খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার; নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার; নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্ব

বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলের সম্পদের সুরক্ষা এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমধারা আরও গতিশীল রাখতেও হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সমুদ্র সচেতনতা বাড়াতে ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশকে বেগবান করতে সমুদ্রভিত্তিক কার্যক্রমসমূহের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’। বিশ্বব্যাপী হাইড্রোগ্রাফি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস’। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ-বানৌজা ঢাকা’র মাল্টিপারপাস হলে দিবসটিকে ঘিরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মত দেওয়া হয় সেমিনার। এ সময় বক্তারা সমুদ্র সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সমুদ্র ও নৌপথের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করার বার্তা দেন। তিনি বলেন, উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’ বিশেষ অতিথি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্তের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। সেমিনারে সমুদ্র বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ, হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষণা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হয় সুনিপুণভাবে।

সমুদ্রে দেশি-বিদেশি জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, মেরিন ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্ত সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ সমুদ্র অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে
সেমিনারে প্রধান অতিথি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা সঠিকভাবে বুঝে পাওয়া গেলেও বিগত সরকারের উদাসীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ সম্ভব হয়নি।’ এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় কূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে।’ সড়ক, নৌ ও রেল মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে থাকা এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তজার্তিক আদালতে আমরা বিস্তীর্ণ সমুদ্র পেলাম, অঞ্চল পেলাম। সীমানা নিয়ে আমাদের প্রতিযোগী রাষ্ট্র যারা ছিল তারাও মেনে নিল। ভারত, বার্মা সেখানে অনুসন্ধান করেছে, প্রাকৃতিক সম্পদ পেয়েছে এবং তা উত্তোলনও করেছে। কিন্তু আমাদের সরকারের (বিগত সরকার) সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই সুফল আমরা পাইনি।’

সমুদ্রের ডেটা শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘হাইড্রোগ্রাফি সংক্রান্ত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং তথ্য-উপাত্তের প্রায়োগিক ব্যবহারের মাধ্যমে সমুদ্র সম্পদের নিরাপদ, টেকসই ও কার্যকরী ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্ম, সুরক্ষিত কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতার মাধ্যমে সমুদ্রের ডেটা শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমুদ্র বিজ্ঞান কেন্দ্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য থেকে অত্যাধুনিক সমুদ্র জরিপ ও গবেষণা জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, সমুদ্র গবেষণা ও সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) এর ৭০তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সাল থেকে দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নটিক্যাল চার্ট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কাগজে মুদ্রণের পাশাপাশি এসব চার্ট বর্তমানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচলে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (এনআইওএইচসি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। গত মে ২০২৬ মাসে কমিশনটির ২৫তম সম্মেলন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

ডালাসে ম্যাচের শুরুতেই আধিপত্য বিস্তার করে এগিয়ে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির এক নান্দনিক ও চোখধাঁধানো গোলে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে ১–০ ব্যবধানে লিড নিলো আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের চেনা ছন্দ ও নিখুঁত পাসের সমন্বয়ে গড়া এই গোলটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।

এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।

দলের এই দারুণ মুহূর্তটি গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক মারিও কেম্পেস।

তবে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেন মেসি। ৭ম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি শটটি গোলবারের ডানদিকে দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

সন্ধানী বার্তা/এসআর/এএএন

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই চূড়ান্ত ফর্মে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই আজ গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হওয়ার দারুণ এক সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে। তবে মেসি যেন প্রমাণ করলেন, ফুটবল জাদুকর হলেও তিনিও মানুষ। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে স্পটকিক কাজে লাগাতে না পারলেও ৩৮ মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান তিনি, করেন ঐতিহাসিক গোল, মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক।

এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে ইনজুরি টাইমে আরও এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএমটেন। তাঁর জোড়া গোলেই অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই অস্ট্রিয়ার ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। শুরুতে রেফারি বাঁশি না বাজালেও মার্তিনেজকে চোটে কাতরাতে দেখে খেলা থামান রেফারি।

এরপর ভিএআর চেকের সিদ্ধান্ত হয়। ভিএআরে চেক করে দেখার পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। আর স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। তবে দলকে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

স্পটকিক হালকা চালে শট নিলেও তা লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নেওয়া শট চলে যায় গোলপোস্টের ডান দিকে বেশ বাইরে দিয়েই। পেনাল্টি মিস করে লজ্জার এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ফিফার এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে এখন সবার উপরে আর্জেন্টাইন জাদুকরের নাম।

বিশ্বকাপে এতদিন ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে অনাকাঙ্খিত রেকর্ডটি রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড, ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ড এবং এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেন। প্রথম দুবার গোলকিপার তাঁর শট ঠেকান। এবার মেরেছেন পোস্টের বাইরে।

এদিকে মেসির পেনাল্টি মিসের পর গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াও জমাট রক্ষণে আলবিসেলেস্তেদের পরাস্ত করতে থাকে। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি অস্ট্রিয়ানরাও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল, তবে সেসব কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।

এদিকে গোলের লক্ষ্যে মরিয়া আর্জেন্টিনা ১৯ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পায়। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণ এক পাসে মেসিকে বল এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে শট নেওয়ার সুযোগও ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। তবে শেষ পর্যন্ত নিতে না পারায় গোলের সুযোগ বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটেও মেসি ও এঞ্জো ফার্নান্দেজের রসায়নে আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর আর তা হয়নি।

এদিকে একের পর এক সুযোগ হারানোর পর অবশেষে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বাঁ দিকের উইং থেকে দারুণ এক পাসে বল ডি বক্সে এগিয়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। মাঝে ফাকুন্দো মেদিনার শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি না নিয়ে ডামি ক্রসে বল মেসির পায়ে দেন। আর দারুণ এক শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সেই সঙ্গে ক্লোসাকে তপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, ১৭টি গোলের মালিক। মেসির এই গোলেই এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর ম্যাচের ৫৭ মিনিটে শুরুর একাদশে পরিবর্তন আনেন লিওনেল স্কালোনি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে উঠিয়ে মাঠে নামান নিকোলাস ওতামেন্দিকে। এরপর ৬৪ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। লাওতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেজকে। অস্ট্রিয়াও শুরুর একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে।

এদিকে দুই দলই একাদশে পরিবর্তন আনলেও দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউ। পানি পান বিরতির পর ৭৪ মিনিটে ম্যাচে প্রথম কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বলে গোলের সুযোগ এসেছিল নিকো গঞ্জালেজের সামনে। তবে তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৮১ মিনিটে গোলের সুযোগ এসেছিল অস্ট্রিয়ার। তবে মেদিনা কর্ণারের বিনিময়ে তা প্রতিরোধ করেন। ৮২ মিনিটে ডি পল এবং মেদিনার বদলে লিয়ান্দ্রো পারাদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে মাঠে নামান স্কালোনি।

দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ যেন কিছুটা ঝিমিয়েই পড়েছিল। আর ঝিমিয়ে পড়া সেই ম্যাচ শেষের একেবারে আগমূহুর্তে ফের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন মেসি। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে তখন অস্ট্রিয়া বক্সের ভেতরে ছোটখাটো একটা ঝড়ই বয়ে গেল তখন। সেই ঝড়ে শেষ পর্যন্ত মেসির মুখেই ফুটল শেষ হাসি। প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লাগল। ফিরতি বলটা পেলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর শট ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। আবারও ফিরতি বলে মেসির শট এবং গোল করেন এলএমটেন। তাঁর এই গোলেই দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন শুধুই মেসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন শুধুই মেসির

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। দু’জনেরই বিশ্বকাপে গোল ১৬টি করে। আর একটি গোল করতে পারলেই এককভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন তিনি।

ম্যাচের ৯ম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিলেন। কিন্তু পোস্টের ডান পাশে মেরে দিয়ে সেই রেকর্ড গড়া থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি। এরপর আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। নিশ্চিত গোল মিস হলো। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক তাকে গোল করতে দিলেন না।

অবশেষে ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করলেন তিনি। আলমাদার কাছ থেকে বল পেয়ে মেদিনা সেটা এগিয়ে দেন মেসির কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই বাঁ-পায়ের বুলেট গতির শট। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক জায়গা থেকে নড়ারই সুযোগ পেলেন না। গোল হয়ে গেলো। বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে লিওনেল মেসির গোল এখন ১৭টি। এককভাবে তিনিই এখন উঠে গেলেন শীর্ষে।

আর্জেন্টিনাও এগিয়ে গেলো ১-০ গোলে। এ বিশ্বকাপে মেসির গোল হলো ৪টি।

কালের আলো/এম/এএইচ