খুঁজুন
                               
, ,
           

কামড় দেওয়ার মতো ঘটনার চেয়েও বেশি শাস্তি, পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
কামড় দেওয়ার মতো ঘটনার চেয়েও বেশি শাস্তি, পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন আর্জেন্টিনার

প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় লুইস সুয়ারেজ ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। অথচ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। দুই ঘটনার তুলনা টেনে পারেদেসের শাস্তিকে ‘অতিরিক্ত’ বলে দাবি করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফ

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা।

এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচ মনে করেন, পারেদেসের শাস্তি তাঁর অপরাধের তুলনায় স্পষ্টতই বেশি। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নিষেধাজ্ঞা কমানোর চেষ্টা করবে এএফএ।

ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেন, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার পরও সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁর যুক্তি, সেই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যথাযথ মনে হয় না।

২০১৪ বিশ্বকাপে কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আরও শাস্তি দিয়েছিল ফিফা। এবার সেই ঘটনাকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে এএফএ বলছে, আরও গুরুতর বলে বিবেচিত কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম মেয়াদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

উরিচ আরও একটি ঘটনার নজির টেনেছেন। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনায় ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এসব উদাহরণ বিবেচনায় পারেদেসের শাস্তির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে এএফএ।

উরিচ বলেন, তাঁরা ভিডিও ফুটেজ ফ্রেম ধরে বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাঁদের ধারণা ছিল, পারেদেস ও নাহুয়েল মলিনার শাস্তি আরও কম হওয়া উচিত ছিলপারেদেসের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকে দেওয়া হয়েছে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। তাই পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এএফএএএফএ প্রথমে ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর ভিডিও প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দেখিয়ে আপিল করা হবে।

আপিল কমিশনেও শাস্তি বহাল থাকলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এ ক্ষেত্রে তাদের সামনে পুরোনো একটি নজিরও রয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। পরে আপিলের পর সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়।

সেই নজির সামনে রেখেই এবার পারেদেস ও মলিনার শাস্তি কমানোর আশা করছে এএফএ।

তবে আপাতত তাদের মূল প্রশ্ন একটাই—কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার মতো ঘটনায় সুয়ারেজ যেখানে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

কালের আলো/এসএ

জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ হলেও জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে রাজনীতিকে খারাপ বিষয় হিসেবে না দেখে ভালো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএন উইমেন ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল মাল্টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব আ জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোটারের সংখ্যাগত দিক থেকে নারীরা শক্তিশালী হলেও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। এটি আমাদের বাস্তবতা।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমরা সামাজিক জীব হিসেবে রাজনীতির বাইরে থাকতে পারছি না, আবার রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবেও দেখছি না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার নিজের সন্তান, বোন, মেয়ে বা নারী আত্মীয়স্বজন কাউকেই রাজনীতিতে যেতে উৎসাহিত করেন না। শুধু নারী নয়, সামগ্রিকভাবেই পরিবার থেকে ছেলে-মেয়েদের রাজনীতিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয় না।

রাজনীতির পরিবেশ, আর্থসামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি ও মানসিকতাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রথম গ্রুপ হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ১৮ কোটি মানুষের দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ১৮ বছরের নিচের কিশোররাও বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই কিশোর যখন বাড়িতে আসে, তার মা তাকে বলে রাজনীতির ধারে কাছেও যেও না। নারী হোক বা পুরুষ, পরিবার থেকেই রাজনীতিকে দূরে রাখার প্রবণতা রয়েছে।

নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইনপুট থেকেই আউটপুট আসে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নারী যদি সংখ্যায় বেশি থাকেন, তাহলে নারী প্রার্থীও বেশি আসবেন। এটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতিগত কারণে রাজনৈতিক দলে যদি ৫০ শতাংশ নারী কর্মী থাকতেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোও ৫০ শতাংশ মনোনয়ন নারীদের না দিয়ে পারত না।

তিনি আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।

নিজের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় একজনও নারী ডেপুটি কমিশনার বা রিটার্নিং অফিসার ছিলেন না। এখন ১৮ থেকে ১৯ জন নারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। বাংলাদেশে নির্বাচনে এত সংখ্যক নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, এটা একসময় কল্পনাও করা যেত না।

নির্বাচন কমিশন একা অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে পারে না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশই আগের নির্বাচনগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু কমিশনাররা পরিবর্তিত হয়েছেন। আগের কমিশনে যারা ছিলেন, তারা অযোগ্য ছিলেন এমন নয়। তাদেরও যথেষ্ট যোগ্যতা ছিল। কিন্তু শুধু নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে একটি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব নয়।

তার মতে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য যদি সবার হয় এবং সবার ইচ্ছা ও সংকল্পকে এক বিন্দুতে আনা সম্ভব হয়, তাহলেই সেই ব্যবস্থা টেকসই হবে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান আনোয়ারুল ইসলাম। প্রথমত, রাজনীতি খারাপ নয় এবং রাজনীতিতে ভালো মানুষের প্রবেশ জরুরি এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অধিকার ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা রাজনৈতিক দলে যত বেশি সংখ্যায় যুক্ত হবেন, তাদের কণ্ঠ তত বেশি শক্তিশালী হবে। তাদের নেতৃত্বও তত মজবুত হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য দূর করার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফল হিসেবে অনেকের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাই আবার যেন বৈষম্যের দিকে ফিরে যাওয়া না হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তারা ভালো করছেন। নারী কর্মকর্তাদের সংগঠিত নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কেন্দ্রীয়ভাবে থাকা ওমেন নেটওয়ার্ক নারী কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা দলবদ্ধভাবে সচিবের কাছে গিয়ে কোনো দাবি জানালে সেটি উপেক্ষা করা কঠিন। ঐক্য ও চাপ সৃষ্টিকারী শক্তিশালী গ্রুপ থাকলে কাজ হতেই হবে।

নারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে নারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার। ২১ হাজার নারী প্রিজাইডিং অফিসার পাওয়া সম্ভব না হলেও এর অর্ধেক করার চেষ্টা করতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে নারী বান্ধব করতে হবে। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালনে নারীদের উৎসাহিত করতে হবে।

শুধু কথায় নয়, বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কথার সঙ্গে কাজের ফারাক থাকলে বাস্তবে এর প্রতিফলন হবে না। ৩৪ বছর ধরে চাকরি জীবনে নারীর অধিকার নিয়ে কথা শুনে আসছেন। টার্মিনোলজি হয়তো একেক সময় একেক রকম হয়েছে, কিন্তু মূল কথা একই। এখন বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অর্ধেক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নারীর অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

নারীদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে এসব বিষয় আমলে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রচেষ্টা থাকবে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আব্দুল হালিম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মামলা শেষ হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ চলছে। খুব বেশি দেরি না করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বরিশালের অনেক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। কয়েক হাজার স্কুলের এমন তথ্য দেখেছি।

তবে এটি শুধু বরিশালের বিষয় নয়, সারাদেশের চিত্রও এমন। মূল বিষয় হলো, বিগত কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মামলাধীন ছিল।

এ কারণে গত কয়েক বছরে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এখন মামলা শেষ হয়েছে এবং পিএসসির সঙ্গে আমরা কাজ করছি, যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা যায়। খুব বেশি দেরি করতে হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই তার অন্যতম প্রধান চিন্তার বিষয়। বিগত সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থতা ছিল। এখন প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। এর একটি হলো-পাঠদানের বয়সী কোনো শিশু বা শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। দ্বিতীয়টি হলো-প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা কোনোভাবেই বিশ্বমান থেকে পিছিয়ে থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশব্যাপী সব স্কুলে এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো নয়। এসব সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কারণ যুদ্ধ, সরকার দায়ী নয়: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কারণ যুদ্ধ, সরকার দায়ী নয়: রিজভী

বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার বা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়; যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে । এ ছাড়াও এক ধরনের প্রাকৃতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এমন কথা বলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে যান রিজভী।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে বিগত কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসা-বাড়িতে রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গোও এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই সমস্যা দ্রুত নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না, দেশবাসী তা দেখেছে। তবে এর মধ্যেও অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সরকার এসব চক্রান্ত শনাক্ত করে তা প্রতিহত করেছে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে মনোনিবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা বাস্তবায়নে নিরন্তর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকবে। এই জবাবদিহি সংসদে হতে পারে, দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সকল ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। অতীতে, বিশেষ করে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তার কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে, এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি কীভাবে দূর করা যায়, তা দেখভাল করা।

রিজভী বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এই কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন আশা করি।

এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং যথাসময়ে কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, কেউ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং, তার ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ