খুঁজুন
                               
, ,
           

ভিডিও ভাইরালের পর অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের রহস্যময় পোস্ট

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ভিডিও ভাইরালের পর অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের রহস্যময় পোস্ট

কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছোটপর্দার আলোচিত অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মালদ্বীপে অবকাশযাপনের সময় এক তরুণের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। কখনো তারা গল্প করছেন, কখনো রেস্টুরেন্টে নিজের হাতে তরুণকে খাবার খাইয়ে দিতে দেখা গেছে।

টিকটক থেকে এ ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তখন ভিডিওর যুবকের সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক নিয়েও নানা চর্চা হওয়া এবং চারদিকে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।

সেই ভিডিও নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও ঘটনার এক সপ্তাহ পরও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি কেয়া পায়েলের।

এদিকে এরইমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি পোস্ট দিয়েছেন এ অভিনেত্রী; যা নিয়ে নতুন করে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নিজের নতুন একটি ছবি পোস্ট করে একটি রহস্যময় ক্যাপশন দিয়েছেন। কেয়া পায়েল লিখেছেন, ‘প্রথম ভালোবাসা কি ভোলা যায়?’

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে এ ক্যাপশন দেন কেয়া পায়েল। নিজের লাস্যময়ী ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়া ক্যাপশন মুহূর্তেই নজর কাড়ে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেটিজেনদের। তারা সঙ্গে সঙ্গে নানা মন্তব্য শুরু করেন।

তবে নেটিজেনদের অধিকাংশের মন্তব্যই একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে―কদিন আগের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা যুবকই কি তাহলে কেয়া পায়েলের প্রথম ভালোবাসা, নাকি অন্য কেউ? কারও কারও মতে, অভিনেত্রীর সেই প্রথম ভালোবাসার মানুষটিই বা কে। তবে নানা মন্তব্য থাকলেও কোনো পাল্টা জবাব বা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি ছোটপর্দার এই তারকাকে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

ব্যতিক্রমী ভাবনা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর বার্তা—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ ‘রিপু রজনী’। এবার এই মণ্ডপ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে গেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরী। মণ্ডপের ভাবনা ও আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি অন্যতম সেরা একটি পূজামণ্ডপ।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মণ্ডপটি পরিদর্শনে যান পূজা চেরী। পরে তিনি কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবির সরকার অভিনেত্রীর বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও ছবি পোস্ট করেন পূজা।

‘এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই’


‘রিপু রজনী’ মণ্ডপের ব্যতিক্রমী থিমের প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মূলত এ কারণেই এটি দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসা। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমি এই ভাবনাটিকে সাধুবাদ জানাই।’

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে মণ্ডপটির বিশেষ ভাবনার প্রতি তাঁর ভালো লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রচলিত পূজামণ্ডপের সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে মানুষের মনের ভেতরের নানা প্রবৃত্তি, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধির বিষয়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছে আয়োজকেরা। সেই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ছয় রিপুকে কেন্দ্র করে ‘রিপু রজনী’


মানুষের মনের ভেতরে থাকা ছয়টি রিপু—লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ। মানুষের অন্তরের অন্ধকার, বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং নিজের ভুল উপলব্ধি করে শুদ্ধতার পথে ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সাধারণত দুর্গাপূজার মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পৌরাণিক কাহিনি ও বিভিন্ন শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রাধান্য পায়। তবে ‘রিপু রজনী’তে ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টিকে যুক্ত করা হয়েছে। মানুষের ভেতরে থাকা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো কীভাবে আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, সেই ভাবনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।

দুর্গোৎসবের ৫৮তম বছরে ব্যতিক্রমী আয়োজন


আয়োজকেরা জানান, নিজেদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষে এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপের আয়োজন করেছেন তাঁরা। প্রচলিত ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির ভাবনা যুক্ত করে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।

এখানে দেবী দুর্গার আগমনকে শুধু অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে থাকা লোভ, ক্রোধ, হিংসা ও অহংকারের মতো প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে শুভবোধ ও সংযমের চর্চা করার বার্তাও রয়েছে এই ভাবনায়।

আয়োজকদের মতে, ‘রিপু রজনী’ কেবল প্রতিমা দর্শনের আয়োজন নয়; এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অন্ধকার চিনে নেওয়ার আহ্বান। ষড়্‌রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আত্মোপলব্ধি ও শুভবোধের পথে এগিয়ে যাওয়াই এই মণ্ডপের মূল বার্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় মণ্ডপ


ব্যতিক্রমী থিম ও সাজসজ্জার কারণে ‘রিপু রজনী’র ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মণ্ডপটি দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয় যুক্ত হওয়ায় আয়োজনটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

পূজা চেরীর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উপস্থিতিও মণ্ডপটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাঁর পরিদর্শনের ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আয়োজনটি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে। দুর্গাপূজার আনন্দ, শিল্পের নান্দনিকতা এবং মানুষের আত্মশুদ্ধির বার্তা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে ‘রিপু রজনী’। পূজা চেরীর প্রশংসা সেই আয়োজনের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

ফল নিয়ে বিতর্ক ঠেকাতে অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তির ছোঁয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ফল নিয়ে বিতর্ক ঠেকাতে অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তির ছোঁয়া

দেশের অ্যাথলেটিকসে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ ও অসন্তোষ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ট্র্যাকের স্প্রিন্ট ইভেন্টে কে আগে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একাধিকবার। গত আসরে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফলাফল ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।

আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ফটোফিনিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে আয়োজক সংস্থা। প্রতিযোগিতায় ফলাফল নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শকদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনাও তাদের লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সুযোগ কমবে।

ফটোফিনিশে নির্ভুল ফলাফলের উদ্যোগ
গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তিনি জানান, ফটোফিনিশের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন সাতজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য থাকবে তিন থেকে চারটি ডিসপ্লে বোর্ড।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এতে ফলাফল জানতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে ফেডারেশন।

অ্যাথলেটিকসে স্প্রিন্টের মতো ইভেন্টে প্রতিযোগীদের মধ্যে ব্যবধান অনেক সময় খুবই সামান্য থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হাতে সময় ধরে বা খালি চোখে ফলাফল নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফটোফিনিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিনিশিং লাইনে প্রতিযোগীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ফলে ফলাফল নিয়ে আপত্তি উঠলে তা যাচাই করার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।

তিন দিনে ৪০ ইভেন্ট, পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার
তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে ভেন্যু ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। ফুটবল মাঠের ক্ষতি এড়াতে থ্রো ইভেন্টগুলো আয়োজন করা হবে আর্মি স্টেডিয়ামে।

প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের জন্যও রাখা হয়েছে আর্থিক পুরস্কার। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা যথাক্রমে ছয় হাজার, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা পাবেন। আর প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়তে পারলে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটের জন্য রয়েছে ২০ হাজার টাকার পুরস্কার। আয়োজকদের আশা, এই পুরস্কার অ্যাথলেটদের ভালো পারফরম্যান্সে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং দেশের অ্যাথলেটিকসের মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

পৃষ্ঠপোষকতায় একাধিক প্রতিষ্ঠান
প্রতিযোগিতার মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের অ্যাথলেটিকসের বিকাশে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর আহ্বান, ছোট পরিসরে হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশের অ্যাথলেটিকসের পাশে থাকেন।

দেশের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার তুলনায় অ্যাথলেটিকসে পৃষ্ঠপোষকতা ও বাণিজ্যিক আগ্রহ বাড়ানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির উন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ ও পরিকল্পিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সামার অ্যাথলেটিকস
পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা থাকলেও প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যয় নিয়ে চাপ রয়েছে ফেডারেশনের ওপর। সরকারি ছুটির কারণে কিছু অর্থসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় আপাতত নিজেদের অর্থ দিয়েই ব্যয় সামলাচ্ছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস আয়োজন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় থাকলেও আয়োজনের পরিসর বাড়িয়ে বাড়তি খরচ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিযোগিতার আয়োজন, অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং অ্যাথলেটিকসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা ফেডারেশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তান এসএ গেমসেও পদকের লক্ষ্য
জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি সামনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়েও পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন। পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসকে সামনে রেখে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১০টি পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই লক্ষ্য পূরণে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি, নিয়মিত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শুধু প্রতিযোগিতার আগে অল্প সময়ের প্রস্তুতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পিত পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছে ফেডারেশন।

এ জন্য অ্যাথলেটিকসের জন্য আলাদা ভেন্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের উপযোগী স্থায়ী আবাসন ক্যাম্পের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অ্যাথলেটদের নিয়মিত অনুশীলন এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

হারানো জনপ্রিয়তা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ
অ্যাথলেটিকসকে বলা হয় সব খেলার জননী। আশির ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলাটির জনপ্রিয়তা এবং দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে অর্জন ছিল উল্লেখযোগ্য। সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ এবং ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা এখনো আলোচনায় রয়েছে।

এবার জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। তবে শুধু ফটোফিনিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই দেশের অ্যাথলেটিকসের সব সমস্যা দূর হবে না। এর পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত ভেন্যু, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

প্রযুক্তির এই উদ্যোগ ফলাফল নিয়ে বিতর্ক কমাতে কতটা কার্যকর হয়, তা দেখা যাবে প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে। আর দীর্ঘমেয়াদে অ্যাথলেটিকসের হারানো জনপ্রিয়তা ও সাফল্য ফিরিয়ে আনতে হলে এই আয়োজনের পাশাপাশি প্রয়োজন ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন।

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ

ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এবার বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে। তবে প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্নের পাশাপাশি আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়—ভারতের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখা। আগের ম্যাচে ভারতের গতি সামলাতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট একই গতিতে খেলতে পেরেছিল। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিল তারা। সেই আক্রমণগুলো থামাতে না পারাই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ।

তাই ফাইনালের প্রস্তুতিতে কোচের মূল পরিকল্পনা, ভারতকে সহজে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ না দেওয়া। বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসা, আক্রমণে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও লড়াইয়ের আশা ছাড়েননি আলোনসো। তাঁর বিশ্বাস, আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলতে পারলে ভারতকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে সে জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
হ্যান্ডবলে একটি ছোট ভুলও দ্রুত বড় ব্যবধানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা আক্রমণে ভুল পাস দেওয়া বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু আক্রমণ গড়ে তোলাই নয়, বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের রক্ষণ সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোচের মতে, ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমাতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে একাগ্রতা হারালে আগের ম্যাচের মতো ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন কোচ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ভুল শুধরে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চান খেলোয়াড়েরা
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নিজেদের ভুল সংশোধনের প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে। দলের সদস্য মাসুদা আক্তার মনে করেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’

তাঁর বক্তব্যে জয়ের নিশ্চয়তার চেয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট। আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। গোলের ব্যবধান কমিয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেখানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে আস্থা
দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই সমন্বয় ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে কার্যকর হতে হবে বাংলাদেশকে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে। তাই বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণে ধৈর্য দেখানো এবং ভুল কমানোর বিষয়গুলোই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিশোধের স্বপ্ন, বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা
লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ফাইনালে সেই ব্যবধানের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে হবে দলকে। তবে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই দ্বিমুখী—ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকানো এবং নিজেদের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু আগের হারের জবাব দেওয়া নয়, নিজেদের খেলায় উন্নতির প্রমাণও রাখা। ৬০ মিনিটের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর নারী হ্যান্ডবল দলের সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/টিসি