অবস্থানে

চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে খেলবে তারা। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা।

বাকি ম্যাচগুলো থেকে অন্তত ৬৫ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতে সেটি সম্ভব। সাত জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি দাঁড়াবে ৭১.৪৩ শতাংশে।

নিউজিল্যান্ডেরও সুযোগ ভালো

ছয় ম্যাচে চার জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৫২, পিসিটি ৭২.২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ভারতের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি খেলবে ঘরের মাঠে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে অ্যাওয়ে।

বাকি ১০ ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৪ পয়েন্ট পেলে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে কিউইরা। ছয় জয় ও তিন হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ; সাত জয় ও তিন হার হলে ৭০.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ

ছয় টেস্টে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ। বাকি ছয় টেস্টের দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।

৬০ শতাংশ পিসিটি ছুঁতে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টেই জয় পেলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

আর ওই চার জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে অন্তত একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। সেই অবস্থান ফাইনালের লড়াইয়ে নাজমুল হোসেনদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠের চার টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণ ৪৮ পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে ফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হবে।

ভারতের সামনে কঠিন পরীক্ষা

১০ ম্যাচে পাঁচ জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে ভারতের পয়েন্ট ৬৪, পিসিটি ৫৩.৩৩ শতাংশ। বাকি আট টেস্টের একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে, দুটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে।

বাকি আট ম্যাচ থেকে অন্তত ৬৬ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশের ওপরে উঠতে পারবে ভারত। ছয় জয় ও দুই হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ৬৮.৫২ শতাংশে।

শ্রীলঙ্কার সমীকরণ কঠিন

পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ২০, পিসিটি ৩৩.৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা।

৬০ শতাংশে যেতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের অন্তত ৬৭ পয়েন্ট দরকার। অর্থাৎ ছয় জয় অথবা পাঁচ জয় ও দুই ড্র করতে হবে। সাত ম্যাচের সব কটিতে জিততে পারলে অবশ্য পিসিটি ৭২.২২ শতাংশে উঠবে।

ইংল্যান্ডের ফাইনাল কঠিন

১৪ ম্যাচে পাঁচ জয়, আট হার ও এক ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫০, পিসিটি ২৯.৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের ১৪ পয়েন্ট কাটা গেছে।

বাকি সাত টেস্টের সব কটিতে জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষীণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানও পিছিয়ে

১২ ম্যাচে মাত্র দুই জয় নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি ২০.৮৩ শতাংশ। তাদের বাকি দুটি টেস্টই বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে। দুটিতে জিতলেও সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে তারা কার্যত ছিটকে গেছে।

পাকিস্তানের অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। সাত ম্যাচে দুই জয় ও পাঁচ হারে তাদের পয়েন্ট ১৬, পিসিটি ২২.২২ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে কাটা গেছে আরও ৮ পয়েন্ট।

বাকি ছয়টি টেস্টের সব কটিতে জিতলে পাকিস্তানের পিসিটি সর্বোচ্চ ৫৭.৫ শতাংশে উঠতে পারে। পাঁচ জয় ও এক ড্র হলে হবে ৫১.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে

ম্যাকাইয়ের বড় হার বাংলাদেশের পিসিটি কমিয়ে দিলেও ফাইনালের লড়াই থেকে তারা ছিটকে যায়নি। বরং বাকি ছয় টেস্টের চারটি ঘরের মাঠে হওয়ায় সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।

ঘরের মাঠে চার জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত একটি অ্যাওয়ে জয় বাংলাদেশকে প্রায় ৭০ শতাংশ পিসিটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। তবে শীর্ষ তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের শক্ত অবস্থানের কারণে পথটি সহজ হবে না।

তবু এখন পর্যন্ত হিসাব বলছে, নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারলে নাজমুল হোসেনের দল প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে জোরালোভাবে টিকে থাকতে পারে।

কালের আলো/এসএ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি